১৯৪৫ সালের ১৮ ই অগাস্ট কি সত্যিই নেতাজির মৃত্যু দিবস?

স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা, স্বাধীনতার পেছনে যার অবদান অনস্বীকার্য। যার নাম শুনলেই দেশপ্রেমের একটা ঢেউ খেলে যায় দেশবাসীর মনে, যিনি হয়ে উঠেছিলেন ইংরেজদের ভয়ের কারন।সেই সুভাষচন্দ্র বোসের মৃত্যু দিবস স্বাধীনতার ঠিক পরে! হ্যা, তার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয় ১৮ আগস্ট ১৯৪৫ সালে, একটি বিমান দুর্ঘটনায়।

ইতিহাসের পাতায় এই কথা বলা হলেও তা বলা হয় নি নিশ্চিত ভাবে, কারন তার মৃত্যু আজও সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা। মেলেনি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ! তার ওপর এই ইতিহাসের থেকে এর উল্টো যুক্তিই যেন আরও বেশি জোরদার। দেখে নিন যুক্তি গুলি কি কি

১. অনুজ ধর তদন্ত কমিশন এই বিষয়ে তদন্ত করে জানতে পারে যে সেই তারিখে তাইহকুর বিমান বন্দরে কোনো দুর্ঘটনাই ঘটে নি! আর যদি সেই দুর্ঘটনা ঘটেই না থাকে তাহলে সেখানে তার মারা যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা।তাহলে কি সম্পূর্ণ ঘটনা ছিল সাজানো? তাই যদি হয় তার পেছনের কারণ কি ছিল?

২. বিমান দুর্ঘটনার পর নেতাজী জাপানে যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায় সেখান থেকে নেতাজীর কোনো ডেথ সার্টিফিকেট এমন কি কোনো তথ্য ও এই বিষয় পাওয়া যায়নি।

৩.জাপানের রংকুচি মন্দিরের ভেতরেই নেতাজীকে দগ্ধ করা হয় বলে জানানো হলেও পরে জানা যায় ডি এন এ টেস্টের মাধ্যমে যে সেইসব অস্থি নেতাজীর ই না!

৪.আচ্ছা আপনি শুনেছেন যে একজন মৃত ব্যাক্তির বাড়ির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে সেখানে সেই মৃত ব্যাক্তির তরফ থেকে কোনো চিঠি বা অন্য কিছু আদান প্রদান হচ্ছে নাকি সেটা জানার জন্য? নিশ্চই না। কিন্তু নেতাজীর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটে। ভারতের তৎকালীন এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু দীর্ঘ ২০ বছর নেতাজীর বাড়ির ওপর কড়া নজরদারি বসিয়েছিলেন, খবর নিতেন তার বাড়িতে কি কি চিঠি আসছে সে বিষয়।

৫. মুখার্জী কমিশনের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী নেতাজী জওহরলাল নেহেরু কে জানিয়েছিলেন যে তিনি রাশিয়া তে আছেন।

৬. ১৯৬৬ সালে ভারত পাক শান্তি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী দাবি করেন যে তিনি নেতাজী কে দেখেছেন। তিনি তার কন্যাকে এই ঘটনার বিষয় বলার পরই হৃদরোগে তিনি মারা যান। অনেকের মতে খবর ছাপা দাওয়ার জন্য খুন করা হয় তাকে।

৭. সুভাষ বসুর স্ত্রী এমিলি বোসকে তখনকার সন্তান যে গোপন দস্তাবেজ দিয়েছিল তা জনসমক্ষে ছিড়ে ফেলেন তিনি।কিন্তু কি লেখা ছিল তাতে? সেটা জানা যায়নি আজও।

৮.১৯৪৫ সালের সমকালে যে যে দেশের সাথে নেতাজীর মৃত্যুকে জড়ানো হয়েছে সেইসব দেশে, অর্থাৎ জাপান ,রাশিয়া , আমেরিকা ইত্যাদির ফাইলে সুভাষ বসুর কোনো কাজের তথ্য নেই।সেইগুলি কে টপ সিক্রেট ফাইলের তকমা লাগিয়ে সেগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : পিঠে গুলি খেয়ে নেতাজিকে বাঁচিয়েছিলেন কর্নেল নিজ়ামুদ্দিন

এইরকম পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে আরও অস্পষ্ট করে তোলেন উত্তরপ্রদেশের গুমনামি বাবা। অনেকের মতে ছদ্মনামে তিনিই ছিলেন নেতাজী! তবে শুধু ধারণা নয়, কাছে প্রমাণও।তার মৃত্যুর পর তার ঘর থেকে নেতাজী এর সাথে সম্পর্কিত বহু জিনিস যেমন পরিবারের ছবি, হাত ঘড়ি, তার কিছু আপনজনের লেখা চিঠি, ইত্যাদি মিলিয়ে দু হাজারেরও বেশি জিনিস উদ্ধার হয়েছে।

আরও পড়ুন : নেতাজীর ধন সম্পত্তি কারা লুঠ করেছিলো? আজ সেই সম্পত্তি কোথায়?

আরও পড়ুন : গুমনামি বাবা-ই কি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ? রইলো প্রমাণ

পর্দার আড়াল থেকেই তিনি কথা বলতেন সবার সাথে। কিন্তু এখানেও শেষ নেই ধোয়াশার। গুমনামী বাবার মৃত্যু সাল ১৯৮৫। কিন্তু কোনোভাবেই জানা যায়নি মৃত্যু তারিখ! তাহলে কি নিজেই নিজেকে আড়াল করেছিলেন তিনি? কোনো চাপে নাকি কেবলই অভিমানে? কি ছিল এর উত্তর? কিভাবেই বা শেষ হয় নেতাজীর জীবন? গুম নামি বাবাই কি তাহলে নেতাজী? উত্তর হয়ত জানেন অনেকেই কিন্তু সব চুপ। তাই প্রশ্ন, থেকেই যায়।