গাঁজার নেশায় জর্জরিত টলিউড, অনিন্দ্য থেকে রাহুল তালিকায় একাধিক নাম

মহুয়া রায়চৌধুরী থেকে রাহুল ব্যানার্জী, শুধু বলিউড নয়, গাঁজার নেশায় ডুবে টলিউড, রইলো মাদকাসক্ত তারকাদের তালিকা

Tollywood Drug Addicted Actor and Actress

বলিউড হোক বা টলিউড (Tollywood), তারকাদের সেলিব্রেশনটা এখন শুধু সাধারণ পার্টিতে সীমাবদ্ধ থাকেনা। সেই পার্টিতে অবশ্যই থাকতে হবে মাদক (Drug)। নইলে পার্টিটা যেন ঠিক জমে না! আর তারকাদের এই লাইফস্টাইলই কার্যত তাদের মধ্যে একটু একটু করে বিষের বীজ বপন করছে। এই সমস্যাটা আজকের নয়, বেশ কয়েক দশক আগেই টলিউডে মাদকের প্রচলন শুরু হয়েছে।

একটা সময় ছিল যখন টলিউড তারকারা মানসিক অবসাদের কারণে মাদক নিতেন। যেমন ৭০-৮০ এর দশকের তারকা অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়দের মতো তারকারা মানসিক অবসাদ থেকে মাদক সেবন করতেন। কিন্তু এখন ব্যাপারটা যেন অনেকটা স্টেটাসে এসে দাঁড়িয়েছে।

সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, মহুয়া রায়চৌধুরী

বর্তমান প্রজন্মের তারকাদের লাইফ স্টাইলের সঙ্গে মদের পাশাপাশি জড়িয়ে গিয়েছে গাঁজা, এলএসডি, চরস, হ্যাস! তবে একা একা নয়, হাউসপার্টিতে দলবদ্ধভাবে মাদক সেবনটাও এখন ভীষণভাবে ট্রেন্ড। এইতো সদ্য টলিউডের এক হাউস পার্টিতে নায়িকা বান্ধবীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নায়ক। মদ, গাঁজা ছেড়ে দেদার এমডি সেবনে মেতে উঠেছিলেন দুজনে।

তবে ড্রাগ ওভারডোজের কারণে রাতারাতি হাসপাতালে পৌঁছে যেতে হয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে ভুরি ভুরি। সদ্য টলিউডের এক নায়িকা পেশাগত জীবনে চূড়ান্ত সাফল্য পেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে উঠেছিলেন। ড্রাগ ওভারডোজের কারণে সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল।

টলিউডের অপর আরেক নায়িকার বাড়িতেও নাকি মাঝেমধ্যেই বিশেষ প্যাকেট পৌঁছে যায়। কলকাতার এক গায়ক তো সিগারেট খাওয়ার ভঙ্গিতে দিনভর গাঁজা খেয়ে থাকেন! তার ছেলের কাছেও পাওয়া গিয়েছিল গাঁজা। তখন অস্বস্তিতে পড়েছিলেন তিনি। শুধু কি তাই? টলিউডের দুই বিশিষ্ট গীতিকারের নাকি আবার গাঁজা ছাড়া কলম থেকে গান ঝড়ে না! সুরকারদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম।

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির নায়ক রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি সরাসরি স্বীকার করে নেন ড্রাগ আসক্তির কথা। প্রেসক্রিপশন ড্রাগ দিয়ে শুরু হয়েছিল তার নেশা। ক্রমে নেশা তাকে এমন পেয়ে বসে যে হার্ড ড্রাগ ছাড়া তার চলছিল না। ড্রাগের প্রভাব পড়ছিল তার ব্যক্তিগত জীবন এবং কেরিয়ারের উপর। এমনও হয়েছে যে আজ একজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে কালকেই তার সঙ্গে চরম বাজে ব্যবহার করলেন।

আবার নেশার ঘোরে একই সঙ্গে তিনজনকে শুটিংয়ের ডেট দিয়ে বসেছেন, এমনটাও ঘটেছে রাহুলের সঙ্গে। ড্রাগ তার কেরিয়ার, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের ক্ষতি করেছে।প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষতি করেছে। রাহুলের কথায়, বলিউড তারকারা ড্রাগের নেশায় ডুবে থাকলে পাবলিক রিলেশন সামলান তাদের বেতনভোগী কর্মচারীরা। কিন্তু টলিউডের ক্ষেত্রে সেই সুযোগটা নেই।

রাহুল বলেন, “যখন বুঝতে পারলাম কাজে ক্ষতি হচ্ছে তখন এমন নেশা ছেড়ে বেরোনোর সিদ্ধান্ত নিই। টলিউডে আমার বন্ধুরা প্রযোজক কৌস্তুভ রায়, যীশু সেনগুপ্ত এরা আমাকে সারাক্ষণ অন্য জিনিসের মধ্যে রাখার চেষ্টা চালাতেন। শেষ দশ বছর আমি একেবারে ক্লিন। তবে একটা কথা বলব, নেশায় জড়িয়ে পড়েছেন যিনি, তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়। সে যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে সেটা দেখা জরুরি।”

আরও পড়ুন : হারিয়েই গেছিলাম, বাবা চলে যাওয়ার পর গাঁজা খেতে শুরু করি, ‘দেশের মাটি’ দিয়ে কামব্যাক রাহুলের

অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ও ড্রাগের নেশা থেকে বেরোতে পেরেছেন। তার কথায়, “আট বছর নেশার জগতে থাকার পর বুঝতে পারি না বেরিয়ে এলে মারা যাব। হিরোইনের নেশা ছেড়ে দিই। এখন টলিউডের পার্টিতে যখন যাই দেখি সকলে মদ খাচ্ছেন। কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। তাই আমার কোনও অসুবিধা হয় না।”