সিনেমার শুটিং হয়ে গেলে শুটিং-এর জামাকাপড় কি হয় জানেন

বলিউড সিনেমা মানেই সুপারস্টারদের সুপার অভিনয় এবং লাস্যময়ী নায়িকাদের অপরূপ লাস্য। যেন এক স্বপ্নের জগৎ। সকল রকম দুঃখ, কষ্ট, না পাওয়ার হতাশা ভুলে গিয়ে একবার যখন টিকিট কেটে হলে ঢুকে যাবেন তখন আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে এক সুন্দর মায়াবী নগরী। যেখানে সবই সম্ভব। মার কাটারি দৃশ্যে হিরোর দমদার শক্তি প্রদর্শন, যেন সে একাই একশো।

দুষ্টের দমন করার জন্য বা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সেখানে পুলিশের বা আইনের কোন দরকার নেই। পুলিশ, আইন, আদালত, বিচারক সবই একজন আর তা হল আমাদের সুপারস্টার হিরো। আর তার সাথে বাড়তি পাওনা বলতে সুন্দর সুন্দর লোকেশনের দৃশ্য। চেনা পৃথিবী ছাড়িয়ে মন তখন পৌঁছে যায় সেইসব অপরূপ দৃশ্যে।

আর যা আমাদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এইসব ছাড়া তা হল নায়ক বা নায়িকার পোশাক। এই পোশাকগুলো পরবর্তী সময়ে আমাদের কাছে হয়ে ওঠে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। প্রতিটি দৃশ্যে আলাদা আলাদা জমকালো পোশাক আমাদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমা হলে বসে বসেই আমরা কল্পনা করতে থাকি এইসব পোশাক যদি আমরা পরতাম তাহলে সবার কাছেই নিজের ব্যক্তিত্ব আলাদা হত।

এইসব ভাবতে ভাবতে সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পর আমাদের মনে প্রথম যা চিন্তা হত তা হল ফিল্ম হয়ে যাবার পর তাদের কী পরিণতি হয়? অনেকেই হয়তো ভেবেছেন আবার না ভাবতেও পারেন, কিন্তু আজকের প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের বলার চেষ্টা করবো এইসব কুল, স্টাইলিশ, গর্জাস, লুকিং পোশাকগুলোর কী পরিণতি হয় সিনেমা শুটিং শেষ হয়ে যাবার পর।

“যশরাজ ফ্লিম  প্রোডাকশন হাউসের” একজন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশা খান্না জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পোশাক যেগুলো পরে নায়ক নায়িকারা সিনেমায় করে সেগুলো পরে বাক্সবন্দি করে রাখা হয় প্রোডাকশন হাউসের গুদামঘরে। তবে গুদামঘরে রাখার আগে ট্রাঙ্কে বা পোশাকের বাক্সের গায়ে সিনেমার নামের লেবেল দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে যদি তাদের প্রয়োজন পরে তাহলে তাদের সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে সব পোশাকের যে এই শেষ পরিণতি হয় তা কিন্তু নয়। অনেকসময় এইসব পোশাক যাদের গুরুত্ব কম তাদের জুনিয়র শিল্পীদের ওই প্রোডাকশন হাউসের অন্য সিনেমার প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে পেটি থেকে মুক্তি দিয়ে পরতে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগে তাদের মিক্সিং করে দেওয়া হয় যাতে দর্শক পরবর্তী সময়ে সিনেমা দেখার সময় পুরানো সিনেমার পোশাকের সাথে তার কোন মিল খুঁজে না পায়।

আরও পড়ুন : মধুচক্র থেকে MMS, এক নজরে বলিউড অভিনেত্রীদের বিতর্কিত অধ্যায়

এছাড়াও যেসব পোশাক পরে নায়ক নায়িকারা প্রথমবার হিট সিনেমা দিয়ে থাকেন তারা অনেকসময় সেইসব  পোশাক স্মৃতি হিসাবে নিজেদের কাছে রেখেও দেন প্রোডাকশন হাউসের কাছে চেয়ে নিয়ে। এই পোশাক তাদের সেই সিনেমার নস্টালজিয়ায় ফিরে যেতে সাহায্য করে। এটা তাদের কাছে একটা আবেগের বস্তু হয়ে ওঠে।

তবে সাধারণত নামকরা ডিজাইনার যেমন মনীশ মালহোত্রা বা অঞ্জু মোদি বা বলিউডের অন্যান্য নামকরা ডিজাইনার যখন কোন সিনেমার নায়ক নায়িকার পোশাক ডিজাইন করে তখন তারা এইসব পোশাক নিজেদের ডিজাইন করা পোশাক নিজেদের পোশাক আর্কাইভে রেখে দেয়, সিনেমার শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার বা পোশাকের ব্যবহার সম্পুর্ন হয়ে যাওয়ার পর। যেমন অনুষ্কা শর্মা  “বম্বে ভেলভেট” সিনেমায় যে ৩৫ কেজি ওজনের গাউন পরেছিলেন তেমন।

আরও পড়ুন : আগে সেক্স তারপর ট্যালেন্ট, টলিউডে কাজ পেতে শুতে হয় ছেলেদেরও

এছাড়াও যে সমস্ত পোশাক নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড সৃষ্টি করেছিল সেই সব পোশাক অনেক সময় নিলামে তোলা হয় গরীব, দুস্থ  লোকেদের সাহায্য করার জন্য বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সাহায্য করার জন্য। যেমন “রোবট”সিনেমায় রজনীকান্ত এবং ঐশ্বর্য পরিহিত কিছু বিশেষ পোশাক অনলাইন নিলাম করা হয়েছিল, সমাজের উন্নতির কাজে সেই নিলামে প্রাপ্ত টাকা ব্যবহার করা হয়েছিল।