বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় বাঁধা থাকে কেন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উৎপত্তি হলেও বর্তমানে ভোজনরসিক বাঙালির হেঁশেল এর মধ্যেও ঢুকে পরেছে বিরিয়ানি। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে তাই মাংসের সাথে জমিয়ে চলে বিরিয়ানি খাওয়া। লকডাউন এরমধ্যে দোকান বন্ধ থাকায় ইউটিউব থেকে রন্ধন প্রণালী দেখেও বাঙালি বিরিয়ানি রান্না করেছে। মোগলাই এই খানা আজ বাঙালির হেঁশেলেও হয়ে উঠেছে সমান জনপ্রিয়।

বিরিয়ানির প্রেমীরা রাস্তাঘাটের রেস্তোরাঁয় লালশালু দিয়ে মোড়া বিরিয়ানির হাঁড়ি দেখলে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটে যান। বড় বড়  রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ছোটোখাটো হোটেলে সর্বত্রই লালশালু দিয়ে মোড়া থাকে বিরিয়ানির হাঁড়ি।

লালশালু মোড়া হাঁড়ি দেখলেই বুঝে নিতে অসুবিধা হয়না রেসিপিটি আসলে কী। হোটেলের রান্নার তালিকা দেখার আর প্রয়োজন হয় না, লালশালু জড়ানো হাঁড়িই যথেষ্ট হয় বুঝে নেওয়ার জন্য। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন  এত রং থাকতে বিরিয়ানির হাঁড়ি লালশালু দিয়েই মোড়া থাকে কেন?

বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় থাকে কেন

প্রত্যেকটি রঙেরই এক একটা আলাদা অর্থ থাকে। যেমন সাদা রং শান্তির প্রতীক, গেরুয়া রং ত্যাগের প্রতীক ঠিক সেই রকমই লাল রংয়ের ও একটা আলাদা অর্থ আছে। লাল রং বিদ্রোহের প্রতীক। একই সাথে এই লাল রং  বিপদের অর্থ ও বোঝায়। খেলার মাঠে লাল কার্ড এর অর্থ শেষ আবার প্রেমিক প্রেমিকার ক্ষেত্রে লাল ভালোবাসার রং। এ ছাড়া শৌর্য,আক্রমণ ও বোঝানো হয়ে থাকে লাল রং এর দ্বারা।

বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় জড়ানো থাকে কেন

অনেকেই মজা করে বলে থাকেন ভালোবাসার রং লাল হ‌ওয়ায় বিরিয়ানিতে লাল কাপড় মোড়া থাকে। কারণ বিরিয়ানি ও তো খাদ্যরসিকদের কাছে  ভালোবাসারই এক নাম। তবে বিরিয়ানিতে লাল কাপড়ের ব্যবহার আসলে কোনো অর্থ বোঝানোর জন্য নয় এই ব্যবহার মুঘলদের সৌজন্যে।

বিরিয়ানির হাঁড়ির লাল কাপড়ের ইতিহাস

মুঘলরা পারস্য সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কথিত আছে যে মোগল সম্রাট হুমায়ুন যখন ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন পারস্য সম্রাট এর অভ্যর্থনায় লাল গালিচা পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া খাদ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে চিনা মাটির পাত্র থেকে শুরু করে রুপোলি বাসন সমস্ত কিছু‌ই লাল কাপড়ে ঢাকা থাকতো।পরবর্তীকালে লখনৌ এর নবাবরা এই রীতি অনুসরণ করেন। নবাবদের আমল  থেকেই এই রীতি আজও চলে আসছে। মোঘল ঘরানার খাবার বিরিয়ানির হাঁড়িতে আজ ও তাই লালু শালু মোড়া থাকে।