বাড়ি ফাঁকা পেলে বাঙালি কি করে ?

ফাঁকা বাড়ি পাওয়া বাঙালি জীবনের বিরলতম মওকা। কারণ আবহমানকালে বাঙালি এত কম বার এই সুযোগ পেয়েছে যে, তাকে ‘মওকা’ না-বলা অপমান। জিন্দেগিকে সফর মেঁ যাতে সেই মওকা গুজরে না যায়, তার জন্য বাল্যকাল থেকে কত না প্ল্যান, ফিসফাস! কিন্তু সেই ফাঁকা বাড়ি, সেই সন্নাটা কি জীবনে এসেছে ? কতবার ? এলেও সদ্ব্যবহার করা গেছে সেই শূন্যতার?

বাঙালির জীবন থেকে যৌথ পরিবার ধাঁ হওয়ার পরে বঙ্গপুঙ্গবরা কি ভেবেছিলেন, এইবারে সেই কাঙ্ক্ষিত নৈরাজ্য সমাগতপ্রায়, যার আশায় কেটেছে জেনারেশনের পর জেনারেশন। কিন্তু বাঙালির প্রাইভেসির সেই জিভ লকলক আশায় ছাই পড়েছে বারবার। বাড়ি তেমন ফাঁকা আর হল কই!

Source

যৌথ পরিবারের আমলে বাড়ি ফাঁকা হওয়ার কথা ভাবা যেত না। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎবাবু -কারোর লেখাতেই তেমন কোনও সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। এই পরোক্ষ প্রমাণ থেকেই সিদ্ধান্তে আসা যায়, সেই প্রাইভেসিহীনতার কাল থেকে কী পরিমাণ আকাঙ্ক্ষার ঝংকার বাঙালির তলপেটে জমা হয়ে আছে!
বাঙালি তার ঘাড় থেকে যৌথতার বোঝা নামাতে সমর্থ হতেই চাহিদার পরিমাণ গেল দেদার বেড়ে। বঙ্কিম-শরতের কালে যদি ফাঁকা বাড়িতে বন্ধু ডেকে আড্ডা বসানোর খোয়াইশ থাকত, তবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ‘একা এবং কয়েকজন’ উপন্যাসে ফাঁকা বাড়ির মওকায় নায়ককে দিয়ে ডাকতে বাধ্য করালেন বান্ধবীকে। অবশ্য ফাঁকা বাড়ির উল্লাস চুম্বনের বেশী গড়ায়নি। তারপরে কি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবি বদলেছে? নাকি, সেই একই স্থবিরতায় আটকে রয়েছে রসিক বাঙালি?
এই অবকাশে দেখে নেওয়া যাক বাড়ি ফাঁকা পেলে বাঙালি কদ্দূর কী করতে পারে, তার একটা ছোট তালিকা।

Source

ছেলেবেলায় ‘বাপি আর মা, গেছে সিনেমা’ পরিস্থিতিতে বড় জোর রেইকি কিংবা ফুড হান্টিং। গুঁড়ো দুধ সাপটে দেওয়া থেকে বাপির সিগারেটে প্রথম সুখটান। হাতড়া-হাতড়িতেই কখনও সখনও বেরিয়ে আসত পেরেন্টাল সিক্রেটস। হাতে আসে দেরাজের কোণে রাখা কন্ডোমের প্যাকেট। কিংবা কিশোর দাদার লুকিয়ে রাখা পর্নোগ্রাফি চটিবই।

Source

কৈশোরে ফাঁকা বাড়ি পাওয়া মানে হাতে চন্দ্র, কাঁধে পক্ষ। কী যে করি, কী যে করি ভাবতে ভাবতেই সময় কাবার। ফিরে আসত বাড়ির লোকজন।

Source

প্রথম যৌবনে ফাঁকা বাড়ি মানে পানুদর্শন। লম্বা ফাঁকা মানে মাল্লু পান। আর একটু লম্বা হলে ইয়ার-দোস্ত জুটিয়ে নিষ্পাপ আড্ডা।

Source

যৌবন গাঢ় হলে বান্ধবী সমভিব্যহার।  নীল আলো। ‘যাহ দুষ্টু…’

Source

বিবাহিত পুরুষের কাছে বাড়ি ফাঁকা মানে ব্যাচেলর জীবনে প্রত্যাবর্তনের ডাক। প্রথমে জগঝম্প, পরে ঢুকুঢুকু। এক্সট্রা ম্যারিটালে থাকলে চুকুরচুকু।

Source

বঙ্গললনারা অবশ্য হামেশাই ফাঁকা বাড়ি পান। পেয়েই থাকেন। তেমন হলে বড়জোর তাঁরা খানিকটা সেজে নেন। যে প্রসাধনে কোনওদিনই প্রকাশ্যে সাজবেন না, সেই সব পরে আয়নাবাজি। খুব বেশি হলে গয়নার বাক্স খুলে দিদিমার বিছেহার কোমরে জড়িয়ে দর্পণে লাস্য প্রতিবিম্বের মুগ্ধ দর্শণ।

Source

যেটা সব থেকে কমন। বাড়ি ফাঁকা হবে জেনে হ্যান করেঙ্গা-ত্যান করেঙ্গা-ফ্যানজোলেঙ্গা আউড়ে বেমালুম ঘুমিয়ে পড়া। নাসিকা গর্জন-সহ।