শ্বশুরবাড়ি থেকে দূর দূর করে তাড়িয়েছে, পর্দার ‘সংস্কারী’ বউমাদের কপালে বাস্তবে স্বামীসুখ জোটেনি

স্বামীর অত্যাচারে বিয়ে ভেঙেছে, সিরিয়ালের এই ৮ সুন্দরীর কপালে স্বামীসুখ জোটেনি

গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের জীবন যাপন দেখলে সাধারণের হিংসে হয় বৈকি। বলিউডের পাশাপাশি হিন্দি টেলিভিশনের নায়িকাদের সাফল্য, ধনসম্পত্তি, জীবন সবটাই দূর থেকে অনেক বেশি ঝলমলে দেখায়। তবে বাস্তব জীবনে তারা সকলেই যে সুখী এমনটা নয়। টেলিভিশনের পর্দায় যাদেরকে আদর্শ বউমা, আদর্শ স্ত্রী হিসেবে দেখানো হয় বাস্তবে তাদের সংসার সুখের হয়নি। এদের মধ্যে অনেকেই গার্হস্থ হিংসার শিকার হয়েছেন। আজ এই প্রতিবেদনে রইল সেই সমস্ত অভিনেত্রীদের (Hindi Telivision Actress) সম্পর্কিত কিছু অজানা কথা।

রশ্মি দেশাই (Rashami Desai) : হিন্দি টেলিভিশনের এই অভিনেত্রী ২০১২ সালে নন্দীশ সান্ধুকে বিবাহ করেন। তবে বিয়ের মাত্র ২ বছরের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। রশ্মির অভিযোগ ছিল তিনি গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন বছরের পর বছর তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এরপর তিনি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। এখন প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছেদ নিয়ে সুখে রয়েছেন।

চাহাত খান্না (Chahatt Khanna) : এই অভিনেত্রী ‘বড়ে আচ্ছে লাগতে হে’ সিরিয়ালে অভিনয় করতেন। ২০১৩ সালে ফারহান মির্জাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের পর তিনি স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন। এরপর তিনিও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। চাহাতের অভিযোগ ছিল তিনি যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি আর্থিক এবং মানসিকভাবেও শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন‌‌।

ডিম্পি গাঙ্গুলী (Dimpy Ganguly) : ভারতীয় মডেল তথা অভিনেত্রী ডিম্পি গাঙ্গুলীও বিয়ের পর গার্হস্থ হিংসার শিকার হয়েছিলেন। ২০১০ সালে রাহুল মহাজনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সম্পর্ক মাত্র চার মাসের মধ্যে ভেঙে যায়। ডিম্পি অভিযোগ করেন রাহুল তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ডিম্পি এখন রোহিত রায়ের সঙ্গে বিবাহিত জীবনে সুখী আছেন। রোহিত পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার।

দীপশিখা নাগপাল (Deepshikha Nagpal) : জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপশিখা ‘সোনপরি’তে রুবি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বিগবাসের এই প্রাক্তন প্রতিযোগী অভিনেতা কৈশোর আরোরাকে বিয়ে করেন ২০১২ সালে। তবে বিয়ের পরপরই তাদের মধ্যে সমস্যার সূত্রপাত হয়। শেষমেষ কৈশবের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে হেনস্থা এবং জোর করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন দীপশিখা। তিনি এও বলেন তার স্বামী বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অন্য মহিলাদের সঙ্গে ফ্লার্ট করতেন।

রুচা গুজরাটি (Rucha Gujarathi) : এই হিন্দি টেলিভিশন অভিনেত্রীর বিবাহিত জীবনও সুখের ছিল না। তিনি বেশ কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। ২০১০ সালে ব্যবসায়ী মিতুল সাংভিকে বিয়ে করেন রুচা। বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে তাকে এবং তার বাবাকে আক্রমণ করার অভিযোগ এনেছিলেন রুচা। মিতুলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি আবার বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় বিয়েতে তিনি সুখে রয়েছেন।

দলজিৎ কৌর (Dalljiet Kaur) : ‘কুলবধূ’ ধারাবাহিকে নিয়তি চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন দলজিৎ। ২০০৯ সালে শালিন ভানোটকে বিয়ে করেন দলজিৎ। বিয়ের পর আচমকা একদিন তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তিনি নাকি তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করেন। এরপর ২০১৬ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। এখন অভিনেত্রী তার ছেলেকে নিয়ে আলাদাভাবে সুখে রয়েছেন। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তিনি তার ছেলের দায়িত্ব পালন করেন।

বৈষ্ণবী ধনরাজ (Vaishnavi Dhanraj) : ২০১৬ সালে অভিনেতার নীতিন সেহেরাওয়াতকে বিয়ে করেন বৈষ্ণবী। তবে বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা আলাদা হয়ে যান। পরে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেন নীতিন তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেন। এই সম্পর্কে থাকাকালীন তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। শেষমেষ তিনি আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শ্বেতা তিওয়ারি (Shweta Tiwari) : ১৯৯৮ সালে রাজা চৌধুরীকে বিয়ে করেন শ্বেতা। বিয়ের পর তাদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে রাজা এবং শ্বেতার মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। এতে তাদের ছোট্ট মেয়ের মনের উপর চাপ বাড়ছিল। এই কারণে ৯ বছর পর রাজা সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানেন শ্বেতা। এরপর তিনি অভিনব কোহলিকে বিয়ে করেন। তাদের এক পুত্র সন্তান আছে যার নাম রেয়াংশ। তবে ২০১৭ সালে অভিনবের বিরুদ্ধেও গার্হস্থ হিংসার অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী। ওই বছরই তারা আলাদা হয়ে যান।