নেতাজির প্রিয় মহিলা ‘স্পাই’-এর লোমহর্ষক অজানা কাহিনী

628

স্বাধীনতা হওয়া আজ ৭১ বছর হতে চলল। দেশবাসীর মন থেকে হয়তো মুছে গেছে তার স্মৃতি।  হয়ত অনেকেই নাম শোনেননি, কিন্তু নেতাজি ঘনিষ্ঠ এই ‘স্পাই’ ছিলেন এককথায় ব্রিটিশদের আতঙ্ক। ভিয়েতনামে এক বিপ্লবী পরিবারের ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ সরস্বতী রাজামনি।

ছোট থেকেই তার দেশের প্রতি প্রেম ছিল প্রশংসনীয় এবং তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে জাতীয় জনক মহাত্মা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। মহাত্মা গান্ধী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে দেখেছিলেন যে বাড়ির বাগানে বন্দুক চালানোর অনুশীলন করছে ছোট্ট সরস্বতী৷

বড় হওয়ার সময় সরস্বতী কানে আসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের কথা। আর সেই সাথে সুভাষ চন্দ্র বোসের বক্তৃতা শুনে তার দেশপ্রেম তুঙ্গে ওঠে। সরস্বতী রাজমনি নিজের হিরে সোনার গয়না সবকিছু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে অনুদান স্বরূপ তুলে দেন। কিন্তু আপনারা জানলে অবাক হবেন, তার পরের দিন সুভাষচন্দ্র বসু রাজমনির বাড়িতে গিয়ে সমস্ত গয়না ফিরিয়ে দেন এবং সরস্বতী রাজমনি কে আজাদ হিন্দ ফৌজ এর একঅংশ হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। আর তখন থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্যে সরস্বতী রাজমনি কাজ করা শুরু করে দেন। সরস্বতী রাজমনি ছেলের ছদ্মবেশে সে সময়কার ব্রিটিশ শাসক দের বাড়িতে কাজ করতে যেতেন।

১৯৪২ সালে রানী ঝাঁসি বাহিনীতে যোগ দেন সরস্বতী রাজমনি। প্রায় দুবছর ধরে ছেলেদের ছদ্মবেশ ধরে তিনি ও আরো কয়েকজন বাহিনীর জন্য বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করতে থাকেন। একবার তাঁর এক সহকর্মী ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়লে তিনি একজন নর্তকীর বেশ ধরে সোজা হানা দেন ব্রিটিশ ক্যাম্পে। এরপর তিনি ব্রিটিশ অফিসারকে মাদক খাইয়ে তাঁর সেই সহকর্মীকে নিয়ে সেখান থেকে পালান, কিন্তু পালানোর সময় তাঁর একটি পা ব্রিটিশদের গুলিতে মারাত্মকরকমভাবে জখম হয়। এরপর নেতাজির ‘অন্তর্ধান’ পর্যন্ত তিনি বাহিনীর গুরুত্ত্বপূর্ন পদে ছিলেন ও নেতাজির অন্যতম ভরসার পাত্রী ছিলেন।

এছাড়াও তিনি শাসকদের প্রতিটি বৈঠকের খবর গোপনীয়ভাবে সুভাষচন্দ্র বসুর কাছে পৌঁছে দিতেন। এইভাবে তিনি দু’বছর গোপনে আজাদ হিন্দ ফৌজ এর জন্য নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। যদিও পরবর্তী সময় দুর্ভাগ্যবশত তিনি ধরা পড়ে যান এবং ব্রিটিশ সরকারের গুলি খেয়ে তিনি এবং তার ৪ বন্ধু ৩ দিন গাছের উপর লুকিয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন ঃ পিঠে গুলি খেয়ে নেতাজিকে বাঁচিয়েছিলেন কর্নেল নিজ়ামুদ্দিন

আরও পড়ুন ঃ রহস্যময় গুমনামি বাবা-ই কি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ?

২০০৫ সাল নাগাদ খবরে প্রকাশিত তাঁর আর্থিক অবস্থা এমন পরাজয়ে পৌঁছায় যে দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করতেও তিনি অপারক হয়ে পড়েন। এমত অবস্থায় তৎকালীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কুমারী জয়ললিতা তাঁকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ও আজীবন থাকার জন্য একটি বিনা ভাড়ার ঘরের ব্যবস্থা করেন। সময় পেরিয়ে গেছে, স্বাধীনতা পেয়েছে ভারত, কিন্তু সরস্বতী রাজমনি জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গত ১৩ জানুয়ারী তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অমর্ত্যলোকের পথে যাত্রা করেন। ভারতমাতার এই অসামান্য সন্তানের আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

Loading...