ভারতের সবচেয়ে কুখ্যাত ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল

সারা বিশ্বের ন্যায় ভারতেও সন্ত্রাসের ইতিহাস বহু পুরানো। দেশভাগের সময় যে সাম্প্রদায়িক  দাঙ্গা দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল, তারফলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয় তা সৃষ্টি করেছে প্রায় সকল প্রকারের সন্ত্রাস। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের মদতে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে চেষ্টা করা হয়েছে সকল প্রকার অস্থিরতা সৃষ্টি করা, যাতে ভারতের মতো বহুমাত্রিক দেশ নিজের উন্নতি করতে না পারে, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় না থাকে। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে খালিস্থানী জঙ্গি সংগঠন থেকে মাওবাদী সকলের জন্ম। আবার জম্মু কাশ্মীরের মতো পৃথিবীর স্বর্গে বারবার দেখা গিয়েছে নানা পাকিস্থান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের নাম ও ভারতীয় সেনা ও সাধারণ মানুষের উপর তাদের বর্বর হত্যালীলা ঘটার ঘটনা। জনমানসে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে আর তাই আমরা দেখেছি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা থেকে যার শুরু হয়ে একক ব্যক্তি হত্যা হিসেবে তার পরেই আসে রাজীব গান্ধীর হত্যা। আবার ঊনিশের দশকে মুম্বাইয়ের বিস্ফোরণ থেকে, ভারতের বিমান অপহরণের ঘটনা ও সাম্প্রতিক সময়ে ২৬/১১ মতো নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলা।ভারতের বিচার ব্যবস্থায় অনেক অপরাধীদের শাস্তি যেমন হয়েছে কঠোরতম, তেমনি অনেক অপরাধীদের আজও ভারতীয় পুলিশ বা সামরিক বিভাগ ধরতে অসমর্থ হয়েছে। আর তাই আজও তারা ভারত সরকারের কাছে হয়ে আছে মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে।

আজ আমরা আলোচনা করবো এমনই ১০ কুখ্যাত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের কথা,যাদের ধরার জন্য আজও ভারত সরকার সমানভাবে সক্রিয়।

dawood-ibrahim-anees-ibrahim
Source

আনিস ইব্রাহিম

এই কুখ্যাত ব্যক্তি জন্ম সূত্রে ভারতীয়।সম্পর্কে সে দাউদ ইব্রাহিমের ভাই এবং তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর। ১৯৯৩ সালের মুম্বাইয়ের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের একজন ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে তার নাম আসে সংবাদের শিরোনামে। বিস্ফোরণের পর থেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।বর্তমানে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’এর মতে পাকিস্থানে আশ্রয় নিয়ে আছে। ২০০৯ সালে একবার খবর প্রকাশিত হয় যে পাকিস্তানের করাচিতে তার বিরোধী দলের লোকেরা তার উপর গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে।এই অপরাধী নারী চালান থেকে মাদক দ্রব্য চোরাচালান কাজে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছে বলে গুপ্তচর সূত্রের খবর।

Source

সাজিদ মীর

একজন পাকিস্থানী নাগরিক ,যাকে ধরা হয় প্রচন্ড ধূর্ত।এই লস্কর ই তৈবার কমান্ডার  ভারতে প্রবেশ করে ২০০৫ সালে একজন ক্রিকেট সমর্থক হিসাবে।তাকে ২৬/১১ মুম্বাই আক্রমণের একজন অন্যতম কুচক্রী হিসেবে ধরা হয়। ডাবল এজেন্ট আমেরিকান নাগরিক ডেভিড হেডলির সাথে তার নাকি যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। হেডলি তার যাবতীয় গোপনীয় তথ্য মীরকে জানাতো।এই গোটা ঘটনাটা তারা ইন্টারনেটের সাহায্যে করত অত্যন্ত গোপনে।বর্তমানে ভারতের এই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী আছে পাকিস্তানের আশ্রয় নিয়ে।

 

মাজুর ইকবাল

এই কুখ্যাত জঙ্গি  ২৬/১১ মুম্বাইয়ের আক্রমণের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী।যদিও পাকিস্তানের সেনার ও  পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা ISI এর অন্যতম রাঙ্কড অফিসার।তিনি ডেভিড হেডলির মতো জঙ্গিকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন।এছাড়াও তাকে সবরকম  প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।বর্তমানে এই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড পাকিস্থানে আছে পাকিস্থান সরকারের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিয়ে।

ইলিয়াস কাশ্মীরি

এই জঙ্গি বর্তমানে অন্যতম নেতা হারকত -উল- জিহাদি নামের এক ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের ।এছাড়াও পূর্বে আল কায়দার মতো উগ্র জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।ভারতের পুনেতে জার্মান বেকারি বিস্ফোরণ,২৬/১১এর মুম্বাই হামলা ,কলকাতায় আমেরিকার দপ্তরে জঙ্গি হানা, এছাড়াও দিল্লী ,মুম্বাই ,বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় এই জঙ্গির প্রত্যক্ষ মদত আছে বলে ধরা হয়।বর্তমানে তারও ঠিকানা জঙ্গিদের ভূস্বর্গ পাকিস্থানে।

 

সইদ সালাউদ্দিন

এই মোস্ট ওয়ান্টেড হিজবুল মুজাহিদ্দিন নামক জঙ্গি সংগঠনের  প্রধান।জন্মসূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক।তার একমাত্র লক্ষ্য ভারতের হাত থেকে জম্মু কাশ্মীরকে ছিনিয়ে নিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে  পাকিস্তানের ক্ষমতায় নিয়ে আসা।তাই কাশ্মীর উপত্যকা অঞ্চলে আত্মঘাতী জঙ্গি পাঠিয়ে পুলিশ ও সেনাদের সাথে সাথে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করাই এক কুখ্যাত জঙ্গির প্রধান কাজ।

