‘সহবাস করেছি, বিয়ে নয়’, নুসরতের এই বিয়ে কী আইনত বৈধ, আইন কী বলছে

Nusrat Jahan Marriage Legal or Not

দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই বিতর্কের শীর্ষে থেকেছেন অভিনেত্রী নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan)। সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠেই নিখিলকে (Nikhil Jian) জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ভারতবর্ষে নয়, তাদের বিয়ে হয়েছিল সুদূর তুরস্কে! নিখিল এবং নুসরাতের রাজকীয় বিয়ে নিয়েও কম চর্চা হয়নি। বিয়ে থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ পর্যন্ত, নিখিল জৈনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে উত্তাল নেট দুনিয়া। ২০২০ সালের শেষভাগ থেকেই শুরু হয়েছে এই বিতর্ক, যখন “কাপল গোল” এর ইমেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইলেন অভিনেত্রী।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তাদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিতর্ক বেড়েছে বৈ কমেনি। এখন তাদের সম্পর্ক ভাঙনের মুখে। আর এই সময় কালে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য, নিখিল জৈনকে তিনি বিয়েই করেন নি! নিখিল তার স্বামী নন, আইনের চোখে তারা বিবাহিত নন। অতএব এই সম্পর্ককে “লিভ-ইন রিলেশনশিপ” তথা “সহবাস” ছাড়া আর কোনও শব্দ মারফত ব্যাখ্যা করতে নুসরাত মোটেই রাজি নন।

নুসরাতের দাবি, তাদের বিয়েটা বৈধ নয়। তার যুক্তি, “তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই বিয়েটা অবৈধ। তার উপর এটা যেহেতু হিন্দু-মুসলিম বিয়ে সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে এই বিয়েতে স্বীকৃতি দরকার। সেটা হয়নি। ফলে এটা বিয়েই নয়”। নিজের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার সংযোজন, “আইনের চোখে এটাই বিয়েই নয়, বরং একটা রিলেশনশিপ বা বলা যায় লিভ ইন রিলেশনশিপ। তাই ডিভোর্সের প্রশ্নটাই উঠছে না”!

Nusrat-Jahan-Nikhil-Jain

নুসরাত যা দাবি করছেন, তা কি সত্যি? সত্যিই কি নিখিল এবং নুসরাত বিবাহিত নন? বিয়ে থেকে শুরু করে রিসেপশন পর্যন্ত, তাদের বিবাহ আসরের এত ছবি যে নেট মাধ্যমে ভাইরাল হলো! সবই কি মিথ্যে? নিখিলের সঙ্গে তার সম্পর্ককে অবৈধ কেন বলছেন অভিনেত্রী? কি স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট? চলুন আজ বরং এই বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট কি?

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট (special marriage act 1954), হলো ভারতের সংবিধানে স্বীকৃত একটি আইন যা দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। এই আইনে উল্লেখ করা রয়েছে যে, ভারত এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মের ভারতীয় নাগরিকেরা যদি মনে করেন ভিন্ন ধর্মে বিবাহ করবেন, তাহলে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুসারে বিয়ে করলে তাদের বিবাহকে আইনের চোখে সিদ্ধ বা বৈধ ধরা হবে। আন্তঃ বর্ণ এবং আন্তঃ ধর্ম, উভয় বিবাহকেই স্বীকৃতি দেয় এই বিশেষ আইন।

নুসরাতের বিয়ে বৈধ নাকি অবৈধ? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

বিশিষ্ট আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা জানাচ্ছেন, ভারতীয় সংবিধান সব ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়। তাই দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ যদি মনে করেন, তাহলে তারা বিয়ে করতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে আইনত তাদের বাধা দিতে পারবে না কেউ। তবে সেই বিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় হতে হবে। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় বিয়ে হলে স্বামী অথবা স্ত্রীর ধর্মান্তকরণ না হলেও তাদের বিবাহ আইনত স্বীকৃতি পাবে।

“হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে বিবাহে হোম ও সপ্তপদী সম্পন্ন হলেই তা বিয়ের মান্যতা পায়, অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনও গুরুত্বপূর্ণ। আর, মুসলিম ম্যারেজ অ্যাক্টে তিনবার কুবল হ্যায় বললেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে যদি পাত্র-পাত্রী দুই বিপরীত ধর্মের হলে একজন ধর্মান্তরিত হলে তবেই সমাজিক রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়!”, জানালেন ওই বিশিষ্ট আইনজীবী।

Nusrat Jahan Nikhil Jain

তবে ভিন্ন ধর্মে বিবাহ যদি স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্ট্রার করা না থাকে তাহলে একপক্ষ সেই বিবাহকে পরবর্তীকালে অবৈধ দাবি করতেই পারেন! আইনের পরিভাষায় একে বলে ভয়ডেবেল ম্যারেজ (Voidable marriage)। তবে এক্ষেত্রে অবশ্য বিবাহটি বৈধ না অবৈধ, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে আদালত।

অতএব স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী নুসরাতের দাবি কিন্তু একেবারেই ফেলে দেওয়া যায় না। নিখিলের সঙ্গে তার বিয়েটি যদি সত্যিই স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে রেজিস্ট্রার না হয়ে থাকে (এমন দাবী অবশ্য নিখিলও করেছেন), তাহলে তাদের সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। উল্লেখ্য, নিখিল জৈন নুসরাতের বিরুদ্ধে যে সিভিল স্যুট ফাইল করেছেন, আসন্ন জুলাই মাসে সেই সম্পর্কিত মামলাটি কোর্টে উঠবে। মামলাটি খতিয়ে দেখে আদালত কি রায় দেবে, তার উপরেই নির্ভর করে রয়েছে নিখিল এবং নুসরাতের ভবিষ্যৎ।