হোলি কেন পালন করা হয়? জেনে নিন হোলির পৌরাণিক কাহিনী

হোলি কেন পালন করা হয়? জেনে নিন হোলির পৌরাণিক কাহিনী

ভারতবর্ষ এমন একটা দেশ যেখানে প্রতিটি মানুষই হোলির এই উৎসবটির জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে। ফাল্গুন পূর্ণিমার দিনে সাধারণত বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে এই দিনটি সমগ্র দেশে উৎযাপন করা হয়।মনে করা হয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয় হয়।এই অনুষ্ঠানের জন্য সবাই রং এবং মিষ্টি কেনেন।কিন্তু এর পেছনেও যে আছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস এবং গল্প, সেই বিষয় অনেকেই জানেননা। আজ আমরা দেখে নেব এই উৎসবের ভেতরের কথা।

হোলির উত্‍পত্তির পৌরাণিক গল্প

পৌরাণিক যুগে একজন রাজা ছিলেন যার নাম ছিল রাজা হিরণ্যকশিপু। তার ভাইকে হত্যা করেছিলেন ভগবান বিষ্ণু। প্রতিশোধ নিতে তিনি অনেক বছর তপস্যা করেছিলেন। অনেকদিন তপস্যার পর তিনি বড় পেলেন। কিন্তু এরপর তিনি নিজের ভগবান মনে করতে শুরু করলেন। সেই রাজার পুত্র ছিল প্রলহাদ যিনি ছিলেন ভগবান বিশুর উপাসক। প্রলহাদ তার বাবার কোথায় কণ দিত না এবং ভগবান বিষ্ণুর উপসনা করতো। তার পুত্র বিষ্ণুর উপাসনা ত্যাগ না করায় রাজা তাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন।তিনি তার বোন হোলিকা কে বললেন যে সে যেন তার ছেলেকে কোলে নিয়ে আগুনের ওপর বসে কারন হোলিকাকে আগুন স্পর্শ করতে পারতো না। তারা চাইছিল প্রলহাদ কে পুড়িয়ে দিতে কিন্তু তাদের এই ইচ্ছে পূরণ হয় নি কারণ সম্পূর্ণ সময় প্রলহাদ ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ করতে থাকায় প্রলহাদকে আগুন স্পর্শ করতে পারেনি। কিন্তু হোলিকা সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই কারণে হোলির আগের দিন অশুভ শক্তির বিনাশের সূচক হিসেবে হোলিকা দহন করা হয়।

হোলির সাথে রঙের সম্পর্ক কি?

মানা হয় এই হোলির দিনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রং খেলতেন এবং পরবর্তীকালে সেটাই প্রচলন হয়। তিনি বৃন্দাবন এবং গোকুলে সবার সাথে মিলেমিশে রং খেলতেন এবং সবার মধ্যে এটাকে উৎসবে পরিণত করেছিলেন। সেই কারণেই আজ পর্যন্ত বৃন্দাবনের হোলি খেলার কোনো তুলনা হয় না।

আবার ভারতের নানান জায়গায় এই দিনটিকে শীতের বিদায়বেলায় এবং গ্রীষ্মের আগমনের দিন হিসেবে উদযাপিত করা হয়। কৃষকরা তাদের ক্ষেত আবার শীতের অবসানে শস্যে ভরে যাবে এই আনন্দেই এই দিনটা উদযাপন করে। এই দিনটিকে কাম মহোৎসব এবং বসন্ত মহোৎসব এর নামেও বলা হয়।

হোলির প্রাচীনত্ব

হোলি একটি প্রাচীন হিন্দু উৎসব। খ্রীষ্ট জন্মেরও অনেক বছর আগে ভারতবর্ষে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।এই জন্যই যামিনী পূর্ণমিমাংসা সূত্রের মতন পৌরাণিক গ্রন্থ গুলিতে এর কথা বলা আছে।এমনকি পৌরাণিক ভারতবর্ষের মন্দিরগুলোতে এই দিনটিকে নিয়ে নানান খোদাই বা নক্সা আঁকা আছে।এমন দেখানো হয়েছে যে ছেলে মেয়ে রা পিচকিরি হতে এই উৎসব পালন করছে।অনেক পৌরাণিক চিত্রকলা যেমন আহমেদনগর চিত্রকলায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

হোলির রং

আগে ফুলের পাপরি এর রং দিয়ে এই উৎসবের জন্য রং তৈরি করা হত যার টবকের ওপর কোনো প্রভাব পরতো না কিন্তু দিনদিন এই রং বদলাতে থাকে এখন সাধারণত কেমিকাল মিশিয়ে তৈরি করা রং দিয়ে হোলি খেলা হয় যা ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকারক।

হোলির উৎসব

প্রথম দিন – ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার দিন রঙের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয় এবং সাধারণত পরিবারের সর্বজ্যেষ্ট সদস্য পরিবারের সবাইকে রং ছুইয়ে দাওয়ার মধ্যে দিয়ে এই উৎসব শুরু করেন।

আরও পড়ুন :- হোলিতে নোটে রং লেগে গেলে নোট বদলে নিন এইভাবে

দ্বিতীয় দিন – এই দিনে হোলিকা দহন করে অশুভ এর ওপর শুভ শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়। এই দিনে মায়েরা ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে হোলিকার চারদিকে ঘড়ির কাটা অনুসারে পাঁচ বার ঘোরেন এবং অগ্নি দেবতার আশীর্বাদ চান।

তৃতীয় দিন – হোলির শেষ এবং তৃতীয় দিনকে বলে বলে পর্ব। এই দিনে সবাই একে অপরের ওপর আবির এবং জল রং দেন এবং রাধা কৃষ্ণের হোলি খেলার কথা মনে করেন।এই উৎসব পালনের মধ্য দিয়েই তারা রাধা কৃষ্ণের উপাসনা করেন।