Source

জাকিউর রহমান লাকভি

এই কুখ্যাত পাকিস্থানী নাগরিক  অন্যতম সন্ত্রাসবাদী সংগঠন  লস্কর -এ-তৈয়াবা এর প্রতিষ্ঠাতা।ভারতে জম্মু কাশ্মীরের বেশিরভাগ সন্ত্রাসবাদী হামলায় এই জঙ্গি সংগঠনের মদতেই হয়ে থাকে।এই জঙ্গি সংগঠন আত্মঘাতী জঙ্গি দ্বারা ভারতে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটায়।মুম্বাইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি আক্রমণের ঘটনায় এই সংগঠনের আত্মঘাতী সদস্য দ্বারা করা হয়েছিল বলে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার ধারণা। বর্তমানেও এই সংগঠনের স্লিপার সেল ভারতের জম্মু কাশ্মীর অঞ্চলে দারুণভাবে সক্রিয়।

Hafiz Saeed
Source

হাফিজ সাঈদ

এই মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি একজন পাকিস্থানী নাগরিক।ভারতের মাটিতে জঙ্গি হামলা করার জন্য তৈরি হওয়া অনেক জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে  লস্কর -এ-তৈয়াবা ও জামা -উদ -দাওয়ার প্রধান মাথা তিনি।বর্তমানের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত এই ব্যক্তির প্রভাব ও প্রতিপত্তি পাকিস্তানের মাটিতে।সাধারণ কম বয়স্ক যুবকদের জেহাদি তৈরি করার জন্য তার সুনাম বা বদনাম আছে।ভারত বিদ্বেষী কার্যকলাপে  তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ভারতীয় গুপ্তচর এজেন্সি’ র’এর মতে ২৬/১১ মুম্বাই জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার প্রধান মাথা এই ব্যক্তি।রাষ্ট্রসংঘে আমেরিকা সহ অন্য অনেক দেশই একে অন্যতম জঙ্গির তকমা দিয়ে আছে।ইন্টারপোলের কাছেও এই ব্যক্তি মোস্ট ওয়ান্টেড ।

বিদেশের চাপে পাকিস্থান সরকার তাকে গৃহবন্দি করতে বাধ্য হন।তবে বর্তমানে তিনি মুক্ত অবস্থায় তার ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত আছেন।

ছোটা শাকিল

দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি’  কোম্পানির অন্যতম সক্রিয় সদস্য এই মোস্ট ওয়ান্টেড। তার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে।এছাড়াও টাকা না দিলে শার্প শুটার দিয়ে তাদের হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার।এছাড়াও তাকে মুম্বাই বিস্ফোরণের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী  বলে  ধরা হয়।বর্তমানে তার ঠিকানা পাকিস্থান।তবে অনেকেই মনে করেন ওসামা বিন লাদেনের হত্যার পর সে এখন সৌদি আরবে  আছেন।

মাসুদ আজাহার

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে যেসব জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় ভাবে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের মধ্যে প্রধান জঙ্গি সংগঠন হল  জইস -ই- মহম্মদ।আর এই জঙ্গি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা  ও প্রধান হলেন এই কুখ্যাত পাক নাগরিক।ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে  যে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান IC814 অপহরণ করা হয়েছিল,তাতে অন্যতম প্রধান শর্ত দেওয়া হয় ভারত সরকারের কাছ থেকে এই জঙ্গির মুক্তি।  এই কুখ্যাত জঙ্গিকে ভারত সরকার প্রত্যার্পণ করতে বাধ্য হয় বিমান যাত্রীদের বাঁচিয়ে নিয়ে আসার জন্য।পরবর্তীতে ২০১১ সালে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার প্রধান চক্রী হিসাবে নাম উঠে আসে এই জঙ্গির।বর্তমানে তার ঠিকানা পাকিস্থান।ভারতের মোস্ট ওয়ানন্টেড অপরাধীদের মধ্যে দ্বিতীয়।

দাউদ ইব্রাহিম

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান চক্রী দাউদ ইব্রাহিম যদিও জন্ম সূত্রে একজন ভারতীয়।একজন পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে হয়েও যে কীভাবে জঙ্গি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছিল তা আজও রহস্য।যদিও মুম্বাই বিস্ফোরণের পর তার পাকাপাকি ঠিকানা পাকিস্থান।তবুও পাকিস্থান থেকেই তার কালো জগতের জাল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তার করেছে।এমন কোনো দুনাম্বারী ব্যবসা নেই যে দাউদ ইব্রাহিমের নাম আসে না।যেমন জাল ভারতীয় নোট ছাপিয়ে ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া, নারী চোরাচালান, গয়না, নানা প্রকার মাদকের চোরাচালান সবেতেই  সিদ্ধহস্ত তার কোম্পানি ,অর্থাৎ ‘ডি কোম্পানি’।এছাড়াও নানারকম ভাবে ভয় দেখিয়ে শিল্পপতিদের কাছে টাকা আদায় ,থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেও তার কোম্পানির জুড়ি মেলা ভার।পাকিস্থানে যদিও তিনি একজন শিল্পপতি হিসাবে থাকেন ।তবুও ভারতের চোখে আজও এই ব্যক্তি মোস্ট ওয়ান্টেডদের তালিকায় একদম প্রথম।