টলি অভিনেত্রীরা পড়াশুনায় কেমন? জেনে নিন সুন্দরীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা

রিল লাইফ থেকে রিয়েল লাইফ রূপে-গুণে তারা সমান পারদর্শী। পর্দায় অভিনেত্রী দের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শকের অভিব্যক্তি এটাই। তারা যেন রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী। তাদের রূপের ঝলক তো আপনি পর্দায় দেখেছেন, কিন্তু জানেন কি এই অভিনেত্রীরা বুদ্ধির দৌড়ে কতটা এগিয়ে? চলুন দেখে নেওয়া যাক

রুক্মিণী মৈত্র

দেবের গার্লফ্রেন্ড হিসেবে বেশ জনপ্রিয়, সম্প্রতি দেবের সঙ্গে বড় পর্দায় পা রেখেছেন। একজন বাঙালি মডেল। তিনি বহু আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্য ও ম্যাগাজিনে শুভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করেছেন।  রুক্মিনি মৈত্র ১৩ বছর বয়সেই মডেলিং -এর সঙ্গে যুক্ত হন।তার প্রতিটি বিজ্ঞাপনের চুক্তির পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সে আঞ্চলীক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু পন্যে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছেন।  রুক্মিনি মৈত্র এসেছেন উচ্চ শিক্ষিত পরিবার থেকে। তার ঠাকুরদা এন.বি. মৈত্র পেশায় একজন আইনজীবি । রুক্মিনি বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন কারমেল কন্ভেট স্কুল থেকে।

  • স্মার্ট এবং সৌন্দর্যে ভরপুর কলেজে ছাত্রী পর এমবিএ করেছেন তিনি।

রিতাভরি চক্রবর্তী

সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বাধিক জনপ্রিয় বাংলা অভিনেত্রী রিতাভরি চক্রবর্তী ধারাবাহিক “ওগো বধূ সুন্দরী” এর নায়িকা হিসাবে টেলিভিশনে  প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি  চলচ্চিত্র নির্মাতা শতরূপা সান্যালের মেয়ে। মায়ের সাথে “এসসিইউডি” নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানি চালান তিনি। তার অভিনীত  ‘নেকেড’ এবং ‘অনু’ জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে বলিউডের ‘পরী’ ছবিতে তিনি কাজ করছেন। বিজ্ঞাপন জগতে তিনি বর্তমান একটি পরিচিত নাম।

  • তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। পড়াশুনা তিনি অত্যন্ত মেধাবী। এইচএস এ তিনি মেধা তালিকায় স্থান দখল করেছিলেন।

নুসরাত জাহান

২০১০ সালে ফেয়ার ওয়ান মিস কলকাতা নামক একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হন নুসরত জাহান। অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে তিনি মডেলিং-এ সুযোগ পান। এরপর তিনি জিতে্‌র বিপরীতে এবং রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় শত্রু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলায় সুপরিচিত হন। বর্তমান তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসর বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বসিরহাট থেকে জয়ী একজন সংসদ। তাঁর প্রথম অভিনীত ছবিটি হল রাজ চক্রবর্তীর শত্রু। এরপর তিনি খোকা 8২০, খিলাড়ি ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন। দেবের বিপরীতে অভিনীত খোকা ৪২০ ছবিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়।

  • কলকাতার ভবানীপুর কলেজ থেকে বিএ পাস করেছেন নুসরাত জাহান।

মিমি চক্রবর্তী

বলা যায় টলিউের এখন প্রথম পজিশনে রয়েছেন মিমি। কারণ তার ঝুলিতে একের পর হিট ছবির রেকর্ড রয়েছে। মিমি ক্যারিয়ার শুরু হয় মডেলিং দিয়ে। টলিউের জনপ্রিয় ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’, ‘বাঙালী বাবু ইংলিশ ম্যাম’ এমন বেশ কিছু হিট ছবির রেকর্ড রয়েছে তার নামের পাশে।

  • আশুতোষ কলেজ থেকে ইংলিশ অনার্স নিয়ে পাস করেন মিমি চক্রবর্তী।

শুভশ্রী গাঙ্গুলী

চ্যালেঞ্জ, খোকা ৪২০সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড ২০১০ জিতে ছিলেন। বর্ধমানের এই অভিনেত্রী অভিনয়ে বেশ পারদর্শী তা সবারই জানা, শিক্ষার দিক দিয়েও তিনি বেশ এগিয়ে৷

  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি কমপ্লিট করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে মাস্টার্স করেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

সায়ন্তিকা তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন নাচ ধুম মাচা লে রিয়েলিটি শো’র মাধ্যমে। এরপরে তিনি টার্গেট, হ্যাংওভার, মনে পড়ে আজও, সেই দিন  ছবিতে অভিনয় করার করেন। তার প্রথম বাণিজিকভাবে সফল চলচ্চিত্র জিতের বিপরীতে অভিনীত আওয়ারা।

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্স নিয়ে মাস্টার্স করেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাওলি দাম

প্রথম দিকে তেমন সাড়া ফেলতে না পারলেও সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস কালবেলা নিয়ে নির্মিত ছবিতে নায়িকা মাধবীলতার ভুমিকায় অভিনয়ের পর। কালবেলা ছবিটি তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। এরপর তিনি একাধিক ছবিতে নানা চরিত্রে অভিনয় করেন। এগুলির মধ্যে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর স্ত্রী সত্যবতীর চরিত্রে পাওলী দামের অভিনয় উল্লেখযোগ্য।

  • বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে কেমিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে কেমিস্ট্রিতে পোস্ট গ্রাজুয়েটও করেন।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

বাংলা ও হিন্দি দুই ভাষার চলচ্চিত্রে বেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী।  বাংলা ধারাবাহিক সাদা পায়রা  দিয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর অভিনয় জীবনের শুরু। তার অভিনীত প্রথম ছবি প্রভাত রায়ের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলা ছবি শ্বেতপাথরের থালা । তিনি ওড়িশি ও মণিপুরী নৃত্যে পারঙ্গমা। তাঁর নিজের ভাবনা আজ ও কাল নামে একটি নাচের দলও আছে। এছাড়া তিনি স্থাপন করেছেন প্রিজম এন্টারটেইনমেন্ট নামে একটি প্রযোজনা সংস্থাও। আনন্দলোক ও বাংলাদেশের হৃদয় পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলামও লিখেছেন। টলিউডের অন্যতম অভিজ্ঞ অভিনেত্রী ধরা হয় ঋতুপর্ণাকে।

  • লেডি ব্রাবোর্ন কলেজের ইতিহাস অনার্স নিয়ে পাশ করেছেন ঋতুপর্ণা।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

অভিনেতা শন্তু মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে স্বস্তিকা প্রথমে টেলিভিশন ধারাবাহিক দেবদাসী অভিনয়ের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি উর্মী চক্রবর্তী পরিচালিত হেমন্তের পাখি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। তার অভিনীত প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান রবি কিনাগী পরিচালিত মাস্তান ছবিতে।

  • বাংলা সিনেমার এই বোল্ড অভিনেত্রী স্বস্তিকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

কোয়েল মল্লিক

রঞ্জিত মল্লিক ও  দীপা মল্লিকের মেয়ে কোয়েল মল্লিক বাংলার অভিনীত্রীদের তালিকায় প্রথম সারিতে অবস্থান করেন।  ২০১৩ তে দীর্ঘসময়ের বন্ধু সুরিন্দার ফিল্মস-এর কর্ণধার নিসপাল সিংহ রানের সঙ্গে  বিয়ে হয়ে তার।

কোয়েল মল্লিকের পর্দায় প্রথম আবির্ভাব নাটের গুরু সিনেমায় অভিনেতা জিতের বিপরীতে। নাটের গুরু বক্স অফিসে খুবই সফল হয়। এই ছবির পর থেকে জিৎ-কোয়েল জুটি প্রায় 11 টি ছবিতে জুটি হিসেবে বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেন।

  • গোখলে মেমোরিয়াল কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স কমপ্লিট করেছেন কোয়েল মল্লিক।

পায়েল সরকার

বাংলা টিন ম্যাগাজিন উনিশ-কুড়ি প্রচ্ছদের এই মডেল ২০০৪ সালে পায়েল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে ডিগ্রী নেন। পাশাপাশি অভিনয়েও বেশ খ্যাতি অর্জন করেন।

  • পায়েল সরকার ইতিহাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন