ক্রিকেটের এই ১০টি রেকর্ড কোনদিন কারোর পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়

কথায় আছে রেকর্ড নাকি তৈরী করা হয় ভাঙার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু রেকর্ড যে ভাঙা অসম্ভভ তাও অনেকে মানেন। রেকর্ড তো শুধু রেকর্ড নয়, রেকর্ড মানে ইতিহাস। ক্রিকেট, ভারতীয়দের উন্মাদনা, আবেগ ভালোবাসার জায়গা এই ক্রিকেট। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৈরি হয় রেকর্ড, তার মধ্যে রয়েছে ক্রিকেট। এই ক্রিকেটের জন্মলগ্ন থেকে রেকর্ড তৈরি হয় পরবর্তীতে কেও না কেও সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরী করেন। আবার এমন কিছু রেকর্ড রয়ে গিয়েছে যা এখনও পর্যন্ত কেও ভাঙতে পারেননি। এমনকি অনেকে মেনেও নিয়েছেন সেই রেকর্ড ভাঙা একপ্রকার অসম্ভব। ক্রিকেটের দুনিয়ায় এরকম ১০ টি রেকর্ডের কথা জেনে নিন।

১) ডন ব্রাডম্যানের ৯৯.৯৪ টেস্ট ব্যাটিং এভারেজ

ডন ব্রাডম্যান। জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। ক্রিকেটের দুনিয়ায় তাকে সবাই চেনেন ‘দ্য ডন’ হিসেবে। ক্রিকেট জগতের ডন তার গোটা কেরিয়ারে ৮০ টি টেস্ট ইনিংস খেলেছেন। এই ৮০ টি টেস্ট ক্রিকেটে তার রানের গড় ৯৯.৯৪। এবং প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে তার গড় রান ৯৫.১৪। এখনও পর্যন্ত এই রেকর্ড কোনো ক্রিকেটার ভাঙতে পারেননি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডন ব্রাডম্যান ক্রিকেটের দুনিয়ায় বিস্ময়। এখনও পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার ডন ব্রাডম্যানের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি এবং ভবিষ্যতেও ‘দ্য ডন’ এর রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।

২) মুরলীর ১,৩৪৭ আন্তর্জাতিক উইকেট

মুত্তিয়া মুরলীধরন জন্ম শ্রীলঙ্কার কান্ডিতে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সদস্য। তার বোলিং এ মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। আচ্ছা আচ্ছা ক্রিকেটার তার সামনে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেরিয়ার শুরু করে খুব কম সময়ের মধ্যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। টেস্ট ম্যাচে ৮০০ টি উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন। ওয়ানডে ম্যাচে ৫৩৪ টি উইকেট পেয়েছেন। টি টোয়েন্টিতে ১৩ টি উইকেট নিয়ে রেকর্ড তৈরী করেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে মুরলিধরন যে রেকর্ড তৈরী করেছেন তা ভাঙার কোনো সম্ভাবনা নেই।

৩) জ্যাক হবসের ৬১,৭৬০ প্রথম-শ্রেণির রান

জ্যাক হবস জন্মগ্রহন করেন কেম্ব্রিজে। ১৯০৮ সালে ইংল্যন্ডের জাতীয় দলে খেলা শুরু। ১৯০৮ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে মাত্র ৬১টি ম্যাচ খেলেন তিনি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৮৩৪টি, রান তুলেছেন ৬১,৭৬০। যে কারণে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

৪) জিম লাকারের ১৯/৯০ টেস্ট ম্যাচ বোলিং ফিগার

জিম ল্যাকার ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জগতে অভিষেক হয়। ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওল ট্রফোডে অবিস্মরণীয় ইতিহাস তৈরী করেন। অস্ট্রেলিয়ার ২০ টি উইকেটের মধ্যে ১৯টি উইকেট নেন। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৯০ রান করতে পেরেছিলেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে এখনও পর্যন্ত যতগুলি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে এই ম্যাচটি মিরাকেল। এই ম্যাচের রেকর্ড কোনোদিন ভাঙা যাবেনা বলে বিশ্বাস ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন :- ক্রিকেট খেলার পাসাপাসি এই ৭ ক্রিকেটার উচ্চপদস্ত সরকারি অফিসার

৫) উইলফ্রেড রোডসের ৪২০৪ প্রথম-শেণির উইকেট

উইলফ্রেড রোডস। জন্ম যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত মোট ৫৮ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এই টেস্ট ম্যাচগুলিতে মোট ২৩৩৫টি রান করেছেন।

আরও পড়ুন :- অসম্ভব সুন্দরী এই ১০ ক্রিকেটারের বউ হার মানাবে বিশ্বসুন্দরীকে

টেস্ট ম্যাচে ২ হাজার রানের রেকর্ড তৈরী করেছেন। বোলিং ও করতেন অসামান্য তার কেরিয়ারে ১২৭ টি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ৪,২০৪ টি উইকেট নিয়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব। কিন্তু তার এই রেকর্ডটি এখানে আলোচিত নয়। এখানে তার প্রথম-শ্রেণির উইকেট রেকর্ড আলোচ্য বিষয়। প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ৪,২০৪ উইকেট পেয়েছেন।

প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যাই বলে দেয় তিনি দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। তিনি ছিলেন স্লো-বাঁহাতি-স্পিনার। যদিও ওই যুগে তুলনামূলক প্রতিযোগিতা কম ছিল। ফলে রোডস তার এই স্লোয়ার-স্পিন দিয়ে এতো উইকেট পেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগে এটা সত্যিই অসম্ভব।

৬) অস্ট্রেলিয়ার পর পর ১৬ টি টেস্ট ম্যাচে জয়

অস্ট্রেলিয়া দল ব্যাক টু ব্যাক মোট ১৬ টি টেস্ট ম্যাচে জয় লাভ করে। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালে স্টিভ ওয়াহ এর নেতৃত্বে টেস্টে জয়লাভ করে ভারত। এরপর ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রিকি পন্টিং এর নেতৃত্বেও একটানা জলাভ করেছে টেস্ট ক্রিকেটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ১৬ বার কোনো দলের টেস্ট ম্যাচ জেতা চারটি খানি কথা নয়। তাঁদের মতে এই রেকর্ড ভাঙা একেবারেই সোজা বিষয় নয়।

৭) চামিন্দাভাস এর বোলিং রেকর্ড

চামিন্দা ভাস, জন্ম জন্ম শ্রীলঙ্কার ওয়াত্তালা শহরে। শ্রীলঙ্কার হয়ে শুরু করেন ক্রিকেটে কেরিয়ার। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ৪টি উইকেট তুলে নেন। ওই ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৩৫ রান তুলতে পারেন। এরপরই অলয়াউট হয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৪ সালের শ্রীলঙ্কা জিম্বাবোয়ে ম্যাচ এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

৮) একদিনের ম্যাচে গ্রাহাম গুচের ৪৫৬ রান তোলার রেকর্ড

গ্রাহাম গুচ ইংল্যান্ডের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন। ১৯৯০ সালে গ্রাহাম গুচ ৪৫৬ রান তোলেন। বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিলেন গ্রাহাম গুচ।

৯) ফিল সিমন্সের ০.৩ রেট এ ১০ ওভার বলের রেকর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ফিল সিমন্সের। পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ০.৩ রেটিং এ ১০ ওভার বল করেন ফিল সিমন্স। ফিল সিমন্সের এই কীর্তি ইতিহাস তৈরী করে।

১০) ক্রিস গেইলের রান রেকর্ড

ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অধিনায়কত্ব করেন। ২০১৩ সালে আইপিএল এ রয়াল চ্যালেঞ্জার্স এর হয়ে খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে ৬৬ বলে ১৭৫ রান তোলেন গেইল। ক্রিস গেইলের রানের ঝড়ে অবাক হয়ে যান দর্শক।