সিদ্ধার্থের কাছে ক্ষমা চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে দিলেন একাধিক অভিনেতা

যেকোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক, তবে  টেলিভিশন তারকা সিদ্ধার্থ শুক্লার (Sidharth Shukla) অকাল প্রয়াণ তার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব এবং অনুগামীদের কাছে সবথেকে বড় আঘাত। এই আঘাতের কোনও উপশম নেই। বরং প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধার্থের স্মৃতি আরও বেশি আঘাত হানছে তার অনুরাগীদের। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন নিস্তব্ধতা। এই আঘাত কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন একান্তে সময় কাটানোর কিছু মুহূর্ত, যেখানে নিস্তব্ধতাই একমাত্র শান্তি এনে দিতে পারে।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে শোক প্রকাশ বাহুল্য ছাড়া আর কি? সিদ্ধার্থের মৃত্যুর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলে শোকবার্তা দিতে ব্যস্ত। ছবি, ভিডিও থেকে শুরু করে মিম, ট্রোলের মাধ্যমে সকলেই নিজস্ব মতামত দিতে ব্যস্ত। ঠিক-ভুলের বিচার নেই, ভালো-মন্দের জ্ঞান নেই, সিদ্ধার্থের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক! বেশ কিছু ক্ষেত্রে তো আবার অপ্রয়োজনীয় জ্ঞানে ভরে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া।

সিদ্ধার্থকে নিয়ে এই অহরহ ছবি, ভিডিও পোস্ট করার বাহুল্যতায়, পোশাকি সমবেদনার ভিড়ে বড়ই অস্বস্তিতে ভুগছেন অপর এক টেলিভিশন মডেল তথা অভিনেতা কুশল ট্যান্ডন (Kushal Tandon)। সিদ্ধার্থের মৃত্যুর পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ঝড় বইছে তাতে তিনি বেজায় বিরক্ত। শুক্রবার সকালে নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। নেট মাধ্যমের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, “এই তথাকথিত নেটমাধ্যম থেকে ছুটি নিচ্ছি”।

শুধু তাই নয় বিগত কয়েকদিনে নেট মাধ্যমে যা কিছু চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধার্থ শুক্লার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি। জনৈক সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘লজ্জায় আমাদের মাথা নামিয়ে রাখা উচিত। চারপাশে যা চলছে, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত বিরক্ত।’’ কুশল ট্যান্ডনের মতে, সিদ্ধার্থের মৃত্যুর আড়ালে কিছু সুবিধাবাদী এবং সুযোগসন্ধানী মানুষ খ্যাতিলাভ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এই হীন মানসিকতার চরম নিন্দা করে কুশল বলেছেন, ‘‘যদি আপনারা সত্যিই শ্রদ্ধা জানাতে চান, তা হলে বিদেহী আত্মার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করুন।’’ উল্লেখ্য, সিদ্ধার্থ শুক্লার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও মারফত দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন কুশল ট্যান্ডনও। তার আক্ষেপ ছিল এই যে, মানুষ যখন বেঁচে থাকেন ততদিন তার প্রতি কোনও রকম সহানুভূতি, আবেগ, ভালবাসার প্রদর্শন আমরা করিনা।

আরও পড়ুন : মৃত্যুর আগে সিদ্ধার্থ শুক্লার শেষ পোস্ট, কী লেখা তাতে

তাই সমাজমাধ্যমে নেটিজেনদের প্রতি তার অনুরোধ ছিল, “জীবন অনিত্য… মানুষ যখন আমাদের কাছেই থাকেন তখন তাদের বেশি মনে করুন ও ভালবাসুন, তারা চলে গেলে নয়”। প্রসঙ্গত, কুশল ট্যান্ডন শুধু একা নন, পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল বৈদ্যরাও সোশ্যাল মিডিয়ার উপর বিরক্ত হয়ে একে একে নেটমাধ্যম পরিত্যাগ করেছেন। মাত্র ৪০ বছর বয়সেই সহ-অভিনেতার এমন অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনা তাদের নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে জীবন কতটা অনিশ্চিত। এহেন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার মেকি সমবেদনা প্রকাশের ভঙ্গিতে তারা আরও বেশি বিরক্ত।