পশ্চিমবঙ্গ “বাংলা” হল কেন? ভারতের আর কোন কোন রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়েছে

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমাদের রাজ্য “পশ্চিমবঙ্গ”  নামে পরিচিত। সাধারণত বাংলাদেশ এবং বর্তমানের পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে ছিল পূর্বে “অবিভক্ত বঙ্গ”। পরে যখন ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন যখন বাংলা ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন থেকেই অধুনা বাংলাদেশ  পূর্ববঙ্গ এবং বর্তমানের আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত। ভৌগলিক দিক দিয়ে আমাদের রাজ্যের অবস্থান বাংলাদেশের পশ্চিম দিকে হওয়ায় এই নাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই নাম নিয়ে  নানা রকম বিতর্ক হয়েছে। নাম পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা যে হয় নি  তা কিন্তু নয়, তবে তা মৌখিক স্তরেই হয়েছে। বর্তমানের নাম নিয়ে নানা রকম  বিতর্কও হয়েছে। আর তাই বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার পূর্বেও নাম পরিবর্তন নিয়ে এক প্রস্তাব রেখেছিল, সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ কে “বাংলা”এবং হিন্দি ও ইংরেজিতে “বেঙ্গল”বলে ডাকা হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে “West Bengal”নামকে ইংরেজিতেও “পশ্চিমবঙ্গ”করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের পক্ষ থেকে কিন্তু সেই প্রস্তাবও কেন্দ্র সরকার খারিজ করে দেয়।  আর তাই এবার আমাদের রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে আন্তরিক চেষ্টায় গত ২৬শে জুলাই বিধানসভায় সর্ব দলের সম্মতিক্রমে আমাদের রাজ্যের নাম “বাংলা”করার প্রস্তাব পাশ করেন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার।এবার যা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভর করছে ।কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহ মন্ত্রক যদি বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রস্তাব মেনে নেয় তাহলে  পশ্চিমবঙ্গ এবার সকল ভাষায়” বাংলা” নামে পরিচিত হবে।

নাম পরিবর্তনের কারণ

ইংরেজীতে ওয়েষ্টবেঙ্গল-এর প্রথম অক্ষর ডব্লিউ থাকায়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা আলোচনাচক্রে রাজ্যের প্রতিনিধির ডাক আসে একেবারে শেষে। ফলে জাতীয় স্তরের সেই আলোচনায় রাজ্যটির প্রতিনিধিরা কার্যত বিশেষ কিছুই বলার সুযোগ পান না, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সভাঘর সে সময় প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়, নয়তো অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে বাংলার প্রতিনিধিদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। ধৈর্য্য হারিয়ে যায় রাজ্যের প্রতিনিধিদেরও।

‘ওয়েস্টবেঙ্গল’ নামের জেরে সমস্যায় পড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকেও। গত ১৬ জুলাই ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আন্তরাজ্য পরিষদের বৈঠকে টানা ছয় ঘণ্টা বসে থাকতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে নাম ডাকার ফলে একদম শেষে বলার সুযোগ পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাও মাত্র বারো মিনিট। এ কারণেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। ঐ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অনেক সমস্যা তুলে ধরার জন্য পাকাপোক্তভাবে গেছিলেন কিন্তু সময়ের কারনে কিছুই বলতে দেওয়া হয়নি।

ভারতের অনেক রাজ্যের নামই সময়ের সাথে পরিবর্তন করা হয়েছে।আজ সেই সব নাম পরিবর্তন হওয়া রাজ্যের নাম নিয়ে একটু বিষদে আমরা জানবো।

Source

 

পূর্ব পাঞ্জাব থেকে পাঞ্জাব

১৯৪৭সালে দেশ ভাগের সময় মুসলিম অধ্যুষিত পাঞ্জাব প্রদেশের অংশ পাকিস্তানকে দেওয়া দেয় যা পশ্চিম পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল এবং ভারতের দিকে রাখা হয় পূর্ব  পাঞ্জাব যা পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর  হওয়ার পর পাঞ্জাব নামে নামকরণ করা হয়।

Source

সংযুক্ত প্রদেশ থেকে উত্তরপ্রদেশ

দেশ স্বাধীনতা পাওয়ার সময় ১৯৪৭সালে রাজা শাসিত প্রদেশ  রামপুর, বেনারস এবং তেহারি গারওয়াল  সংযুক্ত প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ২৫ শে জানুয়ারি এইসব সংযুক্ত প্রদেশ “উত্তরপ্রদেশ” নামে নামকরণ করা হয়।

Source

হায়দারাবাদ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ

১৫৯১ সালে চারমিনার মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল যা হায়দারাবাদের অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ।এই চারমিনার চারটি ৫৬মিটার উঁচু মিনার দ্বারা গঠিত।

হায়দারাবাদ রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত।পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন প্রস্তাব অনুযায়ী অন্ধ্র রাজ্যের সাথে হায়দারাবাদ যুক্ত করে নতুন নাম দেওয়া হয় অন্ধ্রপ্রদেশ।

আরও পড়ুন : জিডিপি হারে দেশের ১৫ ধনী রাজ্য

Source

ট্রাভঙ্কর কোচিন থেকে কেরালা

১৯৪৯ সালের পয়লা জুলাই স্থাপিত হওয়া ট্রাভঙ্কর কোচিন রাজ্য যা পূর্বে ইউনাইটেড স্টেট অফ ট্রাভঙ্কর এবং কোচিন  নামে পরিচিত ছিল।পরবর্তীতে পয়লা নভেম্বর ১৯৫৬ সালে পূর্বের মাদ্রাস রাজ্যের মালাবার জেলার সাথে যুক্ত করে নতুন নাম দেওয়া হয় কেরালা।

Source

মধ্য ভারত থেকে মধ্যপ্রদেশ

১৯৪৮ সালে ২৮শে মে  ২৫টি রাজা শাসিত প্রদেশ দিয়ে গঠিত মধ্য ভারত মধ্য প্রদেশ নামে নামকরণ করা হয় পয়লা নভেম্বর ১৯৫৬ সালে।

আরও পড়ুন : ভারতের সমস্ত রাজ্যের নামের অর্থ এবং নামকরণের কারণ

Source

মাদ্রাস রাজ্য থেকে তামিলনাড়ু রাজ্য

১৯৪৭সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি মাদ্রাজ  প্রভিন্স  নামে পরিচিত হয়।১৯৬৯সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এই রাজ্যের নাম তামিলনাড়ু নামে নামাঙ্কিত করেনআন্নাদুরাই সরকার।

Source

উত্তরাঞ্চল থেকে উত্তরাখন্ড

২০০৬সালে  আগস্ট মাসে উত্তরাঞ্চল রাজ্য বাসিন্দাদের বহুদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের রাজ্য উত্তরাখণ্ড করার সম্মতি জানাই  তৎকালীন কেন্দ্র সরকার।পরবর্তীতে বিল পাশ করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম এই রাজ্যের নতুন নাম উত্তরাখণ্ড  স্বাক্ষরিত করেন।