করোনার টিকা নিতে পারবে না কারা কারা, দেখে নিন তালিকা

টিকা নেওয়ার আগে জেনে নিন কাদের কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড নেওয়া উচিত নয়?

who should not take covaxin and covishield

ভারতের দুটি টিকা কোভ্যাক্সিন (Covaccine) এবং কোভিশিল্ডকে (Covishield) জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে টিকাকরনের প্রক্রিয়া। কিন্তু অনেকের মধ্যেই এই টিকা নিয়ে আশঙ্কা কাজ করছে। তৃতীয় ট্রায়াল সম্পূর্ন হওয়ার আগে কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে নানান মহলে চলছে জোর সমালোচনা।

দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে মানব শরীরে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ার খবরও আসছে। এমন অবস্থায় এবার এবার মঙ্গলবার একটি সতর্কতা জারি করল নির্মাণকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) যেখানে বলা হয়েছে কারা কার এই প্রতিষেধক নিতে পারবে না।

কাদের কোভিশিল্ড নেওয়া উচিত নয়?

কোভিশিল্ডে যে যে উপকরণ আছে, সেগুলিতে যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁদের কোভিশিল্ড না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সেরাম। একইসঙ্গে প্রথম ডোজ নেওয়ার পর যে টিকাগ্রাহকদের গুরুতর অ্যালার্জি সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তাঁদেরও কোভিশিল্ড নিতে বারণ করা হয়েছে। কোভিশিল্ড নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের জানাতে হবে যে কোনও ওষুধ, খাবার, কোনও টিকা বা কোভিশিল্ডের কোন উপকরণের ফলে অতীতে কোনও গুরুতর অ্যালার্জি সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল কিনা। যদি কেউ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী ওষুধ খান এবং জ্বর থাকে বা রক্ত জমাট বাঁধার ধরনে সমস্যা হয় বা রক্ত কম ঘন হয়, তা টিকা নেওয়ার আগেই জানাতে বলেছে সেরাম।

কাদের কোভ্যাক্সিন নেওয়া উচিত নয়?

সংস্থার তরফ থেকে প্রকাশ করা ফ্যাক্ট শিটে বলা হয়েছে যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যা যেসব ব্যাক্তিরা এমন কোনও ওষুধ খাচ্ছেন যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে তাদের এই প্রতিষেধক এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যদিকে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদেরও এই টিকা নেওয়া উচিত নয়।

Covaxin coronavirus vaccine

সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের কোভ্যাকসিন নিলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।পাশাপাশি তাদের মুখ ও গলা ফুলে ওঠা বা দুর্বল হয়ে পড়া, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। সংস্থার তরফ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আর্জি জানানো হয়েছে,প্রতিষেধক গ্রহণের পর শরীরে কী কী প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে, তাঁরা কী ওষুধ খাচ্ছেন এবং কী ধরনের অ্যালার্জি রয়েছে ইত্যাদি বিষয়গুলো জানাতে।

এর পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলা বা যারা শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন তাদেরও এই টিকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিল নির্মাণকারী সংস্থা।এছাড়াও যাদের জ্বর আছে এমন ব্যাক্তির, শরীরে রক্তপাতের সমস্যা থাকলে (অনুচক্রিকার অভাব থাকলে), কোনও ব্যাক্তি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার ওষুধ খেলে বা শরীরে অন্য কোনও বড় অসুখ থাকে সেক্ষেত্রে এই প্রতিষেধক না নেওয়ার পরামর্শ দিল নির্মাণকারী সংস্থা।অন্য কোনও কোভিড ভ্যাকসিন নিলেও নেওয়া যাবেনা এই টিকা।

কোভ্যাক্সিন নেওয়ার পার্শ্ব পতিক্রিয়া কী?

সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে সারা শরীরে অসম্ভব যন্ত্রণা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফুলে যাওয়া, চুলকুনি, মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ইত্যাদি প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। এও জানান হয়েছে যে টিকার দুটি ডোজ দেওয়ার পর ব্যাক্তির শরীরে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তা তিন মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। টিকা নেওয়ার পরে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল এবং সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে টিকা নির্মাণকারী সংস্থা অর্থাৎ ভারত বায়োটেক।প্রয়োজনে রোগীকে এবং রোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মৃত্যু হলে কে ক্ষতিপূরণ দেবে জানিয়ে দিল কেন্দ্র

ইতিমধ্যেই এই ভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা।অনেকের শরীরেই দেখা গেছে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন এই ফ্যাক্ট লিস্ট যেমন এক শ্রেণীর মানুষকে আশ্বস্ত করবে তেমনই আরেক শ্রেণীর মানুষের মনে আরও বাড়িয়ে দেবে আতঙ্ক।চিকিৎসকরাও বেশ কিছু সময় এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।