বাড়ি থেকে কীভাবে সিরিয়ালের শ্যুটিং হচ্ছে, শুনে নিন কলাকুশলীদের মুখেই

Shooting from Home

শুট ফ্রম হোম নিয়ে জল্পনা, বাধা-বিপত্তি, ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের সংগ্রাম পর্ব কাটিয়ে এখন বাড়ি থেকেই বহাল তবিয়তে চলছে শুটিং। কলাকুশলীরা প্রতিদিন ধারাবাহিকের প্রয়োজন মতো দৃশ্য নিজেরাই ক্যামেরাবন্দি করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন এডিটরদের কাছে। নিজেদের সাজগোজ, ঘরের দৃশ্য পরিবর্তন, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল সামলে সংলাপ বলা এবং অভিনয় করার প্রক্রিয়াটি যতটা সহজ বলে মনে হচ্ছে, আদতে কিন্তু বিষয়টা ততটা সহজ নয়।

স্টুডিও পাড়ার টেকনিশিয়ানদের অভাব এখন বাড়িতে থেকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কলাকুশলীরা। সবথেকে সমস্যা হচ্ছে ক্যামেরা সেট করে নিয়ে। উপযুক্ত আলোর ব্যবস্থা করে ক্যামেরা সেট করতে করতেই কার্যত কালঘাম ছুটছে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। শুট ফ্রম হোমের অভিজ্ঞতা কেমন? জানালেন “সৌজন্য”, “রাতুল”, “রাধিকা”, “শ্যামা”, “ডোডো”রা।

“কৃষ্ণকলি” ধারাবাহিকের “শ্যামা” অর্থাৎ তিয়াশা শুটিংয়ের প্রয়োজনে এখন কলকাতার ফ্ল্যাটে একাই রয়েছেন। তাকে সাহায্য করার জন্য কেউ নেই। এদিকে প্রতিদিন ধারাবাহিকের প্রয়োজনে দৃশ্য শ্যুট করে পাঠাতে হচ্ছে তাকে। কিউ দেওয়া, ক্যামেরা সেট করা, দরজা-জানালা সব বন্ধ করে আলো সেট করতে করতেই চলছে অভিনয়। তিনি জানাচ্ছেন, “সাজঘর থেকে আমাদের পোশাক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সব পোশাক আগে কেচে স্যানিটাইজ করেছি। তার পর সেই পরিষ্কার পোশাক পরে আমরা অভিনয় করছি”।

Shooting During Lockdown

“দেশের মাটি”র “ডোডো” অর্থাৎ তথাগত কিন্তু শুট ফ্রম হোম নিয়ে ততটা বিব্রত নন। তিনি নিজে একজন পরিচালক। তাছাড়া বাড়িতে তাকে সাহায্য করার জন্য রয়েছেন তার স্ত্রী দেবলিনা, যিনি নিজেও একজন অভিনেত্রী। তথাগত জানালেন, “আগে চা পানের দৃশ্য গ্রহণের ঠিক আগে কেউ হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিতেন। যাঁদের বাড়িতে দেবলীনার মতো কেউ আছেন, তাঁরা সেই কাজটি করে দিচ্ছেন। না থাকলে একাই করতে হচ্ছে”!

তবে শুটিংয়ের দৃশ্যপট সেট করার জন্য ক্রোমা শটের বন্দোবস্ত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন অভিনেতা। সেক্ষেত্রে পেছনে সবুজ রঙের কাপড় টাঙিয়ে নিয়ে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করলেই হল। এডিটররা সেই দৃশ্যপট নিজেদের পছন্দমতো সেট করে নিতে পারবেন বলে জানালেন তথাগত।

Khorkuto Serial

“খড়কুটো” ধারাবাহিকের “সৌজন্য” অর্থাৎ কৌশিক রায়ও নিজের অসুবিধার কথা তুলে ধরলেন। তবে অভিনেতা জানাচ্ছেন, ‘‘এ ভাবে কাজে আমরা কেউই অভ্যস্ত নই। ফলে, সবারই কিছু না কিছু সমস্যা হবে। আমারও হচ্ছে। এ গুলো মানিয়ে নিয়েই কাজ করছি সবাই। কারণ, ধারাবাহিক চললে কারোর উপার্জন বন্ধ হবে না। কেউ অন্নাভাবেও থাকবেন না। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য”। লকডাউন উঠলে আবারও সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন! এই আশায় বুক বাঁধছেন অভিনেতা।

এদিকে শুট ফ্রম হোম করতে গিয়ে বেজায় বিপাকে পড়েছেন “মিঠাই” ধারাবাহিকের “রাতুল” ওরফে উদয় প্রতাপ সিং। চিত্রনাট্য অনুযায়ী ছাদে দাঁড়িয়ে “রাতুল” এবং “শ্রীতমা”র কথোপকথনের দৃশ্যে বেশ ভালোমতোই তফাৎ ধরা পড়ছে। কারণ উভয়ের আবাসনের দৃশ্যপট আলাদা। আবার নিজের উচ্চতা অনুযায়ী ক্যামেরা সেট করতে গিয়েও কাল ঘাম ছুটছে উদয়ের। তার সঙ্গেই আছে নেটওয়ার্কের সমস্যা। অনলাইনে বড় বড় ভিডিও ফাইল পাঠাতে গিয়েও যথেষ্ট নাজেহাল হতে হচ্ছে তাকে।

এইভাবে শুটিং করতে গিয়ে কার্যত তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছেন “কি করে বলবো তোমায়” ধারাবাহিকের “রাধিকা” ওরফে স্বস্তিকা দত্ত। তিনি জানালেন, ‘‘নিজেই কিউ দিচ্ছি। সংলাপ বলছি। ক্যামেরা সামলাচ্ছি। অভিনয়ও করছি। বাড়িতে কখনও জোরালো আলোর ব্যবস্থা থাকে? সে দিকটাও সামাল দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সত্যিই আমি ল্যাজেগোবরে,’’! তার স্পষ্ট জবাব, বাড়ি থেকে শুটিংয়ের এই চাপ আর নেওয়া যাচ্ছে না।