ধেয়ে আসছে প্রবল বৃষ্টি, অতিবৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্যের এই ১০ জেলা

এমনিতেই গত ২০ মে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফান একেবারে তছনছ করে দিয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গকে। তারমধ্যে আবার এই প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্যবাসীর কপালে।

মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের জন্য। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী ৪৮ ঘন্টায় উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতের জন্য লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুতের সর্তকতাও জারি করা হয়েছে।

রবিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬ জনের। যাদের মধ্যে ২ জন বীরভূম জেলার এবং বাকি ৪ জন ঝাড়গ্রাম ও মুর্শিদাবাদের। এছাড়াও গতকাল বজ্রবিদ্যুতের কারণে আহত হয়েছেন মোট ১৩ জন। যে কারণে অফিসের আগাম পূর্বাভাস অনুযায়ী সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে হবে।

মৌসুমী বায়ুর অক্ষরেখার পূর্বাংশ বর্তমানে হিমালয়ের কাছাকাছি আসছে। আর হিমালয়ের কাছাকাছি মৌসুমী বায়ুর অক্ষরেখার পূর্বাংশ আসার কারণে উত্তরবঙ্গ ও সিকিম জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে দখিনা বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম বাতাসে ভর করে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প নিয়ে হাজির হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। আর এর ফলেই আগামী তিন চারদিন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তারা জানিয়েছে, আগামিকাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। তাই ‘রেড ওয়ার্নিং’ জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে। তরাইয়ের নিচু এলাকা জলমগ্ন হতে পারে এবং কিছু জায়গায় বানভাসি পরিস্থিতির জেরে সড়ক যোগাযোগ আটকে যেতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম বর্ধমানে সোমবার ও মঙ্গলবার বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকবে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সোমবার থেকেই অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।