পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হটাত্‍ বাড়ছে কেন, জানিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব

বিশ্বের অন্যান্য দেশের পর এবার ভারতেও পড়েছে কোরোনা ভাইরাস থাবা। ইতিমধ্যেই ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে মহারাষ্ট্র প্রথমে থাকলেও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেও লাফিয়ে বাড়ছে সংখ্যা। গত রবিবার এর পর থেকে এই সংখ্যা বৃদ্ধির হার হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন এই মারণ ভাইরাসে। এটিই রাজ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। গত ৯৬ ঘণ্টার হিসেব যদি দেখা যায় তবে বাংলায় আক্রান্ত হন ১৭৬ জন। এর আগে এরকম বৃদ্ধি ঘটেনি রাজ্যে তবে হঠাৎ এই আক্রান্তদের সংখ্যার বৃদ্ধির পেছনে কারণ কি?

গত দিনগুলিতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনেকটাই কম। কিন্তু বর্তমানে যে চিত্রটি উঠে আসছে তা রীতিমত আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব রাজিব সিনহাকে এই প্রশ্নটি করা হয়। এর উত্তরে তিনি বলেন, আগের থেকে টেস্টের সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে, এবং সেই জন্যই আগের থেকে বেশী কোরোনা পজেটিভ রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যান্য রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে টেস্টের সংখ্যা কম হচ্ছে, এরকম অভিযোগ বার বারই উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।বিরোধী দল ছাড়াও চিকিৎসকদের তরফ থেকেও এরকম অভিযোগ উঠেছে।অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত পরিমাণ টেস্ট কিট দাওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বিজিআই কিট এবং ব়্যাপিড টেস্ট কিট যেগুলো পাঠানো হয়েছে সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর আগে থেকে টেস্ট কিট অর্ডার দিয়ে রাখায় কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দাওয়া গেছে, এমন কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন :- আজ থেকে দেশজুড়ে খুলছে দোকানপাট, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

মুখ্যসচিব বললেন, টেস্টের সংখ্যা বাড়ালেই আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়বে না বরং শরীরে উপসর্গ থাকলে কেবল তখনই করানো হবে টেস্ট। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যে চিত্রটি সামনে উঠে আসছে তার অর্থ এই যে টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথেই লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তদের সংখ্যা।অবশ্য এর ফলে তাদের চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে।

-no-covid-19-outbreak-in-10-districts-of-bengal

আরও পড়ুন :- পশ্চিমবঙ্গের এই ১০ জেলাকে ছুঁতে পারেনি করোনা

মুখ্যসচিব জানান যে গত ২৪ ঘণ্টায় টেস্ট হয়েছে ৯৫৩ জনের। রাজ্য সরকারের রিপোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে গত রবিবার পর্যন্ত বাংলায় ৫০৪৫ জনের টেস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে লক ডাউনের দিন থেকে ধরা হলে ২৫ দিনে ( ১৯ এপ্রিল রবিবার পর্যন্ত) ৫০৪৫ জনের টেস্ট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গড়ে প্রতিদিন ২০১ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে বলে ধরা যায়। কিন্তু রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টায় বাংলায় এক লাফে টেস্টের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

মুখ্য সচিবের কথা অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত বাংলায় টেস্টের সংখ্যা ৭৯৯০। অর্থাৎ আগে যা গড়ে ২০১ টি টেস্ট ছিল এখন তা গড়ে ৭৩৬। সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী রবিবার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্তই রাজ্যে ৪২৪ জনের টেস্ট হয়েছে।সেক্ষেত্রে বলাই যায় গত তিন দিনে প্রত্যেকদিন গড়ে ৮৫৭ জনের টেস্ট হয়েছে যা রবিবারের আগের পরিসংখ্যানের ৪ গুণের থেকেও বেশী।

আরও পড়ুন :- সংকটের মাঝেই স্বস্তির খবর, করোনা মুক্ত ভারতের ৪ রাজ্য

মুখ্য সচিব এর কথা অনুযায়ী গত দিনে আক্রান্তদের সংখ্যার যে বৃদ্ধি ঘটেছে তার ৮০% কলকাতার বাসিন্দা। এছাড়া
হাওড়া, হুগলি ও উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দারাও আছে। প্রশাসনের উদ্বেগ সবথেকে বেশী কলকাতাকে নিয়ে। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে শেষ আক্রান্তদের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল ১১ এপ্রিল। আক্রান্তদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন ৪২ বছর থেকে ৬০ বা তার উর্ধ্বে যাদের বয়স, এমন রোগীর সংখ্যা বেশী। শিশুদের আক্রান্তদের সংখ্যা কম।তবে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে রাজ্যে ৯ টি জেলায় কোনো আক্রান্তের হদিশ পাওয়া যায়নি এবং ১১ টি জেলাকে গ্রিন জোন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।