এলপিজি গ্যাস সম্বন্ধে এই তথ্য গুলি কি আপনি জানেন?

রান্না করতে গিয়ে তীব্র গ্যাস সংকট এখন প্রতিদিনের সমস্যা। গ্যাস সংকট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন এলপি গ্যাসের দিকে। এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডার শুধু বাড়িতে কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে নয়, বর্তমানে যানবাহনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। আমারা সাধারণমানুষ শুধু রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার ছাড়া এই গ্যাস সম্পর্কিত অনেক তথ্যই  জানিনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কি কি।

LPG Cylinder
Source

সিলিন্ডারের রং লাল হয় কেন ?

এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার সাধারণত লাল হয়, কারণ একটাই লাল রং মানুষকে আকর্ষন করে বেশি। তাই অনেক দূর থেকেও দেখা যায় লাল রংটি। আসলে রাস্তা দিয়ে এলপপিজি গ্যাসের গাড়ি যখন যায় তার জন্য যাতে না বিপদ ঘটে তাই অন্যান্য যানবাহনকে সরে যেতে নির্দেশ করে এই লাল রং।

LPG Gas Smell
Source

এলপিজি গ্যাসে গন্ধ হয় কেন?

রান্নার পর বা গ্যাস সিলিন্ডারের মুখোমুখি  থাকলে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি রান্নার পর ঘর বন্ধ রাখলে সেই গন্ধ আরও তীব্র ভাবে পাওয়া যায়। আসলে গ্যাস ভরার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ইথিল মারক্যাপ্টন নামে একটি গন্ধক ইচ্ছাকৃতভাবে মেশানো হয়, যাতে কোনওভাবে ওই গ্যাস লিক হলে যাতে গন্ধের দ্বারা তা বোঝা যায়। এতে বিপদ এড়ানো যায়।

আরও পড়ুন্ : রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে আর কতটা গ্যাস বেঁচে আছে বুঝবেন কীভাবে

সিলিন্ডারের নীচে গর্ত থাকার কারণ কি?
Source

সিলিন্ডারের নীচে গর্ত থাকার কারণ কি?

গ্যাসের সিলিন্ডারের নীচের দিকে ফাঁকা জায়গা থাকে বা গর্ত থাকে। আসলে সিলিন্ডারের নীচে জঞ্জাল জমলে যাতে তা বোঝা যায়। এছাড়াও রান্না ঘরের মেঝেতে পরিস্কার করার সময় বা অন্যান্য কারণে জল পরে গেলে যাতে সিলিন্ডারের কোনও ক্ষতি না হয় সে কারণেও থাকে ওই গর্ত।

এলপিজি কি ?

এলপিজি-র পুরো কথা হল লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। এই এলপিজি আসলে হাইড্রোকার্বন গ্যাসের জ্বলন্ত মিশ্রণ। যা রান্নার পাশাপাশি যানবহনের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এলপিজির ওজন?

এলপিজি সিলিন্ডারের ওজন ১৫.৩ কেজি। সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমান থাকে ১৪.২ কেজি। তাই গ্যাস ও সিলিন্ডারের ওজন মিলিয়ে একটি ভর্তি সিলিন্ডারের ওজন হয় মোট ২৯.৫ কেজি। তবে সব ক্ষেত্রেই এই ওজন নির্ভর করে প্রস্তুতকারক সংস্থার ওপর।

আরও পড়ুন : রান্নাঘরে গ্যাস লিক করলে কী করবেন? জানুন ৯টি সহজ উপায়

গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে লেখা নম্বর গুলির মানে কি ?

গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে লেখা নম্বর গুলির মানে কি ?

এলপিজি সিলিন্ডারের একটি ধাতুর স্ট্রিপগুলি পাওয়া যায় যা উপরের রিং (হ্যান্ডেল) থেকে সিলিন্ডারের শরীরকে সংযুক্ত করে,এটি স্ট্রিপগুলির ভিতরের দিকে সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষের তারিখটি উল্লিখিত থাকে। সেখানে যে কোন সংখ্যার সঙ্গে ইংরাজি বর্ণমালার এ,বি,সি অথবা ডি (A,B,C,D) বর্ণটি থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটি বোঝা খুবই সহজ ব্যাপার। ইংরাজি বর্ণমালার এ,বি,সি অথবা ডি (A,B,C,D) বর্ণটি মেয়াদপূর্তির মাস বঝায়, আর বাকি সংখ্যাটি মেয়াদপূর্তির বছর নির্দেশ করে।একটি উদাহারন দেওয়া হল- B19 -এখানে (B)-বর্ণটির মানে মাস বোঝাচ্ছে, আর সংখ্যাটির (19) মানে বছরকে বোঝাচ্ছে।

একটি বছর চার ভাগে বিভক্ত করা হয় –

A –জানুয়ারি থেকে মার্চ (January to March)lpg gas cylinder expiry date bangla tech news
B –এপ্রিল থেকে জুন (April to June)
C –জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (July to September)
D – অক্টবর থেকে ডিসেম্বর (October to December
উদাহরণস্বরূপ ধরুন, আপনার সিলিন্ডারটিতে ‘A 18’ সংখ্যাটি লেখা আছে। বর্ণমালারটি অর্থাৎ বর্ণটি ‘A’ জানুয়ারি থেকে মার্চ কে নির্দেশ করেছে, এবং 18 বছর 2018 কে ইঙ্গিত করছে। তা্রছ A18 লেখা আছে এমন একটি নম্বরের সিলিন্ডার এর মানে এটি জানুয়ারি থেকে মার্চ 2018 সালে এর মেয়াদ শেষ হবে। তবে, সিলিন্ডার হিসাবে মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার মাস সীমিত grace period আছে প্রচলন থেকে অবিলম্বে টানা আউট করা যাবে না। রিপোর্ট আছে যে পরিবেশকদের মেয়াদ শেষের তারিখের সাথে ছিন্নমূল হিসাবে এটি পেইন্ট সঙ্গে লেখা হয়। তাই পরের বার  আপনি যখন সিলিন্ডার নেবেন তখন অবশ্যই সেটি যাচাই করে নেবেন।