অবশেষে প্রকাশ্যে এল বাংলায় বিজেপির হেরে যাওয়ার আসল কারণ

0

একুশের বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বাংলা দখলের মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বিজেপি। বাংলার মাটিতে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করার লক্ষ্যে বাংলাকে কার্যত “পাখির চোখ” করে ফেলেছিলেন বিজেপি শিবিরের নেতা-কর্মীরা। বঙ্গ বিজেপি শিবিরের নেতারা তো বটেই, বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ কর্তারাও ভোটের প্রচারে বারংবার বাংলায় এসেছেন, বঙ্গবাসীর মন জয় করতে।

ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাদের বারবার বাংলা সফর করতে দেখা গিয়েছে। তবুও ভোটের ফলাফলে কার্যত হতাশা ছাড়া আর কিছুই পেল না বিজেপি। ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলায় সরকার গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিল গেরুয়া শিবির, তা কার্যত অধরাই থেকে গেল। বিজেপি শিবিরের শীর্ষকর্তারা এমন অনভিপ্রেত ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপি এখন আত্ম-সমীক্ষায় ব্যস্ত। টিম অমিত শাহ বর্তমানে নির্বাচনী হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। একুশের লড়াইয়ে বাংলায় বিজেপির পরাজয়ের সম্ভাব্য কারণগুলিকে একত্রিত করে ১২৮ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট পেশ করেছে টিম অমিত শাহ। সেখানে বাংলায় পরাজয়ের প্রধান প্রধান যে কারণগুলিকে বিজেপি উল্লেখ করেছে তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।

১. দল বদলের বিতর্ক :

একুশের বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে রাজ্যজুড়ে যে দলবদলের মরসুম শুরু হয়েছিল, তাতে গেরুয়া শিবিরে বহু নতুন সদস্যের আগমন হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। এদের নেই কোনও জনসমর্থন। একুশের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর এখন এদের মধ্যে অনেকেই ফের দলবদল করার পরিকল্পনা করছেন।

২. বিজেপি নেতাদের জীবনযাত্রা :

বঙ্গ বিজেপি শিবিরের বহু নেতাকর্মীই বিলাসবহুল জীবনে আসক্ত। তাদের জীবনযাত্রা প্রণালী এবং অতিরিক্ত দম্ভ বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেননি।

Amit Shah, Dilip Ghosh, Narendra Modi BJP

৩. বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব :

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে দলে শুরু হয়েছিল পুরনো এবং নতুনের অন্তর্কলহ। বিজেপি শিবিরের নতুন সদস্য, যারা দল বদল করে এসেছিলেন তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই তুলনায় দলের পুরোনো সদস্যদের প্রভাব অনেকাংশে খর্ব হয়। যা বিজেপি শিবিরের পুরনো সদস্যরা ভালোভাবে নেননি।

৪. আরএসএসের নিষ্ক্রিয়তা :

পুরনো এবং নতুনের এই অন্তর্কলহের কারণেই প্রধানত আরএসএস এই দফায় বিজেপির হয়ে প্রচারে সেই ভাবে অংশগ্রহণ করেনি। নির্বাচন পর্ব জুড়ে আরএসএসের নিষ্ক্রিয়তা কার্যত সংগঠনকে আরও দুর্বল করেছে।

৫. নির্বাচনী তহবিলের অপব্যবহার :

নির্বাচনী তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যে খাতে সেই তহবিলের টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, সেই খাতে খরচ হয়নি। দলের তরফ থেকে সরাসরি প্রার্থীদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রার্থীরা দলীয় তহবিলের টাকা নিজেদের ইচ্ছামত খরচ করেছেন।

৬. জয় শ্রীরাম স্লোগান :

একুশের নির্বাচনে বিজেপির এই ধর্মীয় স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে মানুষের সমর্থন হারিয়েছে গেরুয়া শিবির। জয় শ্রীরাম স্লোগান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় স্লোগানকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেননি।

৭. ভাষার ব্যবধান :

ভাষাগত সমস্যা স্বভাবতই বাংলায় বেশ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে ভিন রাজ্য থেকে যে নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ে আসা হয়েছিল, তাদের কথার মর্ম বাংলার মানুষ বোঝেননি।

Amit Shah with West Bengal BJP Leaders

৮. ক্ষমতায় না এসেই অতিরিক্ত দম্ভ প্রকাশ :

নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা-কর্মীরা কার্যত ধরেই নিয়েছিলেন যে একুশের নির্বাচন শেষে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি। এর ফলে তাদের আচার-আচরণে বারবার অতিরিক্ত দম্ভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যা সাধারণের মনে বিজেপির প্রতি বিরূপতা সৃষ্টি হওয়ার একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে এই সমীক্ষায়।