লকডাউন থেকে কী শিখলেন? শেয়ার করলেন শাহরুখ খান

বিশ্বজুড়ে করোনার ত্রাস।তার জেরেই ভারতে চলছে লকডাউন। এতদিন ব্যস্ততার মাঝে যেখানে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য সময় বের করা দুষ্কর হয়ে উঠতো এখন সেখানে সবার হাতে অঢেল সময়। এই অপ্রত্যাশিত লকডাউন বোধহয় সবার কাছেই অভিজ্ঞতা।

লকডাউনে কেউ হারিয়েছেন নিজের প্রিয়জনকে, আবার কেউ নতুন করে ফিরে পেয়েছেন নিজের প্রয়োজনকে অর্থাৎ কাছের মানুষকে। এই দীর্ঘ লকডাউন সবাইকেই উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। এতদিন মানুষ যা যা ভাবেননি, এই লকডাউনে তাই তাই ভেবেছেন, বিশ্লেষণ করছেন। জীবন যে কত তুচ্ছ, মুহূর্ত ও প্রিয়জনেরা যে কত দামী তা এই করোনা না এলে হয়তো কেও বুঝতেও পারতেন না। ঠিক যেমনটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলিউডের কিং খান অর্থাৎ শাহরুখ খান।

বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানকে সাম্প্রতিক কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি। তবে তাঁর অগুন্তি ভক্তদের সাথে ভার্চুয়াল যোগাযোগ রেখেছেন বরাবরই। এমনকি এই লকডাউনের বাজারেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন মেসেজ দিচ্ছেন। কখনও ভক্তদের ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে বলছেন আবার কখনও গানের সুরে বলছেন “সব সহি হো যায়েগা”। এই গানের মাধ্যমেও নিজের লকডাউন উপলব্ধি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কিং খান। তবে এইবার গান নয়, সম্প্রতি টুইট করে নিজের উপলব্ধির কথা লিখেছেন তিনি।

সম্প্রতি “Lockdown lessons” শীর্ষক একটি টুইটে নিজের একটি সূর্যস্নাত ছবি দিয়েছেন। সাথে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের অত্যাবশ্যকতা থেকে বর্তমানে অনেক দূরে, যদিও আমরা যেগুলিকে ভীষন জরুরি বলে মনে করতাম তারমধ্যে কিছু যে একেবারে জরুরি নয় তা বুঝেছি। আমাদের চারপাশে আসলে বেশি মানুষের প্রয়োজন নেই, তালাবন্দি অবস্থায় যার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে তাঁকে প্রয়োজন।ঘরবন্দি অবস্থায় আমরা যখন মিথ্যে নিরাপত্তার পিছনে ছুটছি, তখন সময় স্থির করে দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে নতুনভাবে কল্পনা করতে পারি।“

 

কিং খান আরও লিখেছেন,’যাদের সাথে আমরা এই কঠিন লড়ায় লড়েছি তাঁদের সাথে যেন হাসতে পারি, এবং যাতে জানতে পারি তাঁদের থেকে আমাদের ধারনাগুলি কোনোদিনই বড়ো ছিল না। সর্বোপরি আপনাকে যে যাই বলুক না কেন, ভালোবাসা আজও সকলের জন্য মূল্যবান।‘

করোনা পরিস্থিতিতে বলিউডের বাদশা, প্রকৃত অর্থেই বাদশার মতো অনুদান দিয়েছেন। তাঁর মালিকানাধীন একাধিক সংস্থা রেড চিলিস এন্টারটেনমেন্ট, নাইট রাইডার্স, মীর ফাউন্ডেশন এবং রেড চিলিস ভিএফএক্স থেকে পিএম কেয়ারস্‌ ফান্ড, রোটি ফাউন্ডেশন, এক সাথ-দি আর্থ ফাউন্ডেশন, ওয়ার্কিং পিপলস্‌ চার্টার এ অনুদান দিয়েছেন।

এমনকি দিল্লি-মুম্বইয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকেও সাহায্য করেছেন তিনি। এমনকি শাহরুখ ও গৌরীর ব্যক্তিগত অফিস বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের হাতে তুলে দিয়েছেন কোয়েরেন্টাইন সেন্টার তৈরীর জন্যে। কিং খানের চারতলা অফিসে মহিলা ও শিশুদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।