ভারতের সেরা ১০টি ভুতুড়ে জায়গা, যেখানে গেলে আর ফিরে আসে না কেউ

Top Haunted Places In India

ভূতে বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, ভূতের গল্প (Ghost Stories) শুনতে কার না মন চায়? তাও যদি সেই গল্প আবার হয় সত্যি ভূতের গল্প? অবশ্য ভূতে বিশ্বাস করা বা না করার সঙ্গে ভূতের গল্পের আমেজ উপভোগ করার কোনও সম্পর্ক নেই। যারা ভূতের উপস্থিতি মানতেও চান না, তারাও ভূতের গল্প শুনতে অথবা ভূতের সিনেমা দেখতে বেশ পছন্দই করেন। এই কারণেই হলিউড হরর মুভির অনুরাগীর সংখ্যা দিন প্রতিদিন বাড়ছে।

কিন্তু সত্যিই যদি আসল ভূতের দর্শন পেতে চান, তার জন্য কিন্তু খুব বেশি দূরে যেতে হবে না আপনাকে। খোদ দেশের মাটিতে বসেই পেয়ে যেতে পারেন “তেনাদের” দেখা। একেবারে আসল ভূত, একটুও নকল নয়! তেনাদের উপদ্রবে ভারতবর্ষের ওই সকল এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। এমনকি প্রশাসনের তরফ থেকেও জায়গাগুলিকে হন্টেড প্লেস (Most Hanted place in India) এর তকমা দেওয়া হয়েছে। জেনে নিন, ভারতের কোন কোন জায়গায় গেলে তেনাদের দেখা মিলবে।

Most Haunted Place in India

ডি’সুজা চল : খোদ মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরের বুকে রয়েছে এই আবাসন। এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, কোন এক সময় ওই এলাকায় এক মহিলা পাত কুয়োতে পড়ে মারা যান। তারপর থেকেই নাকি রাতে তার আত্মা ঘুরে বেড়ায় ওই এলাকায়। এলাকার বাসিন্দারা সেই প্রেতাত্মার উপস্থিতিতে বিশ্বাস রাখেন।

most haunted places in Mumbai

অগ্রসেন কি বাওলি : রাজধানী শহরেও রয়েছে তেনাদের উপদ্রব। দিল্লি শহরের বুকে অগ্রসেন কি বাওলিতে ছুটি কাটাতে আসেন বহু পর্যটক। পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেছেন যে যখন তারা ওই পর্যটনস্থলে আসেন, তখন তাদের মনে হয় কে যেন তাদের অনুসরণ করছে। বড়ই অস্বস্তিকর সেই অনুভূতি।

agrasen-ki-baoli

লম্বি দেহার খনি : উত্তরাখণ্ডের এই খনিতে একসময় খনি বিস্ফোরণের কারণে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, আজও সেই মৃত শ্রমিকদের প্রেতাত্মার আর্তনাদ শোনেন তারা।

জাতিঙ্গা : পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য অসমের জাতিঙ্গা এলাকায় বড়ই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। এই এলাকার উপর দিয়ে যখনই কোনও পাখি উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখনই কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই পাখিদের মৃত্যু হয়। দলে দলে পাখি মৃত অবস্থায় আকাশ থেকে ঝরে পড়ে মাটির বুকে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ভূতের উপদ্রবের কারণেই এমনটা হয়।

দুমা সৈকত : গুজরাট রাজ্যের দুমা সৈকত একসময়ের শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে সেই শ্মশান অবশ্য পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই শ্মশানে যাদের দাহ করা হয়েছে, তাদের প্রেতাত্মা নাকি আজও শ্মশানে ঘুরে বেড়ায়।

ডাউহিল : সমুদ্র থেকে পাহাড়, ভূতেদের উপদ্রব সর্বত্র। পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াংয়ের ডাউহিলকে কেন্দ্র করেও এমনই বিতর্ক রয়েছে। ডাউহিলের দুটি স্কুল এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে প্রচুর ভূতের দেখা মেলে বলে দাবি করেন এলাকার বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে আসে তারা।

বম্বে হাই কোর্ট : তেনাদের উপদ্রব নাকি বম্বে হাইকোর্টেও রয়েছে! বহু আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এই আদালত চত্বরে। তাই মানুষের বিশ্বাস, মৃত আসামিদের অভিশপ্ত প্রেতাত্মারা আজও আদালত চত্বরে ঘুরে বেড়ায়।

রামোজি ফিল্ম সিটি : অবাক হচ্ছেন তো? বলিউডের এই শুটিং চত্বরেও নাকি ভূতের উপদ্রব রয়েছে। আসলে সুলতানি আমলে বহু সেনাকে কবর দেওয়া হয়েছিল ওই অঞ্চলে। সেই সমাধিক্ষেত্রের উপরেই গড়ে উঠেছে রামোজি ফিল্ম সিটি। বিনা কারণেই নাকি এখানে হঠাৎ হঠাৎ আলো নিভে যায়, আয়নার কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে!

কুলধারা গ্রাম : ১৮২৫ সালে গ্রামের বাসিন্দারা হঠাৎই রাতের অন্ধকারে দলবেঁধে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। রাতারাতি সম্পূর্ণ গ্রাম ফাঁকা হয়ে যায়। এরপর থেকেই গ্রামটিকে অভিশপ্ত গ্রামের তকমা দেওয়া হয়।

ভানগড় কেল্লা : ভারতের তথা বিশ্বের সর্বাধিক ভয়ঙ্কর এই স্থান বহু বছর ধরেই অভিশপ্ত। রাজস্থানের ভানগড় কেল্লায় রাতে প্রবেশের অনুমতি ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও দেয় না। শোনা যায় এই কেল্লার রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল এক তান্ত্রিক। তবে তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। তান্ত্রিকের অভিশাপেই নাকি আজও অভিশপ্ত এই কেল্লা। রাতে এখানে কেউ গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না!