ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে আসছে ঝড়, চলবে তাণ্ডবলীলা

2178

শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব দেখা যাবে এই বার্তা আগেই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন থেকে রাজ্যের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় সেই কালবৈশাখী তাণ্ডব সাথে ব্যাপক বৃষ্টি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিনেই একইভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাডারে ধরা পড়া ছবি অনুসারে দেখা যাচ্ছে ছোটনাগপুর মালভূমির উপর তৈরি হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ। এই ছোটনাগপুর মালভূমির উপর তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভের কারণে সন্ধ্যার পর সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়বে পুরুলিয়া জেলায় বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও বৈকাল বেলায় পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল ও বাঁকুড়ায় ঝড় বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে সন্ধ্যার পর রয়েছে কালবৈশাখি সম্ভাবনা। রাতে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়াতে কালবৈশাখী হানা দিতে পারে। আর গভীর রাতে নদীয়া, ২৪ পরগনা এবং কলকাতাতে হানা দিতে পারে কালবৈশাখী।

আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে যে, যত রাত বাড়বে বজ্রগর্ভ মেঘ পূর্ব দিকে অবস্থান করবে। কালবৈশাখী ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সঙ্গে রয়েছে বজ্রপাতেরও সর্তকতা।

এই নিয়ে চলতি মৌসুমে বাংলা জুড়ে আটটি কালবৈশাখী হানা দিয়েছে। গত রাতেই কালবৈশাখী তাণ্ডব দেখা গিয়েছে কলকাতা, ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরের একাংশের উপর।

আবহাওয়া দপ্তরের থেকে এও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে আগাম বেশ কয়েকদিন আগে থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব, কিন্তু কালবৈশাখীর ক্ষেত্রে তা হয় না। এমনকি এই মরশুমে পূর্বাভাস সব সময় বাস্তবায়িত হয় না।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় এ রাজ্যের জেলা গুলিতে ঝড়-বৃষ্টি দেখা দেয়। কিন্তু এপ্রিলে এখনো পর্যন্ত তেমন জোরালো ঝড় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দেখা পাওয়া গেলেও দক্ষিণবঙ্গে তা নজর কাড়তে পারেনি। এমনিতেই এপ্রিল এবং মে এই দুই মাসে কাল-বৈশাখী প্রবণ।

Loading...