বান্ধবীর প্যাডে মাদক লুকিয়ে নেশায় মত্ত শাহরুখের ছেলে, ফাঁস হলো গুণধর ছেলের কুকীর্তি

বান্ধবীর প্যাডের ভেতরে মাদক লুকিয়ে নেশা! কে এই মুনমুন ধমেচা, প্রকাশ্যে এলো শাহরুখের গুণধর ছেলের কীর্তি

মাদক মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের (Aryan Khan) বিরুদ্ধে। মুম্বাইয়ের প্রমোদতরী কর্ডেলিয়া ক্রুজ থেকে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন আরিয়ান। আরিয়ানের কাছ থেকেও পাওয়া গিয়েছে মাদক (Drug)। মাদক সেবনের কথা স্বীকারও করেছেন আরিয়ান।

প্রথমটা অবশ্য মাদক সেবনের বিষয়ে এনসিবিকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। তবে টানা ৪৮ ঘন্টার ম্যারাথন জেরা চালানোর পর অবশেষে এনসিবির কাছে ভেঙ্গে পড়েন আরিয়ান। এনসিবি আধিকারিকদের অচেনা মুখের সামনে একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহরুখপুত্র। স্বীকার করে নেন, এই প্রথম নয়। গত ৪ বছর ধরে তিনি মাদক সেবন করছেন।

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি বাবা-মাকে না জানিয়েই এতদিন চুপিসারে চলছিল মাদক সেবন? এনসিবি কর্তারা জানাচ্ছেন, শাহরুখ এবং গৌরী ছেলের ব্যাপারে সবটাই জানতেন। আরিয়ান এনসিবি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, দুবাই, লন্ডন এবং আরও বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েও তিনি মাদক সেবন করেছেন।

নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস)-আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে আরিয়ানের বিরুদ্ধে। তবে এই যাত্রায় তিনি একা ফাঁসেননি। আরিয়ানের বান্ধবী মুনমুন ধমেচা এবং মাদকের সরবরাহকারী আরবাজ শেঠ মার্চান্টকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুনমুনের স্যানিটারি প্যাডেই লুকানো ছিল মাদক! মাদক পাওয়া গিয়েছে আরিয়ানের লেন্সের বাক্স থেকেও।

Who is Munmun Dhamecha, arrested with Aryan Khan by NCB

কে এই মুনমুন? তার নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত শাহরুখপুত্র সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যতদূর জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের একটি ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে মুনমুন। তিনি পেশায় একজন মডেল। সেই সূত্রেই তারকাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। গুরু রন্ধাওয়া, অর্জুন রামপালদের সঙ্গেও তার ওঠাবসা। ইনস্ট্রাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। তবে শাহরুখপুত্রের সঙ্গে অবশ্য ইনস্টাগ্রামে তাকে কোনও পোস্ট করতে দেখা যায়নি।

এনসিবি আধিকারিকেরা জেরা করেছেন তাকেও। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে যে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন হোটেলের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তাকে জেরা করে আরও বেশি তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাকে আরো বেশ কয়েক দিনের জন্য হেফাজতে রাখতে চেয়েছে এনসিবি।

এদিকে আরিয়ান এবং আরবাজের মোবাইলের কথোপকতন ঘেঁটে শ্রেয়াস নামের আরও একজন ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। শ্রেয়াস নামের ওই ব্যক্তি আরিয়ানকে মাদকের যোগান দিতেন। শ্রেয়াস নায়ারকে আটক করা হয়েছে। আরিয়ান খানকে এখনই মুক্তি দিতে চায় না এনসিবি। তাকে আরও বেশ কয়েকদিন হেফাজতে রাখা হতে পারে। ছেলের জন্য সতীশ মানশিন্ডেকে নিয়োগ করেছেন শাহরুখ। শুটিংয়ের জন্য শাহরুখ-গৌরির বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। তবে ছেলের বিপদে সেই সব পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন তারা।