পেটের দায়ে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য রাস্তায় ভিক্ষা করছেন উত্তমকুমারের সহ-অভিনেতা

2508

রুপোলি পর্দার জগত বাইরে থেকে  ঠিক যতটা সুন্দর, এর ভেতরে ঠিক ততখানি যন্ত্রণা আর হাহাকার লুকিয়ে আছে। অল্প বয়সে যেসকল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে মনোরঞ্জন করে থাকেন শেষ বয়সে তারাই কাজ না পেয়ে নিদারুণ অর্থকষ্টে জীবনযাপন করেন, রুপোলি পর্দার জগতে এরকম উদাহরণ কিছু কম নেই, সম্প্রতি প্রবীন অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের উদাহরণ ইন্ডাস্ট্রির ঝলমলে আলোর তলায় সেই অন্ধকারদিকটিকেই তুলে ধরলো।

অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল যিনি একসময় ‘প্রতিশোধ’ ছবিতে মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে সহ-অভিনেতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন,যিনি ‘নহবত’ নাটকে ‘বরের পুরুত’হয়ে মাতিয়ে দিয়েছিলেন দর্শকদের, তাকেও আজ কাজ না পেয়ে অর্থকষ্টে পড়ে হাত পাততে হচ্ছে। প্রবীণ অভিনেতার এই আর্থিক দুর্দশার সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী ও ‘জিয়ন কাঠি’ধারাবাহিকের অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা।

ছেলে, বৌমা, নাতিকে নিয়ে গৌরী বাড়ির ২ কামরার জরাজীর্ণ বাড়িতে থাকেন অভিনেতা। গতবছর করোনার জন্য ছেলেও কাজ হারিয়েছেন। এদিকে ৭০ বছর বয়সের এই অভিনেতাকে শেষ অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল জি বাংলার ‘সৌদামিনীর সংসার’ ধারাবাহিকে।

তারপর থেকে আর কাজের সুযোগ পাননি তিনি। অথচ এই শঙ্করবাবু‌ই অল্প বয়সে সলিল চৌধুরীর সাথে বোম্বে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাকে ভালবেসে ইমোশনের জন্য যেতে পারেননি তিনি। সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন!আর আজ অভিনয়ের সুযোগ পান না তিনি।

কাজের অভাবে আগে একটা সময় রাস্তায় রাস্তায় জিনিসপত্র ফেরি করতেন অভিনেতা। কিন্তু বয়সজনিত কারণে এখন আর তা পারেন না এদিকে তার কাজ নেই,বাড়িতে খাবার নেই। তাই বাধ্য হয়ে হাতিবাগানের মত জনবহুল অঞ্চলের রাস্তায় সাহায্যের আশায় হাত পেতে ছিলেন অভিনেতা।

সম্প্রতি তিনি খবর পেয়েছিলেন যে, দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছেন মহাপীঠ তারাপীঠ ধারাবাহিকের সাধক বামা অর্থাৎ সব্যসাচী। বছর দুই আগে সেই ধারাবাহিকেই সব্যসাচীর সাথে তিন দিনের একটি ছোট্ট অভিনয় করেছিলেন শঙ্কর বাবু,তাই সাহায্যের আশায় তিনি যোগাযোগ করেন। খবর পেয়েই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সব্যসাচী ও ঐন্দ্রিলা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Aindrila Sharma (@aindrila.sharma)

সব্যসাচী ও ঐন্দ্রিলা সাহায্য করার পর নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবীণ অভিনেতার জীবন যন্ত্রণা শেয়ার করে  সকলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার অনুমতি চান। এই অনুমতি প্রসঙ্গে অভিনেতাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অনুমতি দিয়ে বলেন, “আমি বহুদিন আগেই লজ্জা পাওয়া ছেড়ে দিয়েছি ভাই,তবে নিজেকে মাঝে মধ্যে ছোটো লাগে,তবু ভাবি অন্যায় তো করছি না,চেয়ে খাচ্ছি এই যা।” প্রবীন এই অভিনেতা সব্যসাচীকে আক্ষেপ করে বলেন, “তুমি কিন্তু সুযোগ পেলেই কলকাতা ছেড়ে চলে যেও,এখানে কিছু অবশিষ্ট নেই,সম্মানটুকুও না।”