বিশ্বের সর্বোচ্চ স্ট্যাচু, ভারতের “স্ট্যাচু অফ ইউনিটি” সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য

তিনি ছিলেন একতার প্রতীক তিনি সর্বদাই হিন্দু-মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মের সম্প্রীতির কথা তার সারা জীবনের মাধ্যমে এবং তার কর্মের মধ্যে প্রকাশ করেছেন। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াইয়ে মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহেরু প্রমুখের মতোই একজন প্রথম সারির নেতা। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী। তিনি হলেন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল যাকে আমরা জানি “লৌহ মানব  বা  আয়রন  ম্যান অফ ইন্ডিয়া “নামে। আর এই বিশেষ দেশপ্রেমিক মানুষটিকে তার যোগ্য সম্মান দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে এক বিশেষ আবক্ষ মূর্তি বা স্ট্যাচু।

এই স্ট্যাচু ভারত তথা বিশ্বের  সর্বোচ্চ  স্ট্যাচু। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই “স্ট্যাচু কে স্ট্যাচু অফ ইউনিটি” নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের বাসিন্দা ও ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতীয় সশস্ত্র  সেনার প্রথম কমান্ডার ইন চিফ সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে উপযুক্ত সম্মান দেওয়ার জন্য তার জন্মস্থানে করা হয়েছে এই বিশেষ স্ট্যাচু। আগামীকাল ৩১শে অক্টোবর সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তীকে উপলক্ষ করে এই বিশেষ এবং অতুলনীয় ও অদ্বিতীয় স্ট্যাচুর উন্মোচন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ আরো অন্যান্য ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। আসুন জেনে নিই বিশ্বের সর্বোচ্চ স্ট্যাচু, ভারতের “স্ট্যাচু অফ ইউনিটি” সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য

বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির হাত দিয়ে এই স্ট্যাচু টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ৩১ শে অক্টোবর ২০১৩ সালে। অর্থাৎ এই স্ট্যাচু সম্পর্কিত সকল কিছু সম্পুর্ন হতে সময় লাগলো ৫ বছরের মত এক বিরাট সময়।

লার্সেন এবং টুউব্রো লিমিটেড কোম্পানি দ্বারা নির্মিত এই স্ট্যাচুটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২,৯৮৯ কোটি টাকা। স্ট্যাচুটি নির্মাণ করতে ভিতরের দিকে কাঠামোয় ব্রোঞ্জ লেগেছে ১,৭০০ টন, স্ট্যাচুটির বহিঃদেশে ব্রোঞ্জ এর আস্তরণ লেগেছে ১,৮৫০ টন। এছাড়াও মূল কাঠামো তৈরি করতে কংক্রিট সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে ১,৮০,০০০ কিউবিক মিটার। রিইনফোর্সড স্টিল লেগেছে ১৮,৫০০টন  এবং কাঠামো নির্মাণে স্টিল লেগেছে ৬,৫০০ টন।

যদি আপনার উচ্চতা ৫.৬ ফুট হয় তাহলে এই স্ট্যাচুটি আপনার উচ্চতার তুলনায় ১০০গুন বেশি উঁচু। স্ট্যাচুটির উচ্চতা ১৮২মিটার যা আমেরিকার নিউ ইয়র্কে অবস্থিত “স্ট্যাচু অব লিবার্টির” চেয়েও উচ্চতায় দ্বিগুন।

স্ট্যাচুটি নির্মাণ করা হয়েছে নর্মদা নদীর মধ্যখানে। স্ট্যাচুটি সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের গমনরত অবস্থায় কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে। স্ট্যাচুটি বর্তমানের ইঞ্জিনিয়ারিং নির্মাণের এক প্রকার বিষ্ময়। স্ট্যাচু টি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ৩৩মাসের মত সময়।

“স্ট্যাচু অফ ইউনিটি” নামের এই স্ট্যাচু টি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি বেগে প্রবাহিত ঝড়কে প্রতিহত করে স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কোনরূপ ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া। এবং এর সাথে ৬.৬ রিখটার স্কেলের মাত্রার ভূমিকম্পজনিত আঘাত সহ্য করতে সক্ষম হবে এই স্ট্যাচুটি।

ভারতের নইডার স্থপতি রাম ভি সূত্তর এই স্ট্যাচুটি নির্মাণ করেনছেন, এই নির্মাণের ক্ষেত্রে সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের দুহাজার ছবি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং  তাকে যারা সামনে থেকে দেখেছেন এমন ব্যক্তিদেরও সাহায্য নেওয়া হয়েছে। স্ট্যাচুটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যা দূর থেকে দেখলে মনে হবে তিনি সর্দার সরোবর ড্যামের দিকে হেঁটে চলেছেন।

সারা ভারতের লক্ষ লক্ষ গ্রাম থেকে ১৩৫ মেট্রিক টন লোহা নিয়ে আসা হয়েছে এই স্ট্যাচু নির্মাণের জন্য যা এই স্ট্যাচু নির্মাণের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। এই সকল লোহা যা সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসা হয়েছে তা ভারতের একতাকে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এই স্ট্যাচু নির্মাণে।

গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে সেতুটি দর্শনের সুবিধার জন্য কেভাদিয়া শহর থেকে ৩.৫ কিলোমিটার এর একটি হাইওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার জন্য।

স্ট্যাচুটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে সেই” সাধু আইল্যান্ড” এর সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য একটি ৩২০ মিটার লম্বা ডিজাইনার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে।

এই স্ট্যাচুর সাথে সেলফি তোলার জন্য করা হয়েছে এক বিশেষ স্থানের ব্যবস্থা যেখান থেকে এই স্ট্যাচুকে পিছনে রেখে সেলফি সহজেই তোলা যায়।

আরও পড়ুন : ভারতের এই ১০ মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ! কিন্তু কেন?