আইপিএলে টিম মালিকেরা কীভাবে রোজগার করে

ইন্ডিয়া টুডে আইপিএলের নামকরণ করেছিল, ‘ইন্ডিয়ান পয়সা লিগ’। নামটা বাঁকা শোনালেও সময়ের বিচারে এর চেয়ে সঠিক নামকরণ আর হতে পারত না। এ আসর আসলেই পয়সার। ক্রিকেট খেলাটা এখানে একেবারেই গৌণ। ভারতের বিশাল বাজারের হিসাবে আইপিএলে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই বিভিন্ন সূত্র থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।

প্রতিটি দলেরই দশের অধিক প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। শাহরুখ খান, প্রীতি জিন্টা, শিল্পারা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে নিজেদের দলকে উত্সাহিত করেন, সেটা কেবলই দলের জন্য টান? না। এর আড়ালে রয়েছে, স্পন্সরদের উত্সাহিত করে টু-পাইস কামিয়ে নেওয়ার ধান্দাও। এই উদ্দেশ্য হাসিলে তাঁরা পুরোপুরি সফল।

কিন্তু কখনো ভেবেছেন কী আইপিএলে টিম মালিকরা কীভাবে আয় করেন? কোন কোন সূত্র থেকে টিম বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা? আজকের প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করবো আইপিএলে টিম মালিকেরা কীভাবে রোজগার করে সেই সম্পর্কে।

১) বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়। নামীদামি কোম্পানি প্লেয়ারদের জার্সিতে ব্যবহার করে নিজেদের লোগো। এতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে দর্শকের নজরে আসা যায় সহজেই। কামানিও হয় সবচেয়ে বেশি।

 ২) ম্যাচের টিকিট

এমন সফল টুর্নামেন্টের অনুরাগী দর্শক সংখ্যা যে বিশাল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই বাড়িতে আয়েস করে টিভি-তে খেলা দেখার মজা নিলেও মাঠের রোমাঞ্চ নিতে চান সবাই। কোনও ম্যাচের সাক্ষী থাকার সঙ্গে প্রিয় খেলোয়াড়দের নিজের চোখে দেখার তৃপ্তি তো আছেই। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা হয়ে যেতে পারে প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গেও। তাই মাঠের তুলনা মাঠ নিজে।

৩) মিডিয়া স্বত্ব

চ্যানেলকে খেলা দেখানোর জন্য অনুমতি নিতে হয় বিসিসিআই-য়ের (BCCI) কাছ থেকে। অনুমতি মিললে সরাসরি সম্প্রচার করা যায় খেলা। এই অনুমতি বা স্বত্ব বিক্রি হয় বিশাল টাকায়। সম্প্রচার স্বত্বে এখন ভারতীয় বোর্ড তুঙ্গে।  এতদিন আইপিএল (IPL) সম্প্রচার করতো চ্যানেল সোনি ভারত যার গত ১০বছরে চুক্তিমূল্য ছিলো ৮২০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে ৫ বছরের জন্য সম্প্রচারস্বত্ব কিনে নিয়ে নিয়েছে স্টার স্পোর্টস (STAR SPORTS)। তাদের চুক্তি ফি ১৬,৩৪৭.৫০ কোটি টাকা।  প্রতি ম্যাচের জন্য তারা আইপিএলকে ৫৫ কোটি টাকা দিচ্ছে অর্থাৎ বছরে ৩২৭০ কোটি টাকা। বিসিসিআই (BCCI) নিজের লভ্যাংশ কেটে নিয়ে বাকি টাকা দিয়ে দেয় বিভিন্ন টিমকে। অর্থাৎ বাকি টাকা ঢোকে টিম মালিকের পকেটে।

৪) ব্র্যান্ড ভ্যালু

বিভিন্ন টিমের মালিক নিজেরাই তারকা। যেমন নাইট রাইডার্সের শাহরুখ কিংবা কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (Kings XI Punjab) প্রিতী জিন্টা। মালিকদের দেখতেই ভিড় লেগে যায়। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা উৎসাহের সঙ্গে টাকা ঢালে এই সিরিজে।

৫। জেতার টাকা

সিরিজ জয়ী কিংবা রানার্স আপ টিমের জন্য থাকে বিশাল অঙ্কের টাকার পুরস্কার। যেটা মালিকদের পকেটেই যায়।

৬) জার্সি, টুপি, প্ল্যাকার্ড বিক্রি

প্রতি বছর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে আইপিএলের মার্চেন্ডাইজ (IPL Merchandise) রেট। বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ। টিম মালিকেরা তাঁদের দলের  জার্সি, টুপি বিক্রি করেন। এইসব কিনে প্রিয় টিমের স্মৃতি হিসাবে রেখে দেয় অনেক অনুরাগীই। এখান থেকেও টিম মালিকেরা মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে নেন এক মাসেই।