মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই ১০টি পদক্ষেপ হারিয়ে দিল বিজেপিকে

331

একুশের লড়াই শেষে বাংলায় “মমতা সাইক্লোন” উঠলো! যে ঝড়ে কার্যত বিধ্বস্ত গেরুয়া শিবির। মমতার সঙ্গে প্রেস্টিজ ফাইটে হেরে গেল বঙ্গ বিজেপি শিবির। ২৯৪ টি আসনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ২১৬ টি আসন লাভ করে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির রাজ্য দখলের স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল।

একুশের লড়াই শুরু হওয়ার আগে মমতা ব্যানার্জির “দুয়ারে দুয়ারে সরকার”‌ পরিকল্পনাটি তার হয়ে মাস্টার স্ট্রোক হিসেবে কাজ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ছিল তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। যে প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যের গণ্ডি, পেরিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে, আন্তর্জাতিক মহলেও সাড়া ফেলে দেয় মমতা সরকারের এই প্রকল্পগুলি। যার দরুণ আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিশেষভাবে সম্মানিত হন তিনি।

এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের তালিকাটি বৃহৎ। তার মধ্যে কয়েকটি হল :-

১. কন্যাশ্রী প্রকল্প : বাংলার মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য মমতা সরকারের বিশেষ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রকল্প হল কন্যাশ্রী প্রকল্প। রাজ্যের প্রায় ৬৬ লক্ষ ছাত্রী রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা থেকে উপকৃত হন। এই খাতে রাজ্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় ১৫০০ কোটি টাকা।

২. ঐক্যশ্রী প্রকল্প : সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য মমতা সরকারের বিশেষ বৃত্তিমূলক প্রকল্প হল ঐক্যশ্রী। বিগত ৮ বছরে এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের অন্তত ২ কোটি ৩ লক্ষ পড়ুয়া উপকৃত হয়েছেন। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের রিপোর্ট অনুসারে ঐক্যশ্রী প্রকল্পের খাতে মমতা সরকারের বার্ষিক ব্যয় ৪০৫ কোটি টাকা।

৩. রুপশ্রী প্রকল্প : বাংলার দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের বিবাহের জন্য রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এককালীন ২৫ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। এই খাতে রাজ্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৫০০ কোটি টাকা। রাজ্যের প্রায় ৬ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন।

৪. শিক্ষাশ্রী প্রকল্প : রাজ্যের এসসি/এসটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তিমূলক প্রকল্প হল শিক্ষাশ্রী। এই প্রকল্প খাতে মমতা সরকারের বার্ষিক ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। রাজ্যের প্রায় ১১ লক্ষ্য পড়ুয়া এই প্রকল্প থেকে বিশেষ সুবিধা পান।

আরও পড়ুন : Online-এ Apply করুন Swasthya Sathi Card, পান ৫ লাখ টাকার বিমার সুবিধা

৫. খাদ্য সাথী প্রকল্প : রাজ্যের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে সরকারি ভর্তুকিতে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের দরুন বার্ষিক ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।

৬. স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প : অন্যসব প্রকল্পকে ছাপিয়ে গিয়ে একুশের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টার স্ট্রোক হিসেবে কাজ করেছে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের উদারীকরণ নীতি। রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পেরেছেন। রাজ্য সরকার এই খাতে বার্ষিক ২০০০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করেছে।

আরও পড়ুন : মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ৫ টি গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প

৭. জয় জোহার এবং তপশিলি বন্ধু প্রকল্প : তপশিলি জাতি এবং উপজাতি ভুক্ত মানুষদের জন্য বিশেষ পেনশন ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জন্য এই খাতে বার্ষিক ৩০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মমতা সরকার।

৮. ১০০ দিনের কাজ : গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৩০ কোটি বেকারকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে কাজ দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাবদ বার্ষিক মোট ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন : এই ৫টি কারণে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে জিতলেন শুভেন্দু অধিকারী

৯. কৃষক বন্ধু প্রকল্প : রাজ্যের কৃষকদের জন্য এই বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকেরা ৫০০০ টাকা পাবেন। একই সঙ্গে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জীবন বিমা পাবেন। রাজ্যের প্রায় ৪১ লক্ষ কৃষকের জন্য এই বাবদ ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন : এই ১০টি কারণে তৃণমূলকে হারাতে পারলো না বিজেপি

১০. পড়ুয়াদের জন্য স্মার্টফোন কেনার টাকা : করোনা আবহে স্কুল-কলেজ বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস চালু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পড়ুয়াদের কাছে স্মার্টফোন না থাকার দরুন তারা বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রায় ১৪ হাজার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল এবং সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত ৬৩৬টি মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের স্মার্টফোন কেনার জন্য ‌১০ হাজার টাকা অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। গোটা দেশ তথা বিশ্বেও এমন উদ্যোগ আগে কোনও প্রশাসন গ্রহণ করেনি।