ফের ধেয়ে এলো কালবৈশাখী, লন্ডভন্ড কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ

461

বসন্ত পড়তেই কালবৈশাখীর দাপট শুরু হয়েছিল এবার। চৈত্রের শুরুতে সপ্তাহকালের মধ্যেই দুবার কালবৈশাখী হয়ে গেল। রবিবার দক্ষিণবঙ্গজুড়ে কালাবৈশাখী দাপট দেখায়। বিকেলেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, মুহূর্তেই ঝড় বয়ে যায়, সঙ্গে দোসর ছিল শিলাবৃষ্টি। খাস কলকাতার বুকে শিলাবৃষ্টির দেখা মেলে রবিবার।

এর ঠিক পাঁচদিন পর শুক্রবার কালবৈশাখীর পূর্বাভাস গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। বাকি দক্ষিণবঙ্গজুড়়ে অবশ্য দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ঝড়-বৃষ্টি। আর সন্ধ্যার ঠিক আগে কালবৈশাখী শুরু হতে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। বাঁকুড়া, বীরভূমের পর সন্ধ্যায় হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সঙ্গে জলীয় বাষ্পের মিশেলে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়ে ঝড়বৃষ্টি যে হতে পারে, সেটার পূর্বাভাস আগেই দেওয়া ছিল। সেইমতো, শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পুরুলিয়ার ওপরে মেঘপুঞ্জ তৈরি হতে শুরু করে। সেই মেঘই বিকেল সওয়া পাঁচটা নাগাদ কলকাতার দিকে চলে আসে। শুরু হয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৮ কিমি।

অল্প সময়ের ঝড় হলেও কিছু দুর্যোগের ছবি ধরা পড়েছে শহরে। বিবাদি বাগ-সহ বেশ কিছু অঞ্চলে গাছ পড়ে গিয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিয়ালদা মেন শাখায় ট্রেন চলাচল।

কলকাতার পাশাপাশি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমানের বেশ কিছু অঞ্চলেও এ দিন তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী। শনিবারও বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগামী দিনে পারদ ক্রমশ বাড়বে বলেই জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কলকাতা সহ-দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়ায় কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে। কোনও কোনও এলাকায়  বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও আবার ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

Loading...