১৯ বছর ধরে রোজ নদী সাঁতরে স্কুলে যান শিক্ষক, দেখুন ভিডিও

মহম্মদ যদি পর্বতের কাছে না যায়, তবে পর্বতই আসবে মহম্মদের কাছে। যেন এমনটাই পণ করেছেন আবদুল মালিক।
কেরলের মালাপ্পুরমের বাসিন্দা আবদুল। পেশায় স্কুল শিক্ষক। কিন্তু সরকারি অব্যবস্থায় স্কুলে যাওয়ার জন্য নেই কোনও সড়ক। পরিবহণের অপদার্থতায় যানবাহনও অপ্রতুল। কিন্তু আঠারো আনা ইচ্ছে সম্বল আবদুলের। তাতে ভড় করেই সাঁতরে স্কুলে যান তিনি। রোজ, প্রতিদিন।


২০ বছর ধরে প্রতিদিন সাঁতার কেটে সময় মতো স্কুলে পৌঁছনই আবদুলের নিত্যদিনের রুটিন। নিয়ম করে সকাল ন’টায় বাড়ি থেকে বেরোন তিনি৷ পোশাক, জুতো, টিফিন বক্স প্লাস্টিকে জড়িয়ে কাঁধে তুলে নেন৷ একটি টায়ার টিউব কোমরে জড়িয়ে নেন৷ তার পরে দিব্যি সাঁতার কেটে পেরোন নদী৷ নদীর পাড়ে পৌঁছে পোশাক পরিবর্তন করেন৷ তার পরে ধীরে সুস্থে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যান স্কুলে৷

আসলে স্কুল আর বাড়ির মাঝে রয়েছে একটি নদী, কাদালুন্দিপুঝা। তার উপরে কোনও ব্রিজ না থাকার কারণেই অনেকটা ঘুরতে হয় স্থলপথে। এ ভাবে রোজ যেতে সময় নষ্ট হত অনেক। স্কুলে পৌঁছতে দেরিও হত। এক জন শিক্ষক হয়ে নিজেই যদি সময়ের নিয়ম না মানেন, তবে কচিকাঁচাদের কী-ই বা শিক্ষা দেবেন!

এই অপরাধবোধ থেকেই আবদুল ঠিক করলেন, সাঁতরে নদী পেরিয়েই রোজ স্কুলে যাবেন তিনি। ২০ বছর ধরে এমনটাই চলছে। সময় এবং যাতায়াতের খরচও কমেছে। শরীর চর্চাও হয়ে যাচ্ছে রোজ। সব মিলিয়ে খুশিতেই আছেন আবদুল মালিক।