দীপিকার জীবনের ৭টি বিতর্কিত অধ্যায়, ৪ নম্বরটি অত্যন্ত লজ্জাজনক

বর্তমানে বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম দীপিকা পাড়ুকোন। তার ভক্তদের সংখ্যাও অগুনতি। “ওম শান্তি ওম’ থেকে “ছাপাক’ পর্যন্ত তার যাত্রায় বারবারই নানান বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে তাকে। তবে দীপিকা যে বিতর্কে জড়াতে ভয় পাননা।

বলা হয়, গ্ল্যামের জগতে প্রবেশ করলে বিতর্ক আপনা থেকেই সঙ্গী হয়ে যায়। আলোচনা, সমালোচনা, নিন্দা, বিতর্ক এসবের সঙ্গেই ভালভাবে পরিচিত তারকারা। এমন কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়তো নেই যিনি একবারের জন্যও বিতর্কে জড়াননি। এই তালিকায় রয়েছেন দীপিকা পাডুকোনও। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দীপিকার জীবনের নানান বিতর্ক।

১. জেএনইউ বিতর্ক :  দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদের প্রতিবাদ সভায় তাদের সমর্থন জানাতে উপস্থিত হন দীপিকা পাড়ুকোন। দীপিকা সেই সময় নিজের ছবি ছপাক এর প্রমোশনের জন্য দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন এবং তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

অনেকের মতে এটি একটি পাবলিসিটি স্টান্ট ছিল। এরপর তার ছবি বয়কটের ডাক ইউটিএইচই সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেওওয়াইইকে মাস পর প্রাক্তন RAW অফিসার এন কে সুদ বলেন যে এই কাজের জন্য দীপিকা পাডুকোন পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বন্ধু অনিল মুসারাত এর থেকে ৫ কোটি টাকা পেয়েছিলেন।

২. পদ্মাবত বিতর্ক : রানী পদ্মাবতীর জীবনের ওপর অধারিত ছবি পদ্মাবত মুক্তির আগে খুব বড় একটি প্রতিবাদের সন্মুখীন হয়। সেই সময় কর্ণী সেনার মানুষরা এই ছবির মুক্তি বন্ধ করার দাবি জানায় কারন তাদের বিশ্বাস ছিল যে এই ছবিতে তাদের রানী পদ্মাবতীকে ঠিকভাবে তুলে ধরা হবেনা।

নাম চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নানান অভিযোগ ওঠে দীপিকার নামেও। অবশেষে কিছু মাসের জন্য ছবির মুক্তি পিছিয়ে ছবিটি পদ্মাবতীর জায়গায় পদ্মাবত নামে মুক্তি পায়।

৩. রাম লীলা বিতর্ক : এই ছবি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টি করে। অনেকেই এই ছবি বয়কটের দাবি তোলে। বিতর্কের মূল কারন এই ছবিটির নাম “রাম লীলা’। এর জন্য পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির, দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং এর বিরুদ্ধে জলন্ধর পুলিশ স্টেশনে এফআইয়ার ফাইল হয়। পরবর্তীকালে ছবির সম্পূর্ণ নাম বদলে রাখা হয় “গোলিও কি রাসলীলা রামলীলা’। ছবির পরিচালক জানান যে এই ছবিটি রোমিও জুলিয়েট থেকে অনুপ্রাণিত, মূল চরিত্র রাম কোনোভাবেই ভগবান রামের সাথে তুলনীয় নয়।

 

৪. ক্লিভেজ বিতর্ক : টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি ট্যুইটে দীপিকার একটি ছবি আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা হয় “OMG! Depeeka Padukone cleavage show!’.  এর পরই নানান মহলে সমালোচনার ঝড় উঠতে থাকে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের নিতিপুলিশরা এই নিয়ে শোরগোল শুরু করে। তবে দীপিকা এই বিষয়টিকে খুব ভালোভাবে সামলে নেন। তিনি ট্যুইট করে বলেন ” হ্যা, আমি একজন নারী, আমার ব্রেষ্ট এবং ক্লিভেজ আছে।আপনাদের তাতে কোনো সমস্যা আছে?’

৫. দম মারো দম বিতর্ক : দীপিকা দাম মারো দাম ছবির জন্য ওই একই শিরোনামের একটি আইটেম নম্বরে নাচ করেন। অনেকেই তাকে তার নাচের জন্য প্রশংসা করলেও গানে ব্যবহৃত কথার জন্য বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এমনকি এই গানটি যে আসল গানের রিমেক ছিল তাতে জিনাত আমান অভিনয় করেছিলেন, তিনিও এই গান পছন্দ করেননি।

৬. কন-ডম বিতর্ক : প্রাক্তন প্রেমিক রণবীর কাপুরের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের পর বহুবারই মুখ খুলেছেন প্রাক্তনের সম্পর্কে। একবার রণবীরের সম্পর্কে বলতে গিয়ে কফি উইথ করণ-এ বিষ্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তিনি। প্রাক্তন প্রেমিককে সবসময় পকেটে ক-ন্ডো-ম নিয়ে ঘোরার পরামর্শ দেন অভিনেত্রী।

এর আগে দীপিকা জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন বহুবার তাঁর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন রণবীর। শুধু তাই নয়, দীপিকা যাতে সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে না যান তার জন্য তাঁর হাতে পায়েও ধরেন রণবীর। তাই এতদিন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে জানান দীপিকা।

৭. মাদক বিতর্ক : অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তের সূত্র ধরেই মাদক চক্রে সম্প্রতি নাম উঠলো দীপিকা পাডুকোনের। জানা যাচ্ছে একটি WhatsApp চ্যাটের ভিত্তিতেই মাদক চক্রে নাম জড়িয়েছে দীপিকার। চ্যাটে দীপিকা কিওয়ান ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির করিশ্মা প্রকাশের থেকে মাল (চরস,গাঁজা জাতীয় মাদক) চেয়েছেন। সেই দিনই মুম্বাই এর কোকো নামের একটি ক্লাবে বলিউডের হ্যালুইন পার্টি চলছিল। কারিশমা দীপিকাকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কখন সেই পার্টিতে পৌঁছবেন, উত্তরে দীপিকা জানান ১১.৩০ থেকে ১২ টা নাগাদ। উল্লেখ্য সেই পার্টিতে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, সোনাক্ষি সিনহা, আদিত্য রায় কাপুরের মতন অভিনেতারা উপস্থিত ছিলেন।