পুজোতে আকর্ষণীয় সেলফি তুলতে চান?  মাথায় রাখুন কয়েকটি টিপস

বর্তমানের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় এক নাম ‘সেলফি’। নিজে নিজে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। একটি ভালো সেলফি আপনাকে ফুটিয়ে তুলবে সবার মাঝে। আর তাই আকর্ষনীয় সেলফি তোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় মেনে চলতে হয়।

আপনি যদি ভালো একটি সেলফি ছবি তুলতে চান তাহলে অবশ্যই ফ্রেমের বিষয়টি বুঝতে হবে। আপনার মোবাইলটিকে ঠিক কোন অ্যাঙ্গেলে ধরলে ফ্রেমটা ঠিকভাবে আসবে তা ভালো করে খেয়াল করে নিন। নিজেকে কতটুকু দেখা চান, সেটাও ভেবেই ক্যামেরা ধরুন। এর জন্য বেশ কয়েকটি অনুশীলন সেলফি তুলে প্র্যাকটিস করে নিন। এরপরে চেষ্টা করুন ভালো একটি সেলফি তোলার।

একেবারে কাছে থেকে কোনো সেলফি তুলতে চাইলে ভালো করে খেয়াল করুন যে আপনার দুটো চোখই ফ্রেমের মাঝে আছে কি না। এমনও হতে পারে যে একটি মাত্র চোখ ফ্রেমে আরেকটি ফ্রেমের বাহিরে। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে সেলফি তুলুন।

ফোকাস

ধরুন আপনি আপনার বন্ধুর ছবি তুলছেন যেখানে আপনার বন্ধুর দশ ফিট দূরে একটা গাছ আছে… এখন আপনি ম্যানুয়াল ফোকাসের মাধ্যমে ছবি তোলার সময় যদি আপনার বন্ধুকে ফোকাস করেন তবে বন্ধুর পেছনের সেই গাছটি কিছুটা ঝাপসা (Blur) আসবে যাকে ফটোগ্রাফির ভাষায় ‘বোকেহ’ বলা হয়। আর যদি আপনি গাছটি সিলেক্ট করেন তবে আপনার বন্ধুটি কিছুটা ঝাপসা আসবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ফোকাসের মাধ্যমে আপনি চমৎকার ছবি তুলতে পারবেন।

 

ফ্ল্যাশ নয় প্রাকৃতিক আলো

প্রকৃতপক্ষে ফ্ল্যাশ খুব বেশি উপকারী নয় বা কাজে আসে না, আর যদি আপনি না জানেন যে আসলেই আপনি কিসের ছবি তুলতে চাচ্ছেন বা কি ধরনের ছবি তুলতে যাচ্ছেন তবে সে সব ক্ষেত্রে ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফ্ল্যাশের উজ্জ্বল আলো মূলত একটি কালো স্থানের ছবি তুলতে সক্ষম হয় – কিন্তু আসলেই কি সব সময় এটা খুব প্রয়োজনীয়? কেননা, অধিকাংশ সময়েই আপনি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে ছবি তুললে খুবই খারাপ মানের ছবি পাবেন। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজন না হলে ফ্ল্যাশ বন্ধ করে ছবি তুলুন। আর দিনের বেলায় কিছুটা অন্ধকার স্থানেও আপনি ভালো ছবি তুলতে পারেন ফ্ল্যাশ ছাড়াই। ন্যাটিভ ফ্ল্যাশ ছবি জলিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি ফ্ল্যাশ বন্ধ না করে কম্পিউটারের সাহায্যেই ছবির ব্রাইটনেস কন্ট্রোল করতে পারবেন। তাই, খুব বেশি দরকার না হলে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করবেন না। 3

ফ্রন্ট নয়, রেয়ার ক্যামেরা

যদি সেলফিও তুলতে চান তবে আপনার উচিৎ পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করা, যদিও এভাবে পারফেক্ট সেলফি তোলা কষ্টকর। তবুও মান অনেক অনেক ভালো পাবেন। যদিও এখন বাজারে হাই কোয়ালিটির ফ্রন্ট ক্যামেরা সমৃদ্ধ স্মার্টফোন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তবে তা এখনও রেয়ার ক্যামেরা কোয়ালিটি থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে। এছাড়াও, সেলফি ফোন ব্যানারের সেই ফোনগুলো এখনও সবার হাতে গিয়ে পৌছায়নি। এবং পৌছলেও ব্যবহারকারীরা এর কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।

এক্সপ্রেশন

সেলফি তোলার সময়ে এক্সপ্রেশনটি দারুণ এবং বেশ কিছুক্ষণ এক্সপ্রেশনটি ধরে রাখার চেষ্টা করুন। না হলে ছবিটি নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে হয় আপনার চোখ বন্ধ হয়ে আসবে নয়তো ছবিটি ঝাপসা হয়ে যাবে। এক্সপ্রেশন স্থির রেখে ছবি তুলতে পারাটাই সেলফির প্রথম উদ্দেশ্য।

হেয়ার স্টাইল

সেলফি ভালো হওয়ার পেছনে একটি মূল কারণ হল আপনার হেয়ার স্টাইলটি। এর জন্য আপনার হেয়ার স্টাইলটি মুখের সাথে মানিয়ে সেট করুন এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে সেলফি তুলে দেখুন কোনদিকে ছবিটি ভালো আসছে। পরে সেদিকে সেলফিটি ভালোভাবে তুলুন।

লাইট

সেলফি ভালো হওয়ার পেছনে আরেকটি মূল কারণ হল লাইট। আপনি যদি লাইটের আলোকে পেছনে রেখে ছবি তোলেন তাহলে সেলফিটি কালো আসবে। এর জন্য আলোর দিকে মুখ ফিরিয়ে মুখে লাইট নিয়ে সেলফিটি তুলুন তাহলে সেলফিটি অনেক পরিষ্কার আর ভালো আসবে।

ছবিতে মোটা বা পাতলা যেভাবে দেখাবেন

যারা মোটা বা মুখ বড়, তারা ক্যামেরা উপরের দিকে তুলে মুখটা উঁচু করে ধরুন, তারপর ছবি তুলুন। আর যারা পাতলা তারা ক্যামেরা নিচে ধরুন একটু। এতে মোটা দেখাবে।

যেটা মাথায় রাখতে হবে

কখনই একেবারে সোজা থেকে ছবিটি তুলবেন না। এর জন্য মুখের যেকোনো একটি সাইড বাছাই করুন। একটি গালের অংশকে প্রাধান্য দিন। এক্ষেত্রে চিবুকটিকে একটু নিচু করুন। একদম সোজা তুললে সেলফি না, পাসপোর্ট সাইজ ছবি মনে হবে।

চোখ ও ঠোঁট

সেলফি ছবি তোলার সময়ে চোখটাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিন। কেননা সেলফির আকর্ষণীয় অংশই হল চোখজোড়া। তাই চোখের সাজটা যেন আকর্ষণীয় হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। এক্ষেত্রে মাশকারা এবং আইলাইনারের যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন। ছেলেরা আই লেন্সও ব্যবহার করতে পারেন। যারা চশ্মা পড়েন তারা দেখুন চশমাটা বাঁকা হয়ে নেই তো? করতে পারেন চশমা নিয়েই নানান ভঙ্গিমা।

মেয়েরা ভালো সেলফি তোলার সময়ে লিপস্টিকের দিকটিও খেয়াল রাখা দরকার। ব্রাইট কালারের যেকোনো লিপস্টিক সেলফিটিকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করে তুলতে সহায়ক।

হালকা হাসি

সেলফিটি যেহেতু অনেক বেশি কাছ থেকে তোলা হয় তাই দাঁত বের করে ছবি তোলাকে এড়িয়ে চলুন। এক্ষেত্রে মুখ বন্ধ করে হালকা হাসি দিয়ে ছবিটি তোলার চেষ্টা করুন।

জুম করবেন না

স্মার্টফোনের ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় অবশ্যই যতটা সম্ভব জুম ব্যবহার করবেন না। ডিজিটাল জুমে সমস্যা কি? অপটিক্যাল জুমে ফিজিক্যাল লেন্স ব্যবহার করা হয় যা ম্যাগনিফাই-এর জন্য মুভ করতে সক্ষম। কিন্তু ডিজিটালে তা সম্ভব হয়না কেননা এতে কোন প্রকার মুভিং ফিজিক্যাল লেন্স থাকে না। বরং ডিজিটাল জুম অনেকটা ক্রপ করার মতই। আমরা একটি ছবি তুলে যেমন সেই ছবিটার একটি অংশ মাঝে মাঝে ক্রপ করি ঠিক সেরকমটাই ডিজিটাল জুম করার অর্থ হচ্ছে ছবি তোলার আগে ক্রপ করে নেয়া! এতে করে ছবির ডিটেইলস হারিয়ে যায়। এর চাইতে বরং অবজেক্টের যতটা সম্ভব কাছে গিয়ে ছবি তোলা উচিৎ।

মাথায় রাখুন

  • যদি আপনি নারী হন তবে আপনার মুখায়বয়ব ছবির ফ্রেমের এক তৃতীয়াংশ জুড়ে থাকতে হবে।
  • আবার আপনার কপালের কিছু অংশ ফ্রেমের বাইরে থাকবে।
  • চুল ছেড়ে দিতে হবে (লম্বা চুল হলে এক্ষেত্রে ভালো)।
  • আপনার মুখভঙ্গি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করুন।
  • অবশ্যই সোজাসুজি ছবি না নিয়ে কোনো একটি অ্যাঙ্গেল হতে সেলফি নিন।
  • ছেলেদের চুলের স্টাইলের দিকে আপনাকে নজর দিতে হবে।
  • ছেলেদের পেছন দিকে আঁচড়ানো চুল বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
  • সেইসঙ্গে অবশ্যই সুন্দর মুখভঙ্গি থাকা জরুরি।