নিপা ভাইরাস কী ? লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং নিরাময় ; খুঁটিনাটি জেনে নিন

বর্তমানে কেরল তথা সারা ভারত জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে মারণ ভাইরাস তা হল নিপা ভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত শুধু কেরলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২৫ জনের মতো আক্রান্ত  হয়েছে যাদের অবস্থা গুরুতর এবং তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর এরফলে শুধু রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা নয় সাধারণ মানুষের এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারেরও স্বাস্থ্য বিভাগের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আর তাই ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা NCDC  কেরালার কোজিকোড় জেলায় মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছে যাতে এই রোগ চারিদিকে মহামারীর আকার ধারণ করতে না পারে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল ভারতবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই নিপা ভাইরাস। আজ তাই আমরা জানবো কী এই নিপা ভাইরাস ? আর এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে আমাদের শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা যায় ? আর কীভাবেই আমরা এই ভাইরাসের আক্রমন থেকে নিজেদের দূরে রাখবো।

নিপা ভাইরাস কী ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর মতে নিপা ভাইরাস (NiV)সংক্রমণ এক নতুন ধরনের zoonosis  প্রকৃতির ভাইরাস সংক্রমণ  যা  মানব শরীরে নানান গুরুতর  শ্বাসজনিত মারন রোগ থেকে ক্ষতিকর এনসেফাইলাইটিস  রোগের সৃষ্টি করছে ।Zoonosis হল এমন ধরনের রোগ  যা পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে। প্রধানত বাদুর জাতীয় পশুর থেকেই ছড়ায়। নিপা অপেক্ষাকৃত নতুন ভাইরাস যা অতি সহজেই বাদুর জাতীয় তৃণভোজী প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। শুধুমাত্র বাদুর নয়, নিপা শূকরের বর্জ থেকেও ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ বা পশুর জন্য কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। আর তাই একমাত্র প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে উপযুক্ত চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে রোগীদের বাঁচানো সম্ভব।

আরো পড়ুন : ভারতের সেরা ১৩ টি হাসপাতাল – সুখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য

সাধারণত এই ভাইরাসের  প্রাথমিক বাহক হিসাবে শুকরকে চিহ্নিত করেছেন WHO । তবে  ফল ভক্ষনকারী বাদুড়েরাও এই ভাইরাস বহন করতে পারে। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার নিপাতে প্রথম এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। সেখানে বাড়ির পোষ্য কুকুর, বেড়াল, ঘোড়া, ছাগলের দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেই সময় মালয়েশিয়ার আচেহ প্রদেশের নিপা গ্রামে শূকর পালকদের মধ্যে এ ভাইরাসজনিত রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়। মালয়েশিয়ায় শূকর থেকে মানুষের শরীরে নিপা ভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমিত হয়েছিল। গ্রামটির নামানুসারেই রোগটির নাম দেওয়া হয় নিপা ভাইরাস। বাংলাদেশেও বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েকবার তা মহামারী আকার ধারণ করেছিল।

Source

নিপা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায় ?

শীতকালে যখন খেজুরগাছ কেটে তাতে রাতে হাঁড়ি বেঁধে রস সংগ্রহ করা হয় তখন হাঁড়ি থেকে রাতে বাদুড়ও রস পান করে থাকে। এ সময় বাদুড়ের লালা থেকে নিপা ভাইরাস হাঁড়ির রসে চলে যায়। বাদুড়ের প্রস্র্রাব দিয়েও খেজুরের রস সংক্রমিত হতে পারে। এ ছাড়া গাছে বাদুড়ে খাওয়া ফলেও নিপা ভাইরাস প্রবেশ করে। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব দিয়ে সংক্রমিত খেজুরের রস কিংবা বাদুড়ে খাওয়া ফলমূল খেলে নিপা ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে।

আরো পড়ুন : আপনি যে ওষুধ কিনছেন তা আসল না নকল ? বুঝবেন কীভাবে ?

নিপা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ কী ?

যে সমস্ত অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সাথে যুক্ত তারা জানাচ্ছেন, বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমণ সম্ভব নয়, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসলে তখনই সংক্রমণ সম্ভব।এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আপনার যেসমস্ত শারীরিক অসুস্থতা  দেখা যাবে সেগুলি হল  মাথাধরা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি করা, ঝিমুনি  এবং অস্বাভাবিক আচরণ করা। যা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

আরো পড়ুন : হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ, ভুলেও অবহেলা করবেন না

Source

যদি কোন ব্যক্তির এইসব শারীরিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে তাহলে তাদের খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারদেরপরামর্শ নেওয়া উচিত এবং বাড়াবাড়ি হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ নিপা ভাইরাস খুব তাড়াতাড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুবই মারণ তার সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত এই রোগের চিকিত্সা বাজারে আসেনি। ফলে, এর প্রকোপ সেভাবে আটকানো সম্ভব হয় না।

নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে যা যা করণীয়

  • এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে রোগ  চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তা মূলত রোগীদের দেহের তরলের মাধ্যমে ঘটছে। তাই এই রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে গেলে রোগীদের সংস্পর্শে একদম আসা যাবে না।আর যদি আসেন তাহলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং জীবাণুনাশক  সাবান বা তরল দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে প্রতিবার।

আরো পড়ুন : মানব দেহের এমন কিছু অজানা তথ্য যা আপনি জানেন না

Source
  • গাছের পাকা বা কাঁচা ফল যা পাখিতে কেটেছে তা একদম না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা। কারণ এক্ষেত্রে সেই ফল বাদুড় দ্বারা ভক্ষিত হতে পারে।
  • এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে একটি ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইন নাম্বার দেওয়া হয়েছে তা হল -০৪৯৫২৩৭৬০৬৩

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সাথে যুক্ত হন : Facebook  Instagram  Twitter