বাড়ি থেকেই কী সিরিয়ালের শুটিং হবে! সিরিয়ালের কলাকুশলীরা কী বলছেন

এই মুহূর্তে টলিপাড়ার সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে সিরিয়ালের শুটিং । লকডাউন পর্বে মোটামুটি সব ক্ষেত্রের সব কাজ চললেও বন্ধ হওয়ার মুখে শুটিং। কারণ লকডাউনের এই পর্যায়ে শুটিং ফ্লোরে গিয়ে হাজার হাজার কলাকুশলীদের একত্রিত হয়ে শুটিংয়ের অনুমোদন দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম এর ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও বাধা নেই।

এই পর্যায়ে যখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সব কাজ বাড়িতে বসেই সম্ভব হচ্ছে, তাহলে শুটিং নয় কেন? অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও তো নিজের নিজের বাড়িতে নিজের নিজের পার্টটুকু ক্যামেরাবন্দি করে প্রোডাকশন হাউসের কাছে পাঠিয়ে দিতেই পারেন। তাহলে অন্ততপক্ষে গত বছরের মতো আট মাস ধরে শুটিং বন্ধ থাকবে না। ধারাবাহিকের সম্প্রচারণ বন্ধ থাকবে না। এই ভাবনাচিন্তা থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয়েছিল শ্যুট ফ্রম হোম। বেশকিছু ধারাবাহিকে এইভাবে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

তবে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিলেও ফেডারেশন অবশ্য এই বিকল্প পথে মোটেও সায় দেয়নি। এই নিয়েই কার্যত আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় কলাকুশলীদের মধ্যেও কিন্তু মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। অভিনেতা এবং অভিনেত্রীরা শ্যুট ফ্রম হোম নিয়ে কি ভাবছেন? তারা কি বাড়ি থেকে শুটিং করতে রাজি?

“শ্রীময়ী” ধারাবাহিকের “ডিংকা” অর্থাৎ সপ্তর্ষি মৌলিকের মতে, ‘‘২ সংগঠনের কোনও যুক্তিই ফেলে দেওয়ার নয়। জীবন-জীবিকার কথা ভাবলে ফোরামের মত সঠিক। আবার বাড়ি থেকে শ্যুটিং চললে সত্যিই কলাকুশলীরা বঞ্চিত হবেন। কারণ, তখন অভিনেতারা নিজেরাই প্রায় সব কিছু করে নেবেন।’’ তবে তাই বলে শুটিং বন্ধ রাখার পক্ষেও তিনি নন। তিনি মনে করেন, ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে ফেডারেশন যদি শুটিংয়ের অনুমতি দেয় তাহলেই সব দিক রক্ষা হবে।

“খড়কুটো” ধারাবাহিকের “পটকা” অর্থাৎ অম্বরিশ ভট্টাচার্য কার্যত ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের এই মতানৈক্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘‘ফেডারেশন এবং ফোরাম, উভয়েই আমাদের অভিভাবক। টেকনিশিয়ানরা ফেডারশনের অন্তর্ভুক্ত। ফোরাম অভিনেতাদের মাথায় ছাতা ধরে আছে। পরিবারে মা-বাবার মধ্যে মতবিরোধ হলে সন্তানদের যেমন অবস্থা হয়, আমাদেরও এখন সেই দশা’’।

তবে তিনি আশাবাদী এই ভেবে যে শীঘ্রই আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের এই মতভেদ দূর হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন কলাকুশলী এবং অভিনেতারা কার্যত একে অপরের পরিপূরক। টলিউডের উভয়পক্ষকেই প্রয়োজন। “কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকের “শ্যামা” অর্থাৎ তিয়াসা অবশ্য এ বিষয়ে বিশেষ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানালেন, বিনোদন দুনিয়ার প্রধান ২ স্তম্ভ ফোরাম এবং ফেডারেশন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তিনি তাই মেনে নেবেন।

তবে “কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকের ওপর আরেক অভিনেতা ভিভান ঘোষ অবশ্য ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। তিনি দাবি করেছেন, “গত বছর আমার প্রথম করোনা হয়েছিল। আমিই প্রথম ‘বাড়ি থেকে শ্যুট’ নিয়মের পরামর্শ দিয়েছিলাম। এ বছরেও গত বছরের ছায়া। এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং যেখানে বাড়ি থেকে কাজের পক্ষে, তা হলে আমরাই বা বাদ যাই কেন?”

টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য কলাকুশলীদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গতবছর পর্দার আড়ালের কলাকুশলীদের পাশে ছিলেন আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন এবং প্রযোজকেরা। এই বছরেও তার অন্যথা হবে না বলেই মনে করছেন ভিভান। বরং লকডাউনের এই কয়েকটা দিন “শ্যুট ফ্রম হোম” করলে ধারাবাহিকের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই মনে করেন তিনি।