শরীরে কোন কোন রোগ থাকলে করোনায় মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি

করোনা ভাইরাসের থেকে এখনও পর্যন্ত লড়াই করে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মারণ ভাইরাসে এখনো পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। রোজই নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪৫ হাজার ২৩১ জন নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যার জেরে দেশে মোট আক্রান্ত হলেন ৮২ লক্ষ ২৯ হাজার ৩১৩ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ৭৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৯৮ জন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন।

এদিকে বাজারে এখনও অবধি এর কোনো ভ্যাকসিন নেই। গবেষকরা রোজই কোভিড ১৯ নানা সমীক্ষা করে চলেছেন। সম্প্রতি এইরকমই কিছু সমীক্ষায় মাধ্যমে জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে তাদেরই মৃত্যুর আশঙ্কা সবথেকে বেশি, যাদের আগের থেকেই কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটা কেস নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। পেন স্টেট কলেজ অফ মেডিসিনের গবেষকরা জানিয়েছেন, শারীরিক সমস্যা যুক্ত কোভিড রোগীদের প্রাণের ভয় থাকে। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া একটি প্রতিবেদনে মোট ৬৫,০০০ করোনারোগীর ওপর পরীক্ষা করে, ২৫টি আলাদা সমীক্ষা করে মোট তিনটি তথ্য উঠে এসেছে।

কোন কোন রোগ থাকলে থাকলে করোনায় মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কিডনির সমস্যা, স্ট্রোক, লিভারের সমস্যা, এইচআইভি/ এইডস, ক্যানসার রোগীদের করোনা আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।

কোন রোগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ভয় কতটা

প্রথমত, কিডনির সমস্যা থাকা কোভিড রোগীদের মৃত্যুর হার সাধারণের তুলনায় তিনগুণ বেশি। দ্বিতীয়ত, হাইপারটেনশন, কার্ডিওভাস্কুলার বা হার্টের সমস্যা ব্যক্তিদের করোনায় মৃত্যুর আশঙ্কা সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। এবং তৃতীয়ত, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসার রোগীদের করোনায় জীবনের ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় দেড় গুণ বেশি।

আরও পড়ুন : করোনা ভাইরাসের দুর্বলতা খুঁজে ফেলল ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন বিজ্ঞানী

করোনায় মৃত ব্যক্তির ফুসফুসে একপ্রকার জেলির মত পদার্থ থাকে। করোনা সবার প্রথমে মানুষের ফুসফুসে আক্রমণ করে থাকে। সুইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আরবান হেলম্যান জানিয়েছেন, ফুসফুসের ভিতরে এই জেলি তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে রোধ করতে পারলেই রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

আরও পড়ুন : কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবথেকে কম, কার বেশি

সুইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আরবান হেলম্যান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে ভাবা শুরু হয়েছে, যাতে ফুসফুসের মধ্যে এই জেলি তৈরির প্রক্রিয়ার গতিকে ধীর করে তোলা যায়।এই জেলি ভেঙে যাতে উৎসেচক তৈরি করা যায়, সেই প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।