বায়ুসেনাকে দিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হল কেন? জেনে নিন কারণ

মঙ্গলবার ভোরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের সব থেকে বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বোমা বর্ষণ করে ভারতীয় বিমানবাহিনী। নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে মিরাজ ২০০০ বিমান থেকে লেজার গাইডেড বোমা। সেই বোমার আঘাতেই মাসুদ আজাহারের ২ ভাই ও শালার মৃত্যু হয়েছে।

এদিনের হামলায় মৃত্যু হয়েছে মাসুদ আজাহারের ২ ভাইও। মৃত্যু হয়েছে মাসুদ আজাহারের ভাই তলহা সইদ, ইব্রাহিম আজহারের, মৃত্যু হয়েছে কাশ্মীরে জইশের প্রধান আজহার খান ও উমর নামে এক জঙ্গি। এদের মধ্যে ইব্রাহিম আজাহার কান্দাহার বিমান অপহরণে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

৩০০ জনেরও বেশী জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে, সেই সময় ঘুমাচ্ছিল তারা। বালাকোটের ক্যাম্পে ছিল “৩২৫ জন জঙ্গি এবং ২৫-২৭ জন প্রশিক্ষক”। কুনহার নদীর পাশে এই ক্যাম্পে জলপথেরও প্রশিক্ষণের সুবিধা দেওয়া হত জঙ্গিদের।প্রশিক্ষকরা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী। অস্ত্র, বিস্ফোরক, ঘটনাস্থলের কৌশল, নিরাপত্তাকর্মীদের কনভয়ে হামলা, বম্ব তৈরি এবং প্রতিস্থাপন, আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি, উচ্চচাপযুক্ত এলাকায় কাজ করার বিভিন্ন কৌশল শেখান হত এখানে।

ক্যাম্পের সবাই সেই সময় ঘুমাচ্ছিল এবং তাদের দেশের এত ভিতরে ঢুকে হামলা হতে পারে এমনটা তাদের ধারণায় ছিল না, কারণ, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আশঙ্কা করেছিল তারা। বালাকোট ক্যাম্প জইশ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের জন্য গুরুত্বপুর্ণ ক্যাম্প ছিল৷ এই ক্যাম্প থেকে বহু জঙ্গি কে প্রশিক্ষন দিয়ে বিভিন্ন নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে৷

বালাকোট শহরের দুরত্ব লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছে আবোটাবাদ থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার৷ আবোটাবাদেই মার্কিন সেনা আলকায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের নজর বাঁচিয়ে খতম করেছিল৷ বালাকোট ক্যাম্পে জঙ্গিদের অত্যাধুনিতক অস্ত্র, বিস্ফোরকের পাশাপাশি বড়শড়

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনা পাক সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল। সেবারও সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড উড়িয়ে দেয় ভারতের সেনা জওয়ানরা। তা হলে এবার কেন বায়ুসেনা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত?

Read More : পাকিস্তানকে সবক শেখানো মিরাজ সম্পর্কে জেনে নিন কয়েকটি অজানা তথ্য

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোট হল ফিদায়েঁ জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিদের আখড়া। আর ভারত জইশ জঙ্গিদের হৃৎপিণ্ডটাই গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। প্রথমত বালাকোট বেশ দুর্গম অঞ্চল। পাশেই বইছে কানহার নদী। এখানেই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই শেখানো হতো জঙ্গিদের। দ্বিতীয়ত দীর্ঘ দিনের খারাপ আবহাওয়াই চলছে বালাকোটে। কিন্তু সীমান্ত থেকে ৮০ কিমি দূরত্বে অবস্থান হওয়ায় সেখানে স্থলসেনা পাঠানো মুশকিল। তাই  মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানকে কাজে লাগান হয়েছে।