শুটিং বন্ধ, পেটের দায়ে মাছ বিক্রি করছেন টলিউডের এই অভিনেতা

লকডাউনে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ টলিপাড়া। প্রায় ২ মাস শ্যুটিং বন্ধ থাকার পর কাজ চালু হলেও আপাতত ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে কাজ চলছে। যার ফলে বাদ পড়ছেন অনেক জুনিয়ার অর্টিস্টরা। বন্ধ রয়েছে সিনেমার কাজও। দু' বেলা খাবার জোটাতে মাছ বিক্রির দিকে হাঁটলেন প্রসেনজিতের কো-স্টার!

করোনার (Corona) দরুণ চালু হওয়া লকডাউনে (Lockdown) সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিনেমা জগত। বিগত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে টলিউড (Tollywood) রীতিমতো ধুঁকাচ্ছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে বেশ কয়েকমাস স্টুডিও পাড়ার শুটিং বন্ধ ছিল। চলতি বছরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আবার চোখ রাঙাচ্ছে টলিউডকে। যার জেরে অভিনয় জগতের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্ম জীবন বিপর্যস্ত। সংসার সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য এদের মধ্যে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিতে তাই বাধ্য হয়েছেন।

তাদের মধ্য থেকেই একজন হলেন শ্রীকান্ত মান্না (Srikanta Manna)। টলিউডের বহু ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের মন কেড়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়দের মতো তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করেছেন শ্রীকান্ত। ‘এই পৃথিবী তোমার আমার’, ‘বেগ ফর লাইফ’, ‘রাজকাহিনী’, ‘গ্ল্যামার’ এর মতো বহু সিনেমাতে টলিউডের তাবড় তাবড় শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন ভাগ করে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।

অথচ ভাগ্যের ফেরে বর্তমানে অভিনেতা হয়ে উঠেছেন মাছ বিক্রেতা। নেপথ্যে সেই করোনা, লকডাউন, বেকারত্ব! তাই তো টালিগঞ্জের বাইরে বেরিয়ে বাজারে মাছ বিক্রি করছেন শ্রীকান্ত মান্না। নাট্যমঞ্চে তালা ঝুলতে পারে, স্টুডিও পাড়া বন্ধ থাকতে পারে, সারা রাজ্য তথা দেশ তথা বিশ্ব জুড়ে লকডাউন হতেই পারে। কিন্তু খিদের তো আর লকডাউন হয় না। তাই আজ মাছের বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে মাছের দর-দাম করেই সংসার চালাচ্ছেন শ্রীকান্ত।

Tollywood Actor Srikanta Manna Selling Fish due to Lockdown

তবে তিনি অবশ্য কোনও কাজকে ছোট করে দেখেন না। তার মতে, “শিল্প যেমন মনের খিদে মেটায়, তেমনি আমার পেটের খিদেও মেটায়। এখন রোজগার বন্ধ। তাই মাছ বিক্রি করে পেটের খিদে মেটাতে হচ্ছে। সৎ কাজ। তাই লজ্জা নেই, আফসোস নেই। তাছাড়া আমি তো একা নই। কত মানুষ অসহায়। লড়ছে। আমিও লড়ছি।” তার এই লড়াই দেখে তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। অভিনেত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, “কোনও কাজ ছোট নয় ঠিকই, তবু প্রশ্ন থেকেই যায়। পরিশ্রম করে নিজের সংসার চালাচ্ছেন এই শিল্পী। আপনাকে শ্রদ্ধা জানাই।”

প্রথম প্রথম শ্রীকান্ত যখন মাছের বাজারে মাছ বিক্রি করতে বসেছিলেন তখন নিজের মুখটা সর্বদাই গামছার আড়ালে লুকিয়ে রাখতেন। যাতে তাকে কেউ চিনেনা ফেলেন। আসলে ছবি, ধারাবাহিক, নাটকের মঞ্চ, থিয়েটারে দীর্ঘদিন অভিনয় করার দৌলতে বহু মানুষ তাকে চেনেন। তবে এখন আর নিজেকে আড়াল করে রাখেন না তিনি। তার এই সংগ্রামের সাক্ষী থাকছে নেট মাধ্যম। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার থেকে অনুপ্রেরণাও পাচ্ছেন।

জীবনের ২৫টি বছর তিনি বিখ্যাত নাট্য দল “সংস্তব”এর সঙ্গে জড়িত। তার অভিনীত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ছিপি’ (The Cap) একাধিক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। এই ছবিটিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে সমাজের কাছে এক অভিনব বার্তা দিয়েছিলেন এই অভিনেতা। নিজের সংসার চালাতে মাছের বাজারে বসতে তার কোনও আপত্তি নেই। সৎ পথে উপার্জনটাই তার কাছে বড় কথা। দাদা-বৌদির সংসারে থাকলেও একলা পেটের জন্য কারোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে রাজি নন শ্রীকান্ত।

শ্রীকান্তর এই লড়াইয়ে তার পাশে রয়েছেন তার দাদা-বৌদি। জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তার মোকাবিলা করে অভিনয়কে বাঁচিয়ে রাখতে চান এই অভিনেতা। মাছের ভেড়িতে বসে সারাদিন মাছ বিক্রি করতে করতেই তিনি স্বপ্ন দেখেন, “আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আবার চরিত্র আসবে। আবার শুরু হবে মঞ্চ ও ক্যামেরার সামনে অভিনয়”।