প্রেমের সপ্তাহে কোন দিন কী দিবস? কেন পালন করা হয়? জানুন খুঁটিনাটি

451

শুরু হল প্রেমের সপ্তাহ। ভ্যালেন্টাইনস ডের সাতদিন আগে থেকেই শুরু হয় ভালবাসার সপ্তাহ। প্রতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি ‘রোজ-ডে’ পালন করে ভ্যালেন্টাইন-উইকের শুরু।
৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে দিয়েই শুরু হলো ভালবাসা সপ্তাহ। আগামী এক সপ্তাহ প্রেমের জোয়ারে ভাসবে বিশ্ব।

৭ ফেব্রুয়ারি – রোস ডে বা গোলাপ দিবস

লাল রঙে, সুন্দর গন্ধের সুবাসে শুরু হল প্রেমের সস্তাহ। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের আজ প্রথমদিন ‘রোজ ডে’ মানে গোলাপ দিবস। আসলে প্রেম তো নিবেদন দিয়েই শুরু হয়। আসুন জেনে নিন কোন কোন গোলাপ কী মানে বহন করে –

  • লাল গোলাপ- সময় বদলেছে। বদলেছে প্রেমের ধরনও। কিন্তু আজও লালা গোলাপ দিয়েই শুরু হয় প্রেমের নিবেদন। ভালোবাসার প্রতীক লাল গোলাপ।
  • হলুদ গোলাপ- বন্ধুত্বের প্রতীক হলুদ গোলাপ। তাই আপনার জীবনে প্রিয় বন্ধু গুরুত্ব বোঝাতে তাকে আজ দিতে পারেন এক গুচ্ছ গোলাপ।
  • গোলাপি গোলাপ- কৃতজ্ঞতার প্রতীক গোলাপি গোলাপ। প্রিয় বন্ধু, নির্ভরযোগ্য সঙ্গীকে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলতে পারেন গোলাপি গোলাপ দিয়ে।
  • সাদা গোলাপ- সাদা ফুল আমরা সাধারণত শোকজ্ঞাপনে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু খ্রিষ্টান মতে বিয়ের সময় কনের হাতে দেওয়া হয় একগুচ্ছ সাদা গোলাপ। কারণ এই ফুল নতুন জীবন শুরুর প্রতীক। এছাড়া কাউকে মিস করলে আপনি তাঁকেও সাদা গোলাপ পাঠিয়ে জানাতে পারেন মনের ভাষা।

৮ ফেব্রুয়ারি – প্রপোজ ডে

গোলাপ দিবসের পর আসে প্রপোজ ডে বা প্রতিশ্রুতি দিবস। প্রপোজ ডে’ বা প্রেম নিবেদনের দিন হিসেবে দিনটিকে কেন পালন করা হয়? এ প্রশ্নের উত্তরে বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর যেটি উঠে এসেছে- ভ্যালাটাইন ডে-এর গোটা সপ্তাহটিকে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন উইক বা ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ হিসেবে। এ সপ্তাহের প্রতিটি দিন প্রেমের এক একটি প্রতীককে সামনে রেখে আদতে প্রেমের উদযাপন করা হয়। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের শুরুতে রোজ ডে, এরপর যথাক্রমে প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিজ ডে, হাগ ডে, কিস ডে এবং সবশেষ ভ্যালেন্টাইন ডে (১৪ ফেব্রুয়ারি)। যদিও ঐতিহাসিক ভাবে এ দিনে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া নিয়ে কোনো প্রথার নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি, তবে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই একটু বেশি রোমান্টিক।

৯ ফেব্রুয়ারি – চকোলেট ডে

রোজ ডে, প্রপোজ ডে’র পর চকোলেট ডে। ভ্যালেন্টাইন’স সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন চকোলেট দিবস। ভালবাসার সম্পর্কটাকে আরও বেশি চকোলেটি করে তোলার লক্ষ্যে এই দিবস পালন।

১০ ফেব্রুয়ারি – টেডি ডে

চকোলট ডে-র পরদিন আসে টেডি ডে। ভালবাসার উপহার হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় টেডি বেয়ার। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই সফট টয়-এর জন্মের পিছনে রয়েছে এক দারুণ গল্প। কী ভাবে জন্ম হল টেডি বেয়ারের। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে শিকারে বেরিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। মিসিসিপি ও লুসিয়ানিয়ার সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তখন জর্জরিত তিনি। অনেকক্ষণ খুঁজেও সে দিন ভাল শিকার পাননি রুজভেল্ট। এ দিকে নিশপিশ করছে রাইফেলেন ডগা। প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তাঁর সঙ্গীসাথীরা ধরে আনেন এক লুসিয়ানিয়া কালো ভল্লুক ছানা। কিন্তু গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রাখা ভল্লুক ছানার উপর গুলি চালাতে মন চায়নি রুজভেল্টের। ছোট্ট ছানাটিকে ছেড়ে দেন তিনি।

১১ ফেব্রুয়ারি – প্রমিস ডে

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন হল প্রমিস ডে। প্রতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় এই প্রমিস ডে। প্রেমের সপ্তাহের পঞ্চম দিন উদ্যাপন করা হয় এই প্রমিস ডে। সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রতিশ্রুতি। নিজেদের সম্পর্ককে আরও মজবুত আঁটসাট করতে এর থেকে ভাল উপহার আর কী হতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারি – হাগ ডে

ভালোবাসা সপ্তাহে হাগ ডে প্রিয়জনকে আলিঙ্গনের দিন। প্রিয়জনকে আপনার জড়ানোর কায়দাই বুঝিয়ে দেবে আপনি তাকে কতটা ভালোবাসেন এবং তাকে আপনি সমস্ত বিপদের থেকে কতটা আগলে আগলে রাখেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি – কিস ডে

কিস্ এই একটা শব্দ উচ্চারণ করলে করলেই যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরণ জাগে!
অনেকদিন ধরে ওকে আপনার ভাল লাগছে আস্তে আস্তে? বলতে কেমন যেন ইতস্ততঃ বোধ করছেন! তবে আর দেরি না করে কোমল চুম্বনের স্পর্শে সেই উপচে পড়া আবেগে ভরিয়ে দিন ওর হৃদয়। কোনও কথা না, কোনও লেখা না, না কোনও এসএমএস, চ্যাট, ফেসবুক বা ই-মেল, স্রেফ একটি উষ্ণ চুম্বনের সাহায্যে আজকের কিস্ ডে’র সুন্দর দিনে তার সামনে মেলে দিন মনের মণিকোঠা।

আরও পড়ুন ঃ ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা যাবে না, পালন করতে হবে সিস্টারস ডে

আরও পড়ুন ঃ ভ্যালেন্টাইন ডে কি এবং কীভাবে শুরু হল তার কাহিনী

১৪ ফেব্রুয়ারি – ভ্যালেন্টাইন্স ডে

খ্রিষ্ট ধর্মে পুরোহিতদের জন্য বিয়ে করা বৈধ নয়। তাই পুরোহিত হয়ে মেয়ের প্রেমে আসক্তি খ্রিষ্ট ধর্মমতে অনৈতিক কাজ। তা ছাড়া, ভালোবাসার কারণে ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে যেতে হয়নি। কারণ, তিনি কারারক্ষীর মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন কারাগারে যাওয়ার পর। সুতরাং, ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ডদানের সাথে ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই ভ্যালেন্টাইনের কথিত ভালোবাসা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বিষয় ছিল না। বরং ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তার মৃত্যুদণ্ডের কারণ ছিল।

Loading...