প্রদীপ জ্বালানোর আগে জেনে নিন হিন্দু ধর্মে দীপ জ্বালানোর কারণ

করোনা মোকাবিলায় দেশ একসাথে লড়ছে তা সারা বিশ্বকে জানান দিতে আজ রাত নটায় নয় মিনিটের জন্য সারা দেশবাসীকে ঘরের আলো নিভিয়ে মোমবাতি,প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগেও নমো সারা দেশের জরুরী পরিষেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উৎসাহ দিতে ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে ভারতবাসীকে থালা,বাটি বাজানোর আহ্বান জানান। ওই দিন সারা দেশ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা তারপরেই সারা দেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে।

তবে এই দীপাবলির কেন্দ্রবিন্দু দীপ বা প্রদীপ। কিন্তু এই প্রদীপের ব্যবহারের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। গীতায় পূজার সামগ্রীর মধ্যে ফুল-বেলপাতার উল্লেখ রয়েছে,কিন্তু প্রদীপের উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি রামায়ন, মহাভারতের বিভিন্ন গল্পের উপর ভিত্তি করে যেসব নাটক টেলিভিশনে দেখানো হয় সেখানেও মূনি-ঋষিদের যজ্ঞ করতে দেখা গেলেও প্রদীপ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তাহলে একথা স্পষ্ট যে প্রথমদিকে পুজোয় এই প্রদীপ জ্বালানো হত না। তাহলে কিভাবে এই প্রদীপ হিন্দু পুজোর অঙ্গ হয়ে উঠল তা জানতে হলে, জানতে হবে ইতিহাস।

বর্তমানে পুজোর সময় প্রদীপ জ্বালাতে দেখে যায়। পঞ্চপ্রদীপ বা ১০৮ টি প্রদীপ দিয়ে ঈশ্বরের কাছে আরতি নিবেদন করতে দেখা যায়। ধূপের পাশাপাশি প্রদীপ না থাকলে হিন্দু পুজো সম্পন্ন হয় না। কিন্তু আগেকার দিনে প্রদীপের ব্যবহার করতেন না মুনি ঋষিরা।

কারণ সেইসময় ঈশ্বর ছিলেন নিরাকার। তাই প্রদীপের জায়গায় হত মাটির হোমকুণ্ড। হোমকুণ্ডে কাঠ জ্বালিয়ে ঈশ্বরের প্রতিভূ হিসেবে পুজো করা হত। তাঁর সাথে উচ্চারণ করা হত বৈদিক মন্ত্র।

এরপর রচিত হল পুরান। তখন নিরাকার ব্রক্ষ্ম হয়ে উঠলেন সাকার। তারপর পুজোর সামগ্রীতেও বদল ঘটল। ফুল,বেলপাতা,নৈবেদ্য,বস্ত্র, ধূপ ও দীপ সহযোগে ঈশ্বরের উদ্দ্যেশ্যে পুজো দেওয়া শুরু হল। অবশ্য এই দীপ জ্বালানোর প্রধান উদ্দ্যেশ্য ছিল চারদিক আলোকিত করে তোলা। ধীরে ধীরে গ্রামের দিকে গাছ, পাথর, নদী পাহাড়, সাপের উদ্দ্যেশ্যে পুজো করার সময় চারদিক আলোকিত করে তুলতে এই সার্বজনীন প্রদীপের ব্যবহার শুরু হল।

আরও পড়ুন :- হিন্দু বিয়েতে বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রের মা থাকতে পারেন না কেন ? 

সেই সেইসময় পথচারীদের ঈশ্বর মানা হত। তাই পথচারীরা যাতে গৃহস্থের বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারেন সেই জন্য সন্ধ্যে নামলেই বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হত। কে কেমন প্রদীপ জ্বালাবেন তা নির্ভর করতো অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর। নিম্নবিত্ত লোকেরা ব্যবহার করতেন মাটির প্রদীপ। আবার উচ্চবিত্ত লোকেরা পিতলের প্রদীপ জ্বালাতেন।

এরপর বাড়ির বউরা তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালাতে শুরু করেন। তখনও দেশলাই এর আবিষ্কার হয়নি তাই গৃহস্থরা বাড়ির কুলুঙ্গিতে আগুন জ্বালিয়ে রাখতেন যাতে তা দিয়ে রান্নার কাজ হয়।

আরও পড়ুন :- হিন্দু ধর্মে দেহ পুড়িয়ে অন্তিম সংস্কার করা হয় কেন ? 

এমনকি রামায়ণে রাম যখন রাবণকে বধ করে ফেরেন তখন সারা অযোধ্যাবাসী রামকে প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বাগত জানান। সারা অযোধ্যা নগরী সেই দিন আলোর অলঙ্কারে সেজে ওঠেন। আজও অযোধ্যা দীপাবলির দিন আলোয় সাজান নিজেদের বাড়ি। তবে শুধুমাত্র অযোধ্যা নয় সারা ভারত দীপাবলির দিন আলোয় সেজে ওঠেন। অনেকে মনে করেই এই দীপাবলি থেকেই শুরু হয়েছে দীপের উৎসব।