পুরনো গাড়ি থাকলে এবার লাগবে Green Tax, কেন্দ্রের বড় ঘোষণা

আট বছরের পুরনো গাড়ির ওপর এবার থেকে গ্রিন ট্যাক্স বসাবে সরকার। ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় সরকার এই অর্থটি নেবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রকের তরফ থেকে এই প্রস্তাবে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে।

All you Need to Know About Green Tax

পুরোনো গাড়ি বেশী মাত্রায় পরিবেশ দূষণ ঘটায়। সেইজন্য এবার পরিবেশ দুষনে হ্রাস টানতে পুরোনো গাড়িগুলোতে ‘গ্রীণ ট্যাক্স (Green Tax)’ বসানোর প্রস্তাবে সন্মতি দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করী।রাজ্যগুলির কাছে এই সম্পর্কে মতামত নেওয়ার জন্য এই প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং তারপরই এই বিষয় বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। প্রস্তাবটি ২০২২ সালের ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকরী হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

যানবাহনের দূষণের জন্য পুরনো গাড়ি সবথেকে বেশি দায়ী। এখান থেকে বেশি দূষণ ছড়ায়। এর মোকাবিলায় পুরনো গাড়িতে অতিরিক্ত লেভি চাপানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে সরকারের বিবেচনাধীন ছিল। কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গডকরি এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন বলে গতকাল সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুসারে, ৮ বছরের বেশি পুরনো গাড়িগুলোতে এবং ব্যাক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১৫ বছর পুরোনো গাড়িগুলোতে  এই ট্যাক্স বসানো হবে। এই ট্যাক্স বসলে নতুন করে ফিটনেস সার্টিফিকেট করার সময় ১০-২৫ শতাংশ রোড় ট্যাক্স বসানো হবে। দেখা গেছে মোট গাড়ির সংখ্যার ৫ শতাংশ বানিজ্যিক গাড়ি এবং সেগুলো থেকেই ৬৫-৭০ শতাংশ দূষণ নির্গত হয়।

বাসের মতন গণ পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণত এই ট্যাক্স কম হবে।তবে সেই বাস অত্যন্ত দূষণ যুক্ত শহরে নথিভুক্ত করা হলে ৫০ শতাংশ হারে রোড ট্যাক্স দিতে হবে। জ্বালানির ওপরও এই ট্যাক্স নির্ভর করবে। হাইব্রিড, ইলেকট্রিক গাড়ি বা যেই গাড়িগুলোতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।ছাড় থাকবে ট্রাক্টর,হারভেস্টর এবং টিলারের মতন কৃষিতে ব্যবহৃত যানের ক্ষেত্রেও।

সরকারের মতে, এর ফলে মানুষ দূষণ ছড়ায় এরকম গাড়ি ব্যবহার করবেন না এবং নতুন গাড়ি ব্যবহারের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়বে। একইসাথে এর ফলে লাগাম টানা যাবে পরিবেশ দূষনে।সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী এই ট্যাক্স থেকে আয় করা অর্থ দূষণ মোকাবিলার জন্য আলাদা খাতে রাখবে সরকার। দূষণ কতটা ছড়াচ্ছে তার ওপর নজরদারি চালাবে সরকার।জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন দফতর এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে ১৫ বছরের পুরনো যে গাড়িগুলি আছে তা বাতিল করে তা স্ক্রাপে পরিণত করা হবে।

আরও পড়ুন : রাস্তায় ট্রাফিক পুলিস আটকালে কি কি করণীয় ও আপনার অধিকার

একনজরে কেন্দ্রীয় প্রস্তাব :-

  • ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১৫ বছর পরে রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণের সময় গ্রিন ট্যাক্স চাপতে চলেছে মালিকের কাঁধে।
  • যে সমস্ত শহরে দূষণের মাত্রা সবথেকে বেশি সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রিন ট্যাক্স দিতে হবে। এক্ষেত্রে রোড ট্যাক্সের ৫০ শতাংশ গ্রিন ট্যাক্স হিসেবে দিতে হবে।
  • গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপরে নির্ভর করবে করের হার। অর্থাৎ পুরনো পেট্রলের গাড়ি হলে যে হারে গ্রিন ট্যাক্স দিতে হবে ডিজেলের গাড়ির ক্ষেত্রে তা সমান হবে না।
  • গ্রিন ট্যাক্স চালুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল গাড়ির মালিকদের স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। যে কারণে হাইব্রিড গাড়ি, ইলেকট্রিক গাড়ি, CNG, ইথানল এবং LPG-র মতো বিকল্প জ্বালানিতে চলে এমন গাড়িকে গ্রিন ট্যাক্সের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : নতুন ট্রাফিক আইনে কোন অপরাধে কি শাস্তি? একনজরে জেনে নিন