কলকাতার প্রথম করোনা আক্রান্তের বাবার সদস্যপদ খারিজ, ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি

কলকাতা তে প্রথম কোরোনা ছড়ায় লন্ডন ফেরত এক যুবকের থেকে। যুবক এবং তার পরিবার তার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গোপন করে এবং যুবক ১-২ দিন কলকাতার বুকেই ঘুরে বেড়ান। ১৫ মার্চ তিনি লন্ডন থেকে ফেরেন কলকাতায়। তিনি নিজে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং লন্ডনে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে যান মায়ের সাথে নবান্নে।

বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে হোম কয়ারেন্টাইন এ থাকতে বললেও কলকাতার নানান শপিং মল থেকে শুরু করে আরও অনেক স্থানে ঘুরে বেড়ান তিনি। বাবা চিকিৎসক হয়ে সেই অবস্থায় দেখেছেন অসুস্থ রোগীদের। তার মা নবান্নের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচীব এবং পুরো বিষয়টি লুকিয়ে তিনি নবান্নে যান এবং কথা বলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও কিছু জনের সাথে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার পর সস্ত্রীক হোম কয়ারেনটাইন এ আছেন। তাদের এই দায়িত্বহীনতা এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় ওঠে।

আমলা মা এবং চিকিৎসক বাবার বিরুদ্ধে ট্রোলে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই আমলাকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন লন্ডন থেকে ফেরার বিষয়টি গোপন করার জন্য। এবার চিকিৎসক বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ময়দানে নামলেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর পশ্চিমবঙ্গের চেয়ারম্যান শান্তনু সেন।

ওই তরুণের বাবা তথা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শ্যামল ঘোষ কৃষ্ণনগরে রোগীও দেখেন। ফলে প্রশ্ন ওঠে, সারা পৃথিবীজুড়ে এমন মহামারীর অবস্থা দেখেও এই রকম একটা শিক্ষিত পরিবার কী ভাবে এমন কাণ্ড ঘটাল। করোনা আক্রান্ত তরুণের মা স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিব। তিনি নবান্নে সারাদিন অফিস করেছিলেন ওইদিন।

ট্রল এবং মানুষের ক্ষোভে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। লন্ডনের ছেলেটি বর্তমানে বেলেঘাটা আইডিতে চিকিৎসাধীন। এই দুইজনের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে সমাজ থেকে।এবার সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেন আইএমএ (ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন)-এর পশ্চিমবঙ্গের চেয়ারম্যান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডক্টর শান্তনু সেন। বেঙ্গালুরুর এক রেলকর্মীর ছেলে সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। তিনি তা গোপন করায় রেল তাঁকে সাওপেন্ড করেছে। এবার কলকাতার তরুণের চিকিৎসক বাবার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের দাবি তুলল চিকিৎসক সংগঠন।

যদিও ওই যুবকের বাবার দাবি, ছেলের কোনও উপসর্গ ছিল না। তাই ছেলে করোনা আক্রান্ত হতে পারেন, তা ভাবতেও পারেননি তাঁরা। পাশাপাশি আক্রান্ত যুবক নিজেই কোয়ারেন্টাইনে চলে গিয়েছিলেন। এমনকী তিনি ছেলেকে দূর থেকে দেখেছিলেন বলেই দাবি তাঁর।

আরও পড়ুন :- কীভাবে শরীরে ছড়িয়ে পড়ল করোনা, শুনে নিন এই মেয়ের মুখে

শান্তনু সেন এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে গত বৃহস্পতিবার আইএমএ-এর দিল্লির দফতরে এবং তা ছাড়াও সর্বভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিলে এই বিষয় আবেদন করা হয়েছে। আইএমএ-এর দিল্লির দফতরে আবেদনে বলা হয়েছে যে ছেলের রোগ গোপন করার অপরাধে যেন বাবা শ্যামল ঘোষের আইএমএ-এর সদস্যপদ বাতিল করা হয়। হয়েছে, যাতে ছেলের রোগ গোপন করা চিকিৎসক শ্যামল ঘোষের । এবং অন্যদিকে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে আবেদন করা হয় এই দাবিতে যাতে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন :- আপনার করোনা জ্বর হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

তবে তরুণের মা বাবা অর্থাৎ আমলা মা এবং চিকিৎসক বাবার লালারসে এখনও মেলেনি কোনো ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ।কিন্তু তাও রাজারহাটে আইসলেশনে আছেন তারা। তিনদিন পর আবার হবে পরীক্ষা।