বাবার মৃত্যুর পর মাকেও দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলেছি, শ্রীময়ী-রোহিত বিবাহ বিতর্কে মুখ খুললেন ইন্দ্রানী

SREEMOYEE AND ROHIT SEN

নেট মাধ্যমের চর্চার বিষয়বস্তু এখন শ্রীময়ী (Sreemoyee) আর রোহিত সেনের (Rohit Sen) বিয়েতেই আটকে গিয়েছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব পাত্র-পাত্রী সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের অমতে গিয়ে বিয়ে করার যে সাহসী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তাতে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকেই। তবে অনেকেই আবার শ্রীময়ী এবং রোহিতের বিয়ের (Marriage) বিপক্ষে। তারা এই বিবাহের প্রাসঙ্গিকতা অথবা যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।

‘কেন, শ্রীময়ীকে বিয়ে করতেই হত?’ ‘রোহিত সেনের সঙ্গে বন্ধুত্বই তো ভাল ছিল’, ‘সমাজে কুপ্রভাব ফেলবে এই ধারাবাহিক’, ‘অনিন্দ্যর বর্তমানেই তাঁর প্রথম স্ত্রী বিয়ে করছে!’, এহেন একাধিক মন্তব্য করে সমালোচকেরা কার্যত রোহিত-শ্রীময়ীর মিলনের বিপক্ষেই সওয়াল করছেন। এই নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই রোহিত এবং শ্রীময়ী সোশ্যাল মিডিয়ায় এলেন জবাব নিয়ে। আনন্দবাজার অনলাইনের লাইভে এসে রোহিত-শ্রীময়ীর বিয়ে প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ইন্দ্রানী (Indrani Halder) এবং টোটা (Tota Roy Chowdhury)।

SREEMOYEE

পুরুষ যাই করুন না কেন, মহিলাদের দ্বিতীয় বিয়ে যেন আজও এই সমাজ মেনে নিতে পারে না। শ্রীময়ীর মতো হাজার হাজার মহিলারা এই ঘেরাটোপ থেকে বের হতে চান। নতুন ভাবে সংসার পাতার স্বপ্ন দেখেন। তবে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নারীর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা তো দূরের কথা, অপমান, গঞ্জনা, কু-মন্তব্য করতে সদা তৎপর থাকেন নীতি-পুলিশরা। এই নীতিধারীরাই যেন মহিলাদের উপর অলিখিত নিয়ম চাপিয়ে রেখেছেন। সমাজের ‘মর্যাদা’র ভার যেন শুধু মহিলাদের কাঁধেই বর্তায়!

নারীর দ্বিতীয় বিবাহ প্রসঙ্গে শ্রীময়ী অর্থাৎ ইন্দ্রানী হালদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বিয়ে করাটাই একমাত্র উপায় নয়। যদি নিজের ইচ্ছে থাকে, তা হলে সব দিক বিবেচনা করে বিয়ে করা উচিত। আর নয়তো একা থাকা ভাল। নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়াটাই মূল মন্ত্র।’’ ইন্দ্রাণীর কথার সূত্র ধরেই টোটা জানালেন তিনি মনে করেন আসল সমস্যা আসলে সন্তানের মানসিকতার মধ্যে রয়েছে।

নিজের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তি তুলে ধরে টোটা বলেন, এই প্রজন্মের সন্তানরাও মনে করেন বাবা যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন তাহলে ধমক দিয়ে দেওয়া যাবে। তবে মা যেন কিছুতেই দ্বিতীয় বিয়ের কথা না ভাবেন। সারা জীবন একা থেকে যাওয়াটাই মায়ের কর্তব্য বলে মনে করেন সন্তানেরা। টোটা আরও বলেছেন, এই মানসিকতা থেকেই কার্যত আজ বহু মহিলা একা থেকে গিয়েছেন। বহু ক্ষেত্রে এমন দেখা গিয়েছে যে মাকে দেশে একা ফেলে রেখে ছেলে‍-মেয়ে বিদেশে রয়েছে। মাকে দেখার কেউ নেই। এমন চলতে চলতেই কবে যে মায়ের মৃত্যু হয়ে যায়, সেই খবরও কেউ রাখে না।

SREEMOYEE

তবে ইন্দ্রানী মনে করেন, কোনও মহিলা যদি স্বেচ্ছায় একা থাকতে চান, তাহলে তা কিন্তু ভুল নয়। এ প্রসঙ্গে নিজের মায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন বাবার মৃত্যুর পর তিনি মাকে বলেছিলেন, ‘‘মা, তোমার ইচ্ছে হলে কিন্তু বিয়ে করতেই পারো। আমরা কোনও বাধা দেব না।’’ তবে বিয়ে তো দূরের কথা, ইন্দ্রাণীর মা প্রেম করতেও রাজি হননি। কিন্তু পর্দায় শ্রীময়ীকে বিয়ে করতে দেখে ইন্দ্রানীর মায়ের নাকি আবারও বিয়ের শখ জেগেছে মনে!

এ প্রসঙ্গে মজা করে ইন্দ্রানী বলেন, ‘‘তখন বলেছিলাম বিয়ে করতে পারো। কিন্তু শ্রীময়ীর বিয়ে দেখে মায়ের এখন ঘর বাধার শখ জেগেছে। আমি এখন আর রাজি হইনি। কারণ মায়ের সঙ্গে আরও এক বুড়োর দেখাশোনা করা সোজা কথা নাকি!’’ অভিনেত্রীর মতে, ‘‘ধারাবাহিকে এক ধরনের পরিণতি দেখানো হচ্ছে মানে সবার ক্ষেত্রে এটাই হয়, আর কিছু হয় না, তা নয়। কিন্তু অনেকেই নানা রকমের গল্প বানিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, রোহিত অসুস্থ না হলে কি শ্রীময়ী বিয়ে করত অথবা রোহিত যদি মারা যায়, তার পর তো শ্রীময়ী আবার বিধবা হয়ে যাবে, তখন? এ সমস্ত প্রশ্ন করার মানে নেই।’’

ইন্দ্রানী মনে করেন, রোহিত যদি অসুস্থ নাও হতেন, তাহলেও শ্রীময়ী হয়তো তাকে বিয়ে করতেন। তবে এটা কেবল একটা পরিস্থিতি। তাই দর্শকের উদ্দেশ্যে ইন্দ্রাণীর পরামর্শ, ‘‘ধারাবাহিক দেখুন, ভালবাসুন, কিন্তু এটাকেই ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু দ্বিতীয় বার বিয়ে করার ইচ্ছে হলে অবশ্যই করুন। এই গল্পের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সেটাকে বুঝতে হবে।’’