পাননি দাম্পত্য সুখ, মেলেনি স্ত্রীর মর্যাদা, নিঃসঙ্গ নিঃসন্তান জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী জয়াপ্রদা

Jaya Prada Tragic Love Story

৮০ এর দশকের অভিনেত্রীদের মধ্যে শ্রীদেবীর পাশাপাশি জয়াপ্রদাকে (Jaya Prada) নিয়েও জোর চর্চা ছিল বলিউডে (Bollywood)। বলিউডের এই অসাধারণ সুন্দরী এবং দক্ষ অভিনেত্রী একাধারে তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালাম, বাংলা, মারাঠি, হিন্দি ছবিতে কাজের সূত্রে ভারতীয় সিনেমা জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে উঠেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার রূপের খ্যাতি ছিল জগৎজোড়া। ১৯৭০ দশকে প্রথম বলিউডে পা রাখেন তিনি। তারপর বেশ কয়েক দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে জমিয়ে কাজ করেছেন অভিনেত্রী।

১৯৭০ এর দশকের গোড়ার দিকে বলিউডে এবং ১৯৮০ এর দশকের গোড়ার দিকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন জয়াপ্রদা। তৎকালীন সময়ে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করে জয়া খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান। তবুও বলিউড থেকে কখনও তেমনভাবে স্বীকৃতি পাননি তিনি। তৎকালীন সময়ে বলিউডে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শ্রীদেবী। বলিউডে তখন শ্রীদেবী এবং জয়াপ্রদার মধ্যে জোর টক্কর চলতো।

২ দশকের ফিল্মি কেরিয়ারে মাত্র ৩টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জুটেছিল জয়াপ্রদার ভাগ্যে। একদিকে কেরিয়ার অপরদিকে ব্যক্তিগত জীবন, উভয় ক্ষেত্রেই বারবার বঞ্চিত হতে হয়েছে এই বলিউড সুন্দরীকে। প্রযোজক শ্রীকান্ত নাহাটার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং প্রেমের পর তিন সন্তানের বাবা শ্রীকান্তকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন জয়াপ্রদা। জয়া যখন আয়কর সংক্রান্ত একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, তখন তাকে সাহায্য করেছিলেন শ্রীকান্ত।

Jaya Prada Husband

শ্রীকান্ত বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও জয়াপ্রদা তাকেই বিয়ে করেন। এদিকে শ্রীকান্ত তার প্রথম স্ত্রীকেও ডিভোর্স দেননি। বিয়ের পরপরই জয়া বলিউড ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। শুধু সংসারে মন দেন তিনি। তবে তাতেও প্রতি পদে পদে বঞ্চিত হয়েছেন জয়াপ্রদা। মা হতে চেয়েছিলেন, হতে পারেননি। পরবর্তীতে বোনের ছেলেকে দত্তক নিয়ে মানুষ করেন তিনি। এদিকে প্রথম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স না হওয়ায় জয়াপ্রদা বরাবর শ্রীকান্তের জীবনের দ্বিতীয় নারী হিসেবেই থেকে গিয়েছেন। স্ত্রীর মর্যাদা পাননি।

Jaya Prada Son

স্বয়ং সত্যজিৎ রায় তার রূপের প্রশংসা করে বলেছিলেন, “তিনি ভারতীয় রুপোলি পর্দার খুব সুন্দর মুখ”। এহেন অভিনেত্রীর কেরিয়ার যখন শীর্ষ শিখরে পৌঁছেছিল, ঠিক সেই সময়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তেলুগু দেশম পার্টি তথা টিডিপির হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০০৪ থেকে শুরু করে টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রামপুর কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালে বিজেপি দলে যোগ দেন তিনি। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রামপুর আসন থেকে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন জয়াপ্রদা।