“আমি নিজে যতদিন না যাচ্ছি, আমায় সরানো সহজ নয়”, চ্যালেঞ্জ মমতার

একুশের মহারণে সম্মুখ সমরে বিজেপি এবং তৃণমূল। আজ রাজ্যজুড়ে তৃতীয় দফার নির্বাচন শুরু হচ্ছে। এখনো পাঁচ দফার নির্বাচন বাকি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহল নিজ নিজ দলের হয়ে ভোটের প্রচারে ব্যস্ত। বিজেপির তরফ থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা প্রায়শই বাংলায় এসে প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিন্তু এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই।

গত রবিবার হুগলির পুরশুড়ায় তৃণমূলের তরফ থেকে আয়োজিত প্রচার সভায় অংশগ্রহণ করে বিজেপিকে কার্যত তুলোধোনা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “”আমি যতদিন নিজে না যাচ্ছি, আমায় সরানো সহজ নয়। বিজেপি বলছে, রাজ্যে পরিবর্তন আনবে। পরিবর্তন তো আমাদের স্লোগান। ছ’বছর ধরে তো দিল্লিতে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। কী করেছে বিজেপি? কাজই তো হল রোজ মিথ্যা কথা বলা, দাঙ্গা লাগানো আর চক্রান্ত করা।”

শুধু তাই নয়, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও সরাসরি আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‌””আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। কিন্তু এত বাজে প্রধানমন্ত্রী, এত বাজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখিনি, যাঁরা সরকারে থেকে মানুষকে খুন করেন। রোজ বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস নাকি দেশপ্রেমী নয়। বিজেপি দেশপ্রেমী?‌ দিল্লিতে কত লোককে খুন করেছ?‌ অসমে কত লোককে খুন করেছ? ‌গুজরাত বাংলা শাসন করবে?‌ গুজরাত বাংলা শাসন করবে না। বাংলাই বাংলা শাসন করবে।”

প্রসঙ্গত, হুগলির পুরশুড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ এক অন্যতম বড় ইস্যু। সেই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে পুড়শুড়াবাসীকে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, “”আগে তো বন্যা হলে এসব এলাকা পুরো ডুবে দেত। ঝাড়খণ্ডে বন্যা হলেই জল ছেড়ে দেয় বাংলায়। তবে এখন অনেকটা কমেছে। এবারে ক্ষমতায় এলে আরামবাগ মাস্টার প্ল্যান করা হবে।এছাড়া দামোদরের তীরে নিম্নবর্তী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।”

এই দিনের প্রচার সভায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‌””আপনারা কি বাড়ি বাড়ি রেশন চান? বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড পৌঁছে যাক চান? তাহলে তৃণমূলকে ভোট দিন।কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পাচ্ছেন। ক্ষমতায় এলে ওটা ১০,০০০ টাকা করা হবে। এছাড়াও ১০ লাখ মেয়েদের নিয়ে রাজ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হবে। বাড়ির মেয়েদের প্রতি মাসে ৫০০ থেকে হাজার টাকা হাত খরচা দেবে সরকার। ছাত্রছাত্রীরা যাতে বিভিন্ন নামী, দামী জায়গায় পড়াশুনো করতে পারে, সেজন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড করা হবে।”