করোনা হলেও অনেকের মধ্যে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না কেন

করোনা ভাইরাসের সবথেকে বেশি ভয়ঙ্কর দিক হলো এটাই যে অনেক সংক্রমিতদের মধ্যে সংক্রমনের কোন উপসর্গই দেখা যাচ্ছে না। আর সংক্রমনের উপসর্গ দেখা না দিলে কেউ জানতেই পারে না যে সে নিজে সংক্রমিত কিনা। সেক্ষেত্রে অজ্ঞাতসারে একজন মানুষ বহু মানুষকে সংক্রমিত করেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কয়েকজন মানুষের মধ্যে দেখা দেয়, আবার অনেক মানুষের মধ্যে দেখা  যায় না কেন?

করোনা হলেও উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে উপসর্গ আর উপসর্গহীনতার এই পার্থক্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরই নির্ভরশীল। নিউইয়র্কে এ একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন সম্প্রতি। সেই গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শরীরে মেমোরি টি সেল নামের একটি বিশেষ কোষের উপস্থিতির কারণে কিছু মানুষ করোনার থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। তিনটি পৃথক দলের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। প্রথম দলে ৩৬ জন মানুষ ছিলেন। এরা সকলেই করোনার সংস্পর্শে এসেছেন এবং এদের শরীরে মেমোরি টি সেল আছে। দ্বিতীয় দলে ২৩জন সদস্য রয়েছেন। এই ২৩জন ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসে সংক্রমিত হন। এদের শরীরে ও মেমোরি টি সেল রয়েছে। তৃতীয় দলে ৩৭ জন সদস্য রয়েছেন। এরা কখনো প্যাথোজেনের সংস্পর্শে আসেন নি।

আরও পড়ুন :- পুরুষ না মহিলা, করোনায় কাদের মৃত্যুর হার বেশি ও কেন

উপরিউক্ত এই তিন দলের মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করার পর দেখা গেল যারা সার্সে সংক্রমিত হয়েছেন তাদের শরীরে করোনাভাইরাস এর বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অল্প হলেও তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

শচীনের ৩০ টি রেকর্ড যেটা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি

গবেষকদের মতামত-করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এইভাবে বাড়তে থাকলে একটা সময় বহু মানুষের শরীরেই তৈরি হবে অ্যান্টি বডি। যার ফলে করোনা সংক্রমনের এই যে শৃঙ্খলা এটা ভেঙে যাবে। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের মধ্যে আপনাআপনি হার্ড ইমিউনিটি সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন :- জ্বর, সর্দি, গলব্যথা নয়, করোনা সংক্রমণে দেখা যাচ্ছে নতুন কয়েকটি লক্ষণ

সোশ্যাল মিডিয়ার একটি  অনুষ্ঠানে হু এর একজন গবেষক বলেন-“হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে এখনো অনেকখানি সময় লাগবে।কারণ হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে গেলে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের প্রতিরোধক উৎপন্ন হতে হবে।তখনই আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কে আটকাতে পারব। কিন্তু এর চাইতে টিকা আবিষ্কার করা অনেক বেশি সহজ।যাতে বেশি মানুষ অসুস্থ না হয় ,আর বেশি মানুষের মৃত্যু না হয়। কারণ প্রাকৃতিক উপায়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে গেলে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে অনেক মানুষের সংক্রমণ হবে। আর অনেক মানুষ দুর্ভাগ্যবশত মারা যাবেন।”