একমাত্র ছাত্রকে পড়াতে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন শিক্ষক 

বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র। কয়েকদিন আগেই কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল। এবার প্রকাশ্যে এলো মোদির আচ্ছে দিনের আরও এক নজির। মহারাষ্ট্রের ভোর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ছান্দর। রাস্তা বলে কোনও কিছুই নেই। কেবল লাল মাটির দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। এরকম একটি গ্রামের সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ করেন রজনীকান্ত মেন্ধে।  মাত্র ১ জন ছাত্রকে পড়াতে প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি।

Source

তাঁর একমাত্র ছাত্র ৮ বছরের যুবরাজ সাঙ্গলে। শিক্ষক রজনীকান্ত স্কুলে এসে মাঝে মধ্যেই ছাত্রকে খুঁজতে বের হন। প্রতিদিন পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না যুবরাজের। তাই সে লুকিয়ে পড়ে। রজনীকান্ত খুঁজে-পেতে ছাত্রকে স্কুলে এনে পড়ানো শুরু করেন।

আরো পড়ুন : বাবা মদ্যপ, মা নারকেল বেচে, ছেলে সফল IAS পরীক্ষায়

Source

ছান্দর গ্রামে মোটের উপর ১৫টি বাড়ি। খুব বেশি হলে ৬০ জনের বসবাস। সাপের উপদ্রবে তটস্থ হয়ে থাকেন গ্রামবাসীরা। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেন্ধে বলেন, ‘এক রাতে স্কুলের ছাদ থেকে ঝুপ করে একটা সাপ পড়ল আমার সামনে। কয়েক মাস আগেই আমার বাইকে জড়িয়ে বসে ছিল।’ স্কুলে ইলেক্ট্রিসিটির বালাই নেই। ‘ই লার্নিং ফেসিলিটি’ দূর অস্ত। বছর দুয়েক আগে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে স্কুলে ১২ ভোল্টের সোলার প্যানেলের ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। ছান্দালের বাসিন্দা বাবান সাঙ্গলের কথায়, ‘আমাদের গ্রামে কিছু নেই। রাতে আমরা কেরসিনের লম্ফ জ্বালি।

আরো পড়ুন : চাষ করিয়ে IAS, IPS তৈরি করে গুরুকুল

Source

সৌরবিদ্যুতে রাস্তার আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর থেকে সেটাও খারাপ হয়ে যায়। প্রত্যেকের বাড়িতে একটা করে টিমটিমে বাল্ব জ্বলে।’ কাছের হাসপাতাল ৬৩ কিলোমিটার দূরে। অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নেই। গ্রামবাসীরা বাঁশের স্ট্রেচার তৈরি করেছেন রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এরকমই একটি গ্রামের স্কুলের শিক্ষক রজনীকান্ত মেন্ধে। অনুন্নয়ন আর দারিদ্রতার কারণে স্কুলের ৪০০ ছাত্র ধীরে ধীরে পড়াশোনা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছে। গ্রামে অধিকাংশ মেয়েকে গুজরাটে কাজের জন্য পাঠিয়েছে তাঁদের মা–বাবারা।

আরো পড়ুন : পাঁচ IAS সফলদের জীবনযুদ্ধের কাহিনী যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

Source

গত ৮ বছর ধরে নিজের গ্রাম থেকে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ পেরিয়ে এই গ্রামে পৌঁছন রজনীকান্ত মেন্ধে। জাতীয় সড়ক থেকে পুরোটাই মেঠো রাস্তা পেরোতে নাভিস্বাস ওঠে তাঁর। বর্ষার সময় তো আরও করুণ অবস্থা হয়। এতটাই কাদা হয়ে যায় মাঠে যে গাড়ি চলে না। একমাত্র ছাত্রকে নিয়ে খুশি মাস্টারমশাই। বললেন, ‘স্কুল ওর কাছে চার দেওয়ালে আটকে থাকবে না। ও স্কুলে বন্ধু-বান্ধবের বদলে শুধু আমাকে পেয়েছে। ওর জানার ইচ্ছে আছে। বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে।’

আরো পড়ুন : ৭ জীবনের গল্প প্রমাণ করে, সব সম্ভব

Source

বিজেপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে এই গ্রাম। গ্রামবাসীদের দাবি কোনও দিন তাঁরা সাংসদকে দেখেননি। সরকারি আধিকারিকদের দেখা পাওয়ার তো প্রশ্নই নেই। পোলিও প্রোগ্রামের সময় তাঁদের শেষবার দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
আর ছাত্র যুবরাজ! সরাসরি বলে দিল, ‘আমাদের স্কুল এত দূরে সেকথা স্যর আর আমি দুজনের কেউ বাড়িতে বলিনি। ওরা চিন্তা করবে।’