ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় বজ্র-বিদ্যুত্‍ সহ তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস

একুশের বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এমনিতেই রাজ্য-রাজনীতির পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তার উপর আবার আবহাওয়াও রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে! এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই তীব্র তাপদাহে বেজায় অস্বস্তিতে রাজ্যবাসী। সূর্যের চোখ-রাঙানিতে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ এর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নাকি রাজ্যের তাপমাত্রার পারদ বাড়তে বাড়তে ৪০ ডিগ্রির পারদ স্তম্ভ ছুঁয়ে ফেলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর! তবে এই উদ্বেগজনক খবর শোনানোর পাশাপাশি রাজ্যবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত সুসংবাদও প্রদান করেছে হাওয়া অফিস।

আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সর্তকতা জারি করা হয়েছে ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে। এই দুই জেলায় শুক্রবার বিকাল বেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। একই রকম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে পুরুলিয়ার একাংশের ক্ষেত্রেও।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে বঙ্গে। সমগ্র এপ্রিল মাসে এ পর্যন্ত কেবল দুটি কালবৈশাখীর সাক্ষী হয়েছে বাংলা। তবে এপ্রিল মাসের শেষ ভাগে অবশ্য বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে বাংলা।

তবে শুধু ২৪ ঘণ্টাই নয়, আগামী ৪৮ ঘন্টা জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। শনিবার এবং রবিবার ঝড় বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতাসহ জেলাগুলিতে এখনই ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকলেও বিকেলের পর থেকেই হালকা ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে।

যার ফলে রাতে অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত। বিকেলের পর থেকে অবশ্য দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ছিটে ফোঁটা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে সন্ধ্যার পরই শহরে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর গণেশ কুমার দাস জানাচ্ছেন, সকালে কিংবা বিকেলের দিকে তাপমাত্রার পারদ চড়বে। শুক্রবার থেকে বিকালের পর থেকে অবশ্য দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কলকাতাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর, ২ রা মে এর পর কলকাতায় কালবৈশাখী আছড়ে পড়তে চলেছে।