শন শন করে বইবে হাওয়া, ৪৮ঘণ্টায় ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

কয়েক দিন ধরেই দিনভর মেঘলা আকাশ আর ভ্যাপসা গরম। নাজেহাল অবস্থায় ভুগছিলেন বঙ্গবাসী। অবশেষে মিলল স্বস্তির খবর। রাজ্যে ঢুকল বর্ষা।  আবহাওয়া দফতরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে কিছুটা দেরিতে এলেও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা স্বাভাবিক সময়েই পৌঁছে গিয়েছে।

গত বছরের তুলনায় ১০ দিন আগে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের হাত ধরে বর্ষা এল রাজ্যে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার ঢুকেছিল ২১ শে জুন। মৌসম ভবনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢোকার কথা জলপাইগুড়িতে ৭ জুন এবং শিলিগুড়িতে ৯ জুন।

উত্তরবঙ্গে কিছুটা দেরিতে হলেও দক্ষিণবঙ্গে একেবারে সূচি মেনেই বর্ষা। যদিও আবহাওয়া দপ্তর বঙ্গে বর্ষা স্বাভাবিকই দাবি করছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ১১ জুন বর্ষা ঢোকার কথা দক্ষিণবঙ্গে। সেখানে বর্ষা এসেছে ১২ জুন। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে দফায় দফায় বৃষ্টি। আগামী ৪৮ ঘন্টা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে।

উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ,জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও। দক্ষিণবঙ্গের জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস। বাদবাকি জেলায় হালকা মাঝারি বৃষ্টি হবে।

শনিবার ভোর থেকেই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়েছে হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া ইত্যাদি জেলার বিভিন্ন অংশে। তবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে এখনো সেভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। যে সকল এলাকায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়েছে সেখানে বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে ঝড়ো হওয়া। দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া ইত্যাদি জেলাগুলিতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে এই সকল এলাকায় এখনো পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যায়নি।

শনিবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১° বেশি। শনিবার ও রবিবার কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে হাওয়া অফিস।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ও মালদহের বাকি অংশ এবং দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতে প্রবেশ করবে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দক্ষিণের থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি অপেক্ষাকৃত বেশি হবে। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। দক্ষিণের দু এক জায়গায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।