করোনা রুখতে রাজ্যে লাগু হল নতুন আইন, কি রয়েছে এই আইনে

২০১৫ সালে চণ্ডীগড়ে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গির মোকাবিলায় এই আইন প্রয়োগ করা হয়। ২০০৯ সালে পুনেতে সোয়াইন ফ্লু আটকাতে গোটা শহরের সব হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য ২ নং ধারা প্রয়োগ করা হয় এবং সোয়াইন ফ্লু হলে তা গোপন করা যাবে না বলে নোটিস দেওয়া হয়।

বিশ্বজুড়ে তৈরী হয়েছে যুদ্ধের পরিস্থিতি। দেশের সাথে দেশের যুদ্ধ নয়। ভাইরাসের সাথে দেশের যুদ্ধ। কোভিড-১৯ ভাইরাসকে ঠেকানোয় এখন সারা বিশ্বের লক্ষ্য। যত দিন যাচ্ছে তত সারা বিশ্বে নিজের অস্ত্বিত্বের কথা জানান দিচ্ছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোভিড-১৯ ভাইরাসকে ‘প্যানডেমিক’ অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চীন। যেভাবে করোনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত সকলে।

করোনা আতঙ্কে জমায়েত না করার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্র সরকার। রাস্ট্রপতি ভবনে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিল্লীতে বন্ধ করা হয়েছে স্কুল,কলেজ। কলকাতায় প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে আইপিএল।

রাজ্যে রাজ্যে আগেই লাগু হয়েছিল ১৮৯৭ সালের মহামারী সম্পর্কিত আইনের ২ নং ধারা। এবার তা পশ্চিমবঙ্গেও লাগু করা হল। এদিন করোনাভাইরাস নিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকজনের মধ্যে করোনাভাইরাস রয়েছে বলে সন্দেহ করা হলেও তারা চিকিৎসায় রাজি হচ্ছেন না। জেলাশাসককে বিরক্ত করছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যেও মহামারী সংক্রান্ত আইন লাগু করা হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন যাতে সঠিক ভাবে এবং বিনা বাধায় কাজ করতে পারে তার জন্যই এই আইন রাজ্যে কার্যকর করা হচ্ছে।

১৮৯৭ সালের ব্রিটিশ মহামারি আইন প্রনয়ন করার পিছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৮৯৭ সালে তৎকালীন বোম্বে যা এখন মুম্বই, সেখানে প্লেগ মহামারীর আকার নিয়েছিল। প্লেগ এর মোকাবিলা করতেই তখনকার ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ‘১৮৯৭ সালের ব্রিটিশ মহামারি আইন’ প্রনয়ন করেন। এই আইনটিতে মহামারীর সাথে মোকাবিলা করার জন্য কতৃপক্ষের হাতে কিছু ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। স্থানীয় কতৃপক্ষ সেই আইনের ক্ষমতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্লেগ আক্রান্ত রোগীদের খুঁজে বের করতেন। এবং তাঁদের আলাদা জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করতেন।

কি রয়েছে এই আইনে?

এই ১৮৯৭ সালের ব্রিটিশ মহামারি আইনের চারটি ধারা রয়েছে। এই আইনে দেশে মহামারি দেখা দিলে সরকারের হাতে কি কি ক্ষমতা থাকতে পারে তা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আইনের দ্বিতীয় ধারায় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে রোগ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি তৈরির অধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই আইন অনুযায়ী মহামারি রুখতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। রেলপথ, সড়কপথ, আকাশপথে যেকোনোও ভ্রমনকারী ব্যাক্তিদের শারীরিক পরীক্ষা নিতে পারেন। যখনই কোনও রাজ্য সরকার মনে করবে মহামারী ছড়িয়ে পড়বার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে আইন রয়েছে, তার দ্বারা এই ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তখন সরকার নিজে বা কোনও ব্যক্তিকে অধিকার দানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে। এই পদক্ষেপ প্রকাশ্য নোটিস দানের মাধ্যমে হবে।

বাইরে থেকে আসা যেকোনো ব্যাক্তির পরীক্ষা করতে পারে সরকার। ও সরকার যদি মনে করেন যেকোনো ব্যাক্তিকে আলাদা করে রাখার ব্যাবস্থা করতে পারে। এই আইন যদি কেও অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির পরোয়ানা জারি হতে পারে ও জরিমানা হতে পারে।

৩ নং ধারায় এই আইনের বিধি অমান্য করলে শাস্তির বন্দোবস্তও করা হয়েছে। এঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ নং ধারায় (সরকারি আধিকারিকের নির্দেশ অমান্য করা) ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

৪ নং ধারায় এই আইন বলবৎকারী আধিকারিকদের আইনি সুরক্ষা দেবার কথা বলা হয়েছে।

এই আইনের প্রয়োগ কখন হয়েছিল?

২০১৮ সালে গুজরাটে এই আইনের আওতায় নোটিফিকেশন জারি করে খেদকর্মাসিয়া গ্রামকে কলেরা অধ্যুষিত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে চণ্ডীগড়ে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গির মোকাবিলায় এই আইন প্রয়োগ করা হযেছিল। ২০০৯ সালে পুনেতে সোয়াইন ফ্লু আটকাতে গোটা শহরের সমস্ত হাসপাতালগুলিতে পরীক্ষার জন্য ২ নং ধারা প্রয়োগ করা হযেছিল।