আগামীকাল রাজ্যজুড়ে কার্যত লকডাউন, একনজরে দেখে নিন কী কী খোলা থাকছে

0

দিন দিন বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা মোকাবিলায় তাই দু’সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। করোনা সংক্রমণ রোধে আগামিকাল রবিবার থেকে রাজ্যে ফের আরও এক দফা কড়া বিধিনিষেধ জারি হচ্ছে৷ শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত। সেই অনুযায়ীই সকলকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। নইলে মহামারি আইনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই নির্দেশিকা জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রবিবার থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত, ১৫ দিনের জন্য সরকারি, বেসরকারি দফতর বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করল নবান্ন। লোকাল ট্রেন আগেই বন্ধ ছিল এ বার বাস এবং মেট্রো, অটো, ট্যাক্সি এবং ফেরি পরিষেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বন্ধ থাকবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

বন্ধ, শপিং, রেস্টুরেন্ট, সুইমিং পুল, বিউটি পার্লার বন্ধ। খুচরো দোকান, সবজি-ফল-মুদিখানা-দুধ ও মাংসের দোকান সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মিষ্টির দোকান সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিধিনিষেধ পরিবহনেও। লোকাল ট্রেন, মেট্রো, বাস, লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ। বন্ধ পার্ক, চিড়িয়াখানাও।

রাজ্যের অন্দরে খাদ্যসামগ্রীর ট্রাক ছাড়া অন্যান্য ট্রাক চলাচল বন্ধ। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বেরোনো যাবে না। বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি নয়। ব্যাঙ্ক খোলা সকাল ১০টা থেকে ২টো। চালু থাকবে হোম ডেলিভারি ও ই কমার্স।

এই মুহূর্তে রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারের উপরেই ঘোরাফেরা করছে। দৈনিক মৃত্যুও ১০০-র উপরেই রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আরও দু’সপ্তাহের জন্য কড়াকড়ি চালু করল রাজ্য সরকার।

এ দিন রাজ্য সরকার যে ঘোষণা করেছে, সেই অনুযায়ী, স্বাস্থ্য, আদালত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সংবাদমাধ্যম, সাফাই, পেট্রোল পাম্প, গাড়ির যন্ত্রাংশের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী পরিষেবাই একমাত্র চালু থাকবে। এ ছাড়া বাকি সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি দফতর বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে শপিং মল, শরীরচর্চা কেন্দ্র, সুইমিং পুলও।

রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, সৎকারে ২০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। বিয়েবাড়িতে ৫০ জনের বেশি জমায়েত করতে পারবেন না। ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে ২টো পর্যন্ত। মুদিখানা এবং বাজার খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। হোটেল, রেস্তরাঁ আগের মতোই বন্ধ থাকবে। তবে খাবার এবং পণ্য বাড়িতে সরবরাহ করা যাবে। সমস্ত ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশ বন্ধ থাকবে